Categories
রাজনীতি

শুভেন্দু অনুগামীদের পোস্টারে ছড়ালো চাঞ্চল্য

ওয়েব ডেস্ক ডিসেম্বর ১৪,২০২০: আমরা চলি দাদার সাথে , কে আমাদের বাঁধবে সোনার চামচ মুখে যাদের কাঁদবে তারা কাঁদবে , দাদার অনুগামী নদিয়া জেলা । কৃষ্ণনগর শহরের প্রাণকেন্দ্র পোস্ট অফিস মোড় সহ বিভিন্ন ব্যস্ততম জায়গায় সোমবার শুভেন্দু অধিকারীর নামে দাদার অনুগামী পোস্টার ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় রাজনৈতিক মহলে। বর্তমান রাজ্যের রাজনীতিতে শিরোনামে জায়গা করে নেওয়া এই দাপুটে তৃণমূল নেতার রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত অবস্থান নিয়ে ইতিমধ্যেই সরগরম রাজ্য রাজনীতির প্রেক্ষাপট। তার ওপর এই দিন সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন প্রান্তে এই ধরনের বিতর্কিত পোস্টার ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এলাকাজুড়ে। এই মুহূর্তে সারা রাজ্যে তৃণমূলের দুয়ারে সরকার কর্মসূচি চলছে। দিনের আলোতে যেইসব তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা রিপোর্ট কার্ড নিয়ে মানুষের দুয়ারে গিয়ে পৌঁছাচ্ছেন, তাঁরাই রাতের অন্ধকারে দাদার অনুগামীর পোস্টার শহরের বুকে লাগাচ্ছেন বলেন বিজেপির যুব মোর্চার নদীয়া সভাপতি সৈকত সরকার। প্রশান্ত কিশোর ও তৃণমূল কংগ্রেসের যুবরাজের প্রতি বিতৃষ্ণার কারণেই আজ তৃণমূল কর্মীরা এই পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে বলে ওই দিন দাবি করেন সৈকত সরকার । পাশাপাশি দলের কর্মী নাই আজ দলের নেতৃত্ব দের মেনে নিতে পারছেন না। পুলিশকে দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয়ে প্রকাশ্যে তারা কিছু করতে না পারলেও রাতের অন্ধকারে তারাই দাদার অনুগামী হয়ে শহরের বুকে পোস্টারিং করছে বলেও এদিন দাবি করেন সৈকত সরকার ।তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়ার সময় চলে এসেছে তারই শুভ প্রকাশ এই দাদার অনুগামী পোস্টার বলেও এই দিন রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে সরাসরি আক্রমণ করেন সৈকত সরকার। এছাড়াও তৃণমূল কংগ্রেসের ফাটল দিনদিন চওড়া হচ্ছে বলে দিন প্রকাশ্যে দাবি করেন বিজেপির জেলা যুব মোর্চার এই নেতৃত্ব। যদিও সৈকত সরকারের দাবিকে সম্পূর্ণভাবে নস্যাৎ করে ও সামাজিক শান্তি বিঘ্নিত করার জন্য পরিকল্পিতভাবে শহরের বুকে দাদার অনুগামী পোস্টারিং করছে বিজেপি বলে এইদিন পাল্টা অভিযোগ করলেন নদিয়া জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র দেবাশীষ রায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার উন্নয়নে বিশ্বাসী শুধুমাত্র তার উদ্যোগেই সারা রাজ্য জুড়ে উন্নয়নের জোয়ার বইছে। কাজের মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই আছেন, দলের কর্মীরা বলে দাবি করেন । কোন নেতা দলে এল বা চলে গেল তাতে তৃণমূল কংগ্রেসে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে নাম না করে শুভেন্দু অধিকারী কে তীব্র আক্রমণ করেন তৃণমূলের মুখপাত্র দেবাশিস রাই । তাছাড়া যেই দলের জেলা সভাপতি কে প্রকাশ্যে কর্মী-সমর্থকরা রাস্তার ওপরে শারীরিক হেনস্থা করে সেই রাজনৈতিক দলকে সাধারণ মানুষ কোনোদিনই সমর্থন করতে পারে না বলে সম্প্রতি কৃষ্ণনগরে বিজেপির সদর দপ্তরে নদীয়া জেলা উত্তরের সভাপতি আশুতোষ বালের ওপর দলীয় কর্মী সমর্থকদের আক্রমণের বিষয়টি তুলে ধরে কটাক্ষ করেন এই তৃণমূল নেতা তথা জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র দেবাশীষ রায়। এইদিন নদীয়ার কৃষ্ণনগর শহর ছাড়াও নদীয়া জেলার বিভিন্ন প্রান্তে শুভেন্দু অধিকারীর দাদার অনুগামী পোস্টারে ছয়লাপ হল লেখার ছন্দে আমরা চলি দাদার সাথে কে আমাদের বাঁধবে , সোনার চামচ মুখে যাদের কাঁদবে তারা কাঁদবে , দাদার অনুগামী নদিয়া জেলা । এমনই পোস্টার পড়ে ছয়লাপ গোটা নদীয়াজেলা জানিয়ে সাধারন জনগনের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে চর্চা বাদ গেল না দেখার বিষয় এখন শুভেন্দু অধিকারী কি তৃণমূল ছাড়বেন নাকি তিনি বিজেপিতে যাবেন কারণ বিজেপির পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে শুভেন্দু অধিকারী যদি দলে আসেন তাঁর দরজা খোলা আছে। নাকি নিজেই তিনি দল গঠন করবেন এখন দেখার বিষয় শেষ হাসি কে হাসে ।

72

Leave a Reply