আইনগত কারণে প্রায় সাত বছর ধরে বন্ধ রয়েছে স্কুল। আর সেই স্কুলে নিয়মিত বসছে জুয়ার ও মদের আসর। স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, রায়গঞ্জ ব্লকের বীরঘই গ্রাম পঞ্চায়েতের জয়নগরে বিসিএম জুনিয়ার হাইস্কুল দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। জানা গিয়েছে, ২০০২ সালে এই স্কুলটি রাজ্য সরকারের অনুমোদন পেলেও হাইকোর্টে মামলা চলায় বর্তমানে পড়াশোনা বন্ধ রয়েছে। এই সুযোগে বিদ্যালয়ে উন্মুক্ত বারান্দা ও শ্রেণিকক্ষে প্রতিদিন রাতে বসছে মদ ও জুয়ার আসর।

সন্ধ্যার পর থেকে বহিরাগতদের আসর বসলেও প্রতিদিন রাত বারোটা পর্যন্ত চলে এই উৎপাত। পুলিশ কোনও কোনও সময় হানা দিলেও বহিরাগতদের আনাগোনা বন্ধ করা যায়নি। অভিযোগ, এই ঘটনায় গ্রামের ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের মধ্যে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। তাই নেশার ঠেক বন্ধের দাবি তুলেছেন গ্রামবাসীরা।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, শিক্ষকরা নিজেরা মামলা করায় বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে রয়েছে। এই সুযোগে এখানে গভীর রাত পর্যন্ত বসছে মদ, গাঁজা ও জুয়ার ঠেক বসছে। পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। গ্রামের ছেলেমেয়েদের স্বার্থে এখানে পড়াশোনা চালু করা দরকার। গ্রামবাসী তথা রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র প্রদীপ সরকার বলেন, এখানে সন্ধ্যা হলেই নেশার আসর বসছে। বাইরে থেকে ছেলেরা এসে মদ ও জুয়ার আসর বসায়। এদের উৎপাতে আমরা বিরক্ত। বিদ্যালয়ে বারান্দায় ও ঘরে চলেছে আড্ডা। গ্রামবাসী রতিকান্ত রায় জানান, বহুদিন ধরে স্কুল বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়েছে বহিরাগতরা। পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এই স্কুল চালু হলে পরিবেশ ঠিক থাকবে। অন্যদিকে ছাত্রছাত্রীরা উপকৃত হবে। গ্রামবাসীদের দাবি, পুলিশি অভিযানের পাশাপাশি স্কুল চালু না করলে অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ হবে না। বহিরাগত দুষ্কৃতীদের আনাগোনা বন্ধ হবে না।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক নারায়ণ মণ্ডল জানান, স্কুল প্রাঙ্গণে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে। কিছু বলা যায় না ওদের। ওদের কিছু বলতে গেলেই বিপদ হচ্ছে। স্কুল যখন চালু ছিল, সেই সময় ঘর থেকে প্রায় দিনই মদের বোতল উদ্ধার করেছি। অবিলম্বে তা বন্ধ হওয়া দরকার। তিনি আরও বলেন, হাইকোর্টে মামলা চলছে। তাই পড়াশোনা চালু করা যাচ্ছে না। অবশ্য করোনা আবহে এখন এমনিই স্কুল বন্ধ আছে। কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও স্কুল চালু করা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ে আছি। এই স্কুলে ২০১৩ সাল পর্যন্ত পড়াশোনা হয়েছে। মিড-ডে মিল নিয়মিত চলেছে। গ্রামবাসীরা চাইছেন স্কুলে পড়াশোনা চালু হোক।

27