৩০/১১/২০২০,ওয়েবডেস্কঃ

যেদিকে চোখ যায় শুধু ট্রাক্টরের সারি।কোথাও চলছে আটা মাখা,রুটি বানানোর কাজ। কেউ বাঁধছেন পাগড়ি।দেখে মন হচ্ছে যেন চলছে কোন বন ভোজন। কিন্তু না বনভোজন নয় এই ছবি দিল্লিতে সমবেত কৃষকদের আন্দোলন স্থলের।কদিন ধরে চলা কৃষক বিক্ষোভের জেরে দিল্লি কার্যত অবরুদ্ধ। দিল্লিগামী একাধিক সীমান্ত অঞ্চলে সমস্ত প্রশাসনিক বাধা উপেক্ষা করে কৃষকরা চালাচ্ছেন বিক্ষোভ। তাঁদের একটা কথা, দাবি মানতেই হবে সরকারকে।

অবশ্য বসে নেই মোদী অমিত শাহের সরকার।কৃষক আন্দোলনকে থামাতে মোদী সরকার ব্যস্ত রণনীতি নির্ধারণে। তাই আবার সোমবার সকালেই কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এর আগে অমিত শাহ কৃষকদের সাথে শর্ত সাপেক্ষে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন কৃষকদের।কিন্তু কৃষকরা অমিত শাহের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে দিয়ে জানিয়ে দেন যে, একমাত্র সর্বোচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক প্রতিনিধি দলের সাথেই বৈঠকে বসবেন তাঁরা।কৃষকদের কাছে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর থেকে গত শেষ ২৪ ঘণ্টায় এই নিয়ে দ্বিতীয়বার কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

দেশের বৃহত্তম কৃষক আন্দোলন নিয়ে গতকাল রাতেই বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডার দিল্লির বাসভবনে বৈঠকে বসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমার, কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং প্রমুখও।

কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন কৃষি আইনে ন্যুনতম বিক্রয় মূল্য নির্ধারণ না করায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন পঞ্জাব ও হরিয়াণার কৃষকরা।বিগত চার মাস ধরে তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে আসছেন।কিন্ত তাতে কোন। কাজ না হওয়ায় এবার কৃষকরা দিল্লির রামলীলা ময়দানে বা জন্তরমন্তরে এসে আন্দোলন করার জন্য দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হন। হরিয়ানার বিজেপি সরকার তাঁদের ওপর জলকামান,টিয়ার গ্যাস,লাঠি চার্জ করলেও থামানো যায়নি। কৃষকরা এবার তাঁদের দিল্লি ঢুকতে না দিলে দিল্লিমুখী পাঁচটি রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলন করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এই বিষয়েই জরুরি ভিত্তিতে বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব।

কৃষকরা গতকাল জানিয়েছেন তাঁদের দাবী মানা না হলে তাঁরা সোনেপথ, রোহতক, জয়পুর, গাজিয়াবাদ-হাপুর এবং মথুরা সীমান্ত আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখাবেন।

এর ঠিক পরপরই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৃষকদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিলে আন্দোলনরত কৃষকরা কোনো শর্তের বিনিময়ে আলোচনায় বসতে অস্বীকার করেন।

আন্দোলনরত কৃষকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাঁরা কোনোভাবেই সরকারের প্রস্তাবিত বুরারি গ্রাউন্ডে গিয়ে তাঁদের আন্দোলন চালাবেন না। তাঁরা পূর্ব ঘোষণা মত হয় যন্তর মন্তর অথবা রামলীলা ময়দানে গিয়েই তাঁদের বক্তব্য পেশ করবেন।

109