শৌভিক রায়

।। জয়ন্তী।।

ছোট্ট প্রাচীন জনপদ জয়ন্তী (অনেকে বলেন সঠিক উচ্চারণ জৈন্তি) ডুয়ার্সের রানীর তকমা পেয়েছে অনেক আগেই, অবশ্য অত্যাধিক পর্যটক আগমনে প্রকৃতির সেই শান্ত-সমাহিত ভাবটি আজ আর নেই…

তবু নদীর ওপারে সিনচুলা রেঞ্জ, মহাকাল গুহা (আড়াই কিমি দূরে ) এবং স্ট্যালাগমাইট ও স্ট্যালাকটাইটের মহাকাল মন্দির (পাঁচ কিমি দূরে ), পাহাড়চূড়োর জলাশয় বা পুকুরি (দুই কিমি দূরে) এবং অসামান্য প্রাকৃতিক রুপটান নিয়ে জয়ন্তী আজও অনন্য। 

অতীতে জয়ন্তী ছিল হাতি কেনা-বেচার কেন্দ্র। জয়ন্তীর ওপর দখল ছিল ভুটানের। কিন্তু জয়ন্তী হাতছাড়া হয় তাদের কেননা নিজেদের পবিত্র তীর্থক্ষেত্র মহাকাল পাহাড়কে ইংরেজদের দখলমুক্ত করতে জয়ন্তীর সাথে মহাকাল পাহাড়ের হাতবদল করে ভুটান। 

আর তারপর ১৯০২ সালে রেললাইন পাতা হলে জয়ন্তী হয়ে উঠেছিল বনজ সম্পদ ও ডলোমাইট চালানের কেন্দ্র। 

যদিও আজ আর সে রেলপথ নেই।

রাজাভাতখাওয়া হয়ে বক্সা ফরেস্ট রোড ধরে আট কিমি গিয়ে ডাইনে বেঁকে আরো তিন কিমি পথ গেলে পৌঁছোনো যায় জয়ন্তীতে।

শাল-চিকরাশি-মাদার-জারুল-সেগুন-শিমুলের ঘন অরণ্যে হাতি তো বটেই মেলে লেপার্ড, গাউর ইত্যাদি। রয়েছে অজস্ৰ পাখি আর প্রজাপতি। চুনিয়াঝোরা নজরমিনার থেকে মেলে অরণ্যের অসীম শোভা। জয়ন্তী থেকে সান্তলাবাড়ি হয়ে দেখে আসা যায় ঐতিহাসিক বক্সা ফোর্টটিও। 

আর জয়ন্তী নদীর ধরে প্রাকৃতিক শোভায় মোহিত হতে হতে জয়ন্তীকে উপলব্ধি করা যায় নিজের মতো নিজস্ব চেতনায়…যদিও নদীর বুকে পাথর জমে জমে আজ নদীবক্ষ এতটাই উঁচু হয়ে উঠেছে যে, বর্ষায় নদীর জল প্লাবিত করছে দুই কুল।

তবু ডুয়ার্স ভ্রমণে আজও জয়ন্তী সেরা। জয়ন্তীর তুলনা জয়ন্তী নিজেই।  

75