দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে লড়াইয়ের পর গত পঞ্চায়েত ভোটে নিহত প্রিসাইডিং অফিসার রাজকুমার রায়ের স্ত্রী কে প্রাপ্য দশ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দিতে সক্ষম হলেও তাতে সন্তুষ্ট নয় রাজকুমার হত্যার বিচার চাই মঞ্চ। আজ রায়গঞ্জে প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে একথা পরিষ্কার ভাবে জানিয়ে দিল মঞ্চের নেতৃত্ব।

উল্লেখ্য আজকেই রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের তরফ থেকে গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে দ্বায়ীত্ব পালন করতে গিয়ে কমিশনের কাস্টডি তে থাকা অবস্থাতেই রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ ও পরে নিহত হন রাজকুমার রায় নামক পেশায় শিক্ষক প্রিসাইডিং অফিসার। এর প্রতিবাদে রায়গঞ্জে ঐতিহাসিক আন্দোলনে নামে শিক্ষকেরা। এগিয়ে আসে অন্য ভোট কর্মী ও সাধারণ মানুষ। রাজকুমার কে হত্যা করা হয়েছে তাই তার মৃত্যুর সিবিআই তদন্ত ও নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ক্ষতিপূরণের দাবিতে গঠিত হয় রাজকুমার হত্যার বিচার চাই মঞ্চ। সিবিআই তদন্তের বিষয়টি বিচারাধীন হলেও ক্ষতিপূরণের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন করে আসছে।

এদিন প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ভট্টাচার্য, প্রিয় রঞ্জন পাল, সভাপতি সহীদুর রহমান, সুব্রত গুহ, সোমা সরকার।মঞ্চের পক্ষে আহ্বায়ক প্রিয় রঞ্জন পাল জানান আড়াই বছর লড়াইয়ের পর রাজকুমারের পরিবার আংশিক দশ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ পেলেও আমরা সন্তুষ্ট নই। যেহেতু এই জেলা শুধু না গোটা রাজ্যের মানুষ অনুভব করেন যে রাজকুমার পঞ্চায়েত ইলেকশনে যে ভয়াবহ হিংসার উন্মুক্ত ময়দান তৈরি হয়েছিল সেই হিংসার স্বীকার। তাই তার পরিবারের হাতে নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা মত কুড়ি লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিতে, মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত সমস্ত ভোট কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, আগামী নির্বাচন গুলিতে ভোট কর্মী ও সাধারণ ভোটার সম্পূর্ণ নিরাপত্তা এবং সর্বোপরি রাজকুমার হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচারের দাবিতে আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। ভাস্কর ভট্টাচার্য বলেন এই সাংবাদিক সম্মেলন থেকে আমরা রাজকুমার হত্যার পরবর্তী সময়ে যে আন্দোলন সংগঠিত হয়েছিল তাতে যে সমস্ত মানুষ সক্রিয় ভাবে বা নৈতিক সমর্থন যুগিয়েছেন তাদের সবাইকে আমরা কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি সাংবাদিক বন্ধুরা যারা এই আন্দোলনে সব সময় সদর্থক ভুমিকা নিয়ে সত্য সংবাদ পরিবেশন করেছেন তাদেরকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

248