ওয়েব ডেস্ক ডিসেম্বর ৩,২০২০:দিল্লিতে চলছে ঐতিহাসিক কৃষক আন্দোলন।অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে রাজধানী।এই শীতেও ধীরে ধীরে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে কৃষক আন্দোলনের আঁচ। দিল্লির অভূতপূর্ব কৃষক আন্দেলনের অন্যতম সহযোগী সংগঠন সারা ভারত কৃষক সভার ডাকে আজ উত্তর দিনাজপুরের কৃষি দপ্তরে ডেপুটেশন দিলো কৃষকরা।ফড়েদের কাছ থেকে ধান কেনার প্রতিবাদে রায়গঞ্জ কৃষি দপ্তরে সিপিএমের কৃষক সংগঠনের নেতৃত্বে বিক্ষোভ সামিল হলেন জেলার ধান কিনতে আসা সাধারণ কৃষকেরা।

সারা ভারত কৃষক সভার উত্তর দিনাজপুর জেলা সম্পাদক উত্তম পালের নেতৃত্বে সংগঠনের পাঁচজন সদস্য আজ কৃষি দপ্তরের ব্লক আধিকারিক তুষার কান্তি সরকারের সাথে দেখা করে তাঁর হাতে তুলে দেন দাবিপত্র।

এদিন বিক্ষোভে অংশগ্রহনকারী কৃষকদের তরফে অভিযোগ করে বলা হয় যে, দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি সহায়ক মূল্যে সাধারণ কৃষকদের ধান বিক্রি করার যে ব্যবস্থা রয়েছে সেই ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে অত্যন্ত কম দামে কৃষকদের থেকে ধান কিনে নিচ্ছে ফড়েরা। তারপর কৃষকদের থেকে কম দামে কেনা সেই ধানই সরকারি সহায়ক মূল্যে খাদ্য দপ্তরে বিক্রি করছে।এখানেই শেষ নয় বিক্ষোভকারী কৃষকদের দাবী, মণ প্রতি ৮ কিলো ধান ধলতা হিসেবে বাদ দেওয়া হচ্ছে। এই সবের প্রতিবাদেই এদিন বিক্ষোভ দেখান কৃষকরা।

কৃষক সভার সম্পাদক উত্তম পাল সাংবাদিকদের বলেন যে, ‘সকলেই জানতে পারছে যে কৃষকরা বর্তমানে তাদের ধান ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করতে পারছেন । কিন্তু প্রকৃতপক্ষে দেখা যাচ্ছে প্রত্যেকটা ধান ক্রয় কেন্দ্রে ফড়েদের দৌলতে ধান বিক্রির ন্যায্য টাকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রান্তিক চাষীরা।‘

কৃষকদের এই দাবি নিয়ে খাদ্য দপ্তরের পারচেজ অফিসার বিবেক বিশ্বাস বলেন, ’২৫শে নভেম্বর ধান বিক্রি করা শুরু হয়েছে। আমি এখন বুঝে উঠতে পারিনি কে ফড়ে আর কে সাধারণ কৃষক। অবশ্যই অভিযোগ খতিয়ে দেখবো।‘

কৃষকদের সমস্যা এবং ফড়েদের দৌরাত্ম্যের সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে বড় আন্দোলনের দিকে গড়াতে পারে কৃষকদের ক্ষোভ। ভোটের মুখে সরকার কতটা দ্রুততার সাথে সমস্যার সমাধান করে সেটাই এখন দেখার।

55