Categories
রাজনীতি

গ্রেপ্তার সিপিআইএম সদস্যরা,ব্যাপক সাড়া গুজরাটে; অন্ধ্র,তেলেঙ্গানাতেও সম্পূর্ণ সফল বনধ্।

গুজরাট:-কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের কৃষিবিলের বিলের বিরুদ্ধে ডাকা ভারত বন্ধে ব্যাপক সাড়া পড়লো মোদী, অমিত শাহের গুজরাটের সর্বত্র।আজ কৃষকদের ডাকা ভারত বনধের সমর্থনে গুজরাটে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করার সময় একাধিক সিপিআইএম নেতাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।গ্রেপ্তার হওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন সিপিআইএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অরুণ মেহতা, সিপিআইএম ভাবনগর জেলার সম্পাদক অশোক সোমপুরা, আরাবল্লী জেলার সম্পাদক দয়াভাই যাদব, দাহোদ জেলার সম্পাদক কানু কাটারা। এছাড়াও এআইকেএস এবং এআইডিডব্লিউএ-এরব একাধিক নেতাকেও আজ বন্ধের সমর্থনে মিছিল ও সমাবেশ করার জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সকাল থেকেই গুজরাটের একাধিক হাইওয়ে অবরোধ করে বনধ্ সমর্থকরা। আহমেদাবাদ-বিরামগাম যোগাযোগকারী হাইওয়েতে সানন্দের কাছে দীর্ঘক্ষণ টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করার ফলে ব‍্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। ভাদোদরাতেও জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হয়। বারুচ জেলার নন্দেলাবের কাছে বারুচ-দাহেজ সংযোগকারী রাস্তাও অবরোধ করে ধর্মঘটীরা। একাধিক জায়গায় ১১৪ ধারা জারি করেছে রাজ‍্য সরকার। কৃষকদের আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে বন্ধ ছিলরাজ‍্যের এগ্রিকালচার প্রডিউস মার্কেটিং কমিটিও ।

তেলেঙ্গানা:-আজ কৃষকদের ডাকা ভারত বনধের সর্বাত্মক চেহারা চোখে পড়েছে তেলেঙ্গানায়। শাসক দল টিআর এস সমর্থন করায় এদিন রাজ্যে প্রায় সবকিছুই বন্ধ। সকাল থেকেই রাস্তায় নেমে বনধের সমর্থনে প্রচার চালিয়েছেন বামকর্মীরা। পাশাপাশি কংগ্রেস, টিআরএসও বনধের সমর্থনে মিছিল করে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায়।
মঙ্গলবার সকাল থেকে তেলেঙ্গানার সঙ্গে সংযোগকারী সমস্ত হাইওয়ের মুখ অবরুদ্ধ করে রাখেন বনধ সমর্থকরা। কৃষকদের বৃহত মিছিলটি বেরোয় নালগোন্দা জেলায় ।

কৃষকদের ডাকা বনধে তেলেজ্ঞানায় উল্লেখযোগ্য ভাবে অংশ নিতে দেখা গেছে বিভিন্ন আদিবাসী ও মহিলা সংগঠনকে। হায়দারাবাদে এই দুই সংগঠনের পক্ষ থেকে বনধের সমর্থনে এক বিশাল মিছিল শহর পরিক্রমা করে। রাজ্যের নরসিমপেট, সূর্যপেট, করিমনগর, নিজামাবাদ প্রভৃতি শহরে বনধের সমর্থনে মিছিল হয়। গোরুর গাড়ি নিয়ে অভিনব মিছিলটি হয় মহাবুবাবাদে।

প্রশাসনিক সূত্রের খবর অনুসারে তেলেঙ্গানার প্রায় ৯০ শতাংশ সরকারি ও বেসরকারি পরিবহণ স্তব্ধ হয়ে রয়েছে আজকের বনধে।

অন্ধ্রপ্রদেশ:-দিল্লির আন্দোলনরত কৃষকদের ডাকা ভারত বনধে অন্ধ্রপ্রদেশের বহু জায়গায় দোকান পাট বন্ধ রয়েছে। মন্দির শহর তিরুপতিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে মিছিল বের করা হয়। মিছিলে অংশ নেন ছাত্র, যুব, কৃষক সংগঠন এবং মহিলা সংগঠন। শহরের প্রায় সব দোকান এদিন বন্ধ রাখা হয়েছে।

অন্ধ্রপ্রদেশ সিপিআইএম পার্টির সম্পাদক পি মধু এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আজকের বনধ নরেন্দ্র মোদী ও তাঁর সরকারকে হুঁশিয়ারি। বিজেপির বোঝা উচিৎ যতক্ষণ না বিতর্কিত কৃষি আইন প্রত্যাহার করা হবে ততক্ষণ কৃষক আন্দোলন চলবে। যদিও টিডিপি এবং ওয়াইএসআরসিপি বিজেপির কৃষি নীতিকে সমর্থন জানিয়েছিলো কিন্তু এখন কৃষক বিক্ষোভের আঁচ টের পেয়ে পিছু হটছে তারা।

সকাল বেলায় বন্ধের সমর্থনে শ্রীকাকুলাম এবং ভিজিয়ানাগ্রামে কৃষকরা দুটো বড়ো ট্রাক্টর মিছিল বের করে। এছাড়াও সিপিআইএম ও কংগ্রেসের ডাকে রাজামুন্দ্রি, কাকিনাড়া, ভীমাভরমে ও বিজয়াড়াতে অবরোধ করা হয় রাস্তা ।

বিশাখাপত্তনমেও একাধিক বিক্ষোভ মিছিল দেখা গেছে। শহরের গাজুয়াকা শিল্পাঞ্চল সম্পূর্ণ বন্ধ আছে। এছাড়াও কুরনুল, কাডাপ্পা, চিত্তুর এবং অনন্তপুর এলাকায় বনধের সমর্থনে বড়ো মিছিল লক্ষ্য করা যায়।

82

Leave a Reply