দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গে
বামফ্রন্ট সরকারের করা সব জনকল্যাণমূলক কাজকে রাজ্যের বর্তমান তৃণমূল সরকার ধ্বংস করছে বলে অভিযোগ করলেন বাম পরিষদীয় দলের নেতা সুজন চক্রবর্তী।মানুষের স্বার্থে বিদ্যুৎ, রাস্তা, পানীয় জল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্প, কৃষি, কল-কারখানা, কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছিল।সে সমস্ত কিছু ধ্বংস করছে তৃণমূল সরকার। মালদহে একটি দলীয় সভায় সুজন চক্রবর্তী বলেন
মানুষের স্বার্থে বিগত বামফ্রন্ট সরকার যে সমস্ত কাজ করেছিল বর্তমান তৃণমূল সরকার সেই সমস্ত কিছু ধ্বংস করে লুটের রাজত্ব চালাচ্ছে। পুলিশিরাজ কায়েম করেছে।এমনকি মানুষের মৌলিক অধিকার পর্যন্ত কেড়ে নিচ্ছে এই তৃণমূল সরকার।

আগামী ২৬শে নভেম্বর দেশ ব্যাপী ধর্মঘটের প্রচারে এসে সোমবার মালদহ জেলার এক সভায় সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং রাজ্য বিধানসভায় বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী বামকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন,এদের বিরুদ্ধে মানুষকে সোচ্চার ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

উল্লেখ্য,আগামি ২৬শে নভেম্বর সারা ভারত সাধারণ ধর্মঘটের সমর্থনে সারা রাজ্যে লাগাতার প্রচার করছে সিপিআইএম সহ বামপন্থী দলগুলি।কংগ্রেসও এই বন্ধের সমর্থন করে বামপন্থীদের পাশেই দাঁড়িয়েছে।এদিন মালদহ জেলায় তিনটি বড় আকারের সভা ও মিছিলে অংশ নেন সুজন চক্রবর্তী। তিনটি সভাতেই সুজন চক্রবর্তী ২৬শে নভেম্বর সাধারণ মানুষের দাবি নিয়ে সারা ভারত ধর্মঘটকে সফল করার আহ্বান জানান।

এদিন প্রথমে সিপিআইএম কর্মীসভা হয় ওল্ড মালদার ওসমানিয়া হাই মাদ্রাসায়। সভা শেষে বড় মিছিল ওল্ড মালদহ শহর পরিক্রমা করে। বিকেলে বৈষ্ণবনগর হাইস্কুলের মাঠে বিরাট জনসভা হয়। কালিয়াচক ৩ নং ব্লকের কয়েক হাজার মানুষ এই সভায় অংশগ্রহণ করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন পার্টির নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন। বক্তব্য রাখেন পার্টির জেলা সম্পাদক অম্বর মিত্র, জেলা পার্টির নেতা ও প্রাক্তন বিধায়ক বিশ্বনাথ ঘোষ, প্রাক্তন সাংসদ আবুল হাসনাৎ খান, পার্টির রাজ্য কমিটির সদস্য জামিল ফিরদৌস। সন্ধ্যায় মালদহ শহরের রথবাড়ি মোড়ে বন্ধের সমর্থনে বাম দল ও কংগ্রেসের আহ্বানে ওপর এক সভায় বক্তব্য রাখেন সুজন চক্রবর্তী সহ বাম নেতৃবৃন্দ।

তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে যাদের কোনও ভূমিকা নেই, যারা বিশ্বাসঘাতকের হিসাবে চিহ্নিত হয়েছিল, ব্রিটিশদের চরবৃত্তি করেছিল তারাই আজকে স্বঘোষিত দেশপ্রেমিক সেজে প্রতিবাদী মানুষকে ‘দেশদ্রোহী’ চিহ্নিত করে দেশের সংবিধানের প্রতি আঘাত হানছে। মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ ও সাম্প্রদায়িকতার উগ্র পরিবেশ তৈরি করে ধ্বংসের রাজনীতি করছে। দেশপ্রেমের নামে দেশের সম্পত্তি আম্বানি-আদানিদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার চক্রান্ত করছে। চক্রবর্তী তৃণমূল ও বিজেপি উভয়ের বিরুদ্ধেই মানুষকে প্রতিবাদে শামিল হওয়ার কথা বলেন। আগামী ২৬শে নভেম্বর সর্বাত্মক ধর্মঘটের মধ্যে দিয়েই এই দুই শক্তির বিরুদ্ধেই মানুষ জবাব দেবেন বলে মনে করছেন তিনি।

47