২৭/১১/২০২০,ওয়েবডেস্কঃ

চলতি বছরের জুন মাস থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত ছয় মাসে দেশে বেকারত্বের হার সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করলো। সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমি বা সিএমআইই ২২শে নভেম্বর করা সমীক্ষা রিপোর্টে জানিয়েছে ভারতে বেকারত্বের হার ৭.৮ শতাংশে নেমে গেছে।

রিপোর্ট প্রকাশ করে সিএমআইই জানিয়েছে জুন মাসে লকডাউন ধীরে ধীরে তুলে নেওয়ার পর কিছুটা হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছিল। তবে ২৫শে অক্টোবরের পর থেকে আবার সেই হার নামতে শুরু করেছে। নভেম্বরের ২২ তারিখ পর্যন্ত নিয়োগের হার ছিল ৩৬.২ শতাংশ।

সিএমআইইয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী ১.৮ কোটি মানুষকে মহামারীর কারণ দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যবসা ও ফার্ম থেকে ছাঁটাই করা হয়েছে এঁদের।

সিএমআইইয়ের এই সমীক্ষা রিপোর্ট প্রশ্ন তুলে দিয়েছে দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যত নিয়ে। কারণ বিভিন্ন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাড়ছে কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিমাণ।

দেশের মোট কর্মীর মধ্যে ২১ শতাংশই বেতনভোগী। অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক বা কর্মীদের তুলনায় এই সংখ্যাটা যথেষ্ট কম। বেতনভোগী কর্মীদের ওপরেই কোপ পড়েছে বেশি। খুব সহজেই সংস্থাগুলির পক্ষে এদের ছাঁটাই করা সম্ভব হচ্ছে । ফলে উদ্বেগ বাড়ছে দেশের অর্থনীতির বৃদ্ধি নিয়ে।

রিজার্ভ ব্যাংক জানিয়েছে গত এপ্রিল থেকে জুন মাসের ত্রৈমাসিকে ২৪ শতাংশ অর্থনীতির সংকোচন হয়েছিল। সেপ্টেম্বর মাসে আর্থিক বৃদ্ধি ৮.৬ শতাংশ কমে এসেছিল দেশের অর্থনীতি।
ইতিপূর্বে সিএমআইইয়ের রিপোর্ট জানিয়ে ছিল যে করোনা ও লকডাউনের জেরে দেশের অর্থনীতিতে বড়সড় ধাক্কা লেগেছে। সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমি বা সিএমআইই-র সমীক্ষা জানায়, শুধু জুলাই মাসেই কাজ হারিয়েছেন ৫০ লক্ষ চাকুরিজীবী। সব মিলিয়ে এপ্রিল মাস থেকে কর্মহীন হন প্রায় ১.৮ কোটি জন।

২০১৯-২০ সালে নিয়োগের হার ছিল ৩৯.৪ শতাংশ। ২০১৬-১৭ সালে তা ছিল ৪২.৮ শতাংশ। চলতি বছরে এপ্রিল মাসে দেশের নিয়োগের হার নেমে দাঁড়ায় ২৭.২ শতাংশ। অক্টোবরে তা দাঁড়ায় ৩৭.৮ শতাংশ।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির করা জিডিপি বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের দাবি বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়ে গেল সিএমআইই-র সমীক্ষা রিপোর্ট প্রকাশের পর।

52