দিল্লিতে চলতে থাকা কৃষক বিক্ষোভের হাত থেকে শহর রায়গঞ্জও মুক্ত থাকতে পারলো না। দিল্লির উত্তাল কৃষক আন্দোলনকে গান গেয়ে, ছবি এঁকে সংহতি জানাল রায়গঞ্জের তরুণ প্রজন্মের শিল্পীদের একাংশ। আজ রায়গঞ্জের ঘড়ি মোরে কৃষক সংগ্রাম সংহতি নামক তরুণ শিল্পীদের মঞ্চের আহ্বাণে গান, আবৃত্তি, ছবি এঁকে রায়গঞ্জের বেশ কিছু তরুণ শিল্পীদের পাশাপাশি তরণী মোহন বিশ্বাস, পিয়ালি চক্রবর্তীর মত বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী, অভিজিৎ সরকার, শিব সংকর উপাধ্যায়, সন্দীপ সরকার প্রমুখ চিত্র শিল্পী তাদের শিল্প কর্মের মাধ্যমে দিল্লির কৃষক আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানান। তবে আজকের এই কৃষক সংহতি অনুষ্ঠানের মুল আকর্ষণ ছিল ‘আগন্তুক’ নামে নবীন সংগীত শিল্পীদের দল। তারা গণ সংগীত ও আধুনিক প্রতিবাদী গান গেয়ে অনুষ্ঠানে অন্য মাত্রা এনে দেয়।

রায়গঞ্জের খ্যাতনামা কবি ও আবৃত্তিকার তাদের লেখা প্রতিবাদী কবিতা পাঠ করেন এদিনের সভায় । পিছিয়ে ছিলেন না চিত্রশিল্পীরাও। তাদের ক্যানভাসও ভরে ওঠে প্রতিবাদী চিত্রকলায় । এদিন ছবি আঁকেন
কৃষক আন্দোলনের স্বপক্ষে যেভাবে রায়গঞ্জের সংস্কৃতিকর্মীরা সংহতি জানালেন তা এক কথায় নজিরবিহীন ও ব্যতিক্রমী।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত ভাষণে রায়গঞ্জের বিশিষ্ট লেখক প্রিয় রঞ্জন পাল বলেন এই শিতের দিনে যখন লাখো কৃষক নয়া কৃষি আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে বাধ্য হয়ে দিল্লি গিয়েছেন তখন বর্তমান সরকার তাদের সমস্যার কথা না শুনে তাদের সাথে চুড়ান্ত অমানবিক আচরণ করছে। বৃদ্ধ কৃষকদের উপর লাঠিচার্জ, শিতের মধ্যে জল কামানের জলে তাদের উপর আঘাত এনে চলেছে। সমস্ত রকম বাঁধা অতিক্রম করে যখন দিল্লি পৌঁছে গেছে তখন তাদের উপর খালিস্তানি – দেশ বিরোধী তকমা এটে দিতে চাইছে সরকার। তাই এই পরিস্থিতিতে আমরা যে সকল শিল্পী মানুষ মানবিকতা ও প্রগতিশীলতায় বিশ্বাস করি তারা কৃষকদের ঐতিহাসিক এই আন্দোলনের প্রতি রাস্তায় শিল্প চর্চার মাধ্যমে সংহতি প্রকাশ করতে চাই।

65