ওয়েব ডেস্ক, অক্টোবর ২৯,২০২০: করোনা কঠিন সময় নিয়ে এসেছে ভারতে তথা গোটা বিশ্বে। এই কঠিন সময়ে মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বহু মানুষ। এই কঠিন সময়ই নতুন করে চিনিয়েছে কাছের মানুষদের। গরিবের দেবতা রূপে আবির্ভাব ঘটেছে বহু সাধারণ মানুষের।

যেমন দিল্লির এই রেস্তোরাঁ। প্রতিদিন মাত্র ১ টাকায় দুপুরের খাবার তারা তুলে দিচ্ছে দরিদ্র মানুষের হাতে। দিল্লির নানগ্লোইয়ে শিব মন্দিরের কাছে ‘শ্যাম রসুই’ নামের এক রেস্তোরাঁ শুরু করেছে এই অভিনব উদ্যোগ। প্রতিদিন সকাল ১১ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত এই কাজ করেন তাঁরা। রেস্তোরাঁর মালিক পারভিন কুমার গোয়েল এই কাজ শুরু করেন মাস দুয়েক আগে। দিল্লি শহরের দরিদ্র, অভুক্ত মানুষের কথা ভেবেই এই মানবিক পদক্ষেপ।

প্রত্যেক দিন ১০০০ জন মানুষ নিজেরাই এখানে এসে খাবার নিয়ে যাচ্ছেন। আবার রেস্তোরাঁর আশেপাশে এলাকার বাকি মানুষদের খাবার ই-রিক্সার মাধ্যমে পাঠাচ্ছেন তাঁরা‌। তিনি জানান প্রতিদিন এভাবে প্রায় ২০০০ জনের খাবার তাঁরা বানাচ্ছেন।

গত সাত মাসে করোনা আবহে সময় বহু মানুষ কাজ হারিয়েছেন প্রতিদিন। লকডাউন চলাকালীন কাজ প্রায় বন্ধ থাকায়, রুটিরুজির দুশ্চিন্তাতেই দিন কেটেছে দরিদ্র মানুষের। ইউনাইটেড নেশনস ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের এক সমীক্ষা থেকে জানা যায় ২০২০ সালের শেষে সারা বিশ্বে ১৩০ মিলিয়ানের বেশি মানুষ খাদ্যের অভাবে ভুগবে। এই তথ্য জানার পরই দিল্লির এই রেস্তোরাঁ অভুক্ত গরীব মানুষগুলোর কথা ভেবে এই মানবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

প্রাথমিকভাবে স্থানীয় এক ফাঁকা ফ্যাক্টরিতে কাজ শুরু হয়। ফ্যাক্টরির মালিক রঞ্জিত সিং এই অভূতপূর্ব উদ্যোগের কথা শুনে স্বেচ্ছায় জায়গা ছেড়ে দেন পারভিন কুমার কে। ভাত, রুটি, ডাল, সোয়াবিনের পোলাও, পনিরের তরকারি, হালুয়া সবই থাকে এই এক-টাকার থালিতে। বর্তমানে শ্যাম রসুই রেস্তোরাঁয় মোট ছ’জন কাজ করেন। প্রতিদিনের বিক্রির উপর নির্ভর করে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা তাদের বেতন দেওয়া হয়। কখনও কখনও স্থানীয় ছাত্রছাত্রীরা এসেও এই রান্নার কাজে বা পরিবেশনে তাদের সাহায্য করেন।

এ প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে রেস্তোরাঁর মালিক পারভিন কুমার গোয়েল বলেন, “প্রথমে এই খাবারের থালির দাম রেখেছিলেন ১০টাকা। দেখলাম, সেই সামান্য টাকাটুকুও দিতেও পারছেন না অনেকে। তাঁদের কথা মাথায় রেখেই আমরা থালির দাম সর্বনিম্ন একটাকা ধার্য করার কথা ভাবি।” তিনি এও জানান, ” আমাদের এই কাজে অনেকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। গরিব মানুষদের সাহায্য করার উদ্দেশে একদিন এক বৃদ্ধা তাঁর রেশনের সবটুকু আমাদের হাতে তুলে দেন। কেউ কেউ কখনও চাল, গম, সবজি দিয়ে, কখনও বা একদিনের পুরো খাবারের দায়িত্ব নিয়েও আমাদের সাহায্য করছেন। একটাকায় কথা শুনে আগের থেকে এখন লোকের সংখ্যাও বাড়ছে। এখন আপাতত কিছুদিন চালিয়ে নেওয়ার মতো অর্থ আমাদের আছে। আমরা চাই আরও মানুষ এগিয়ে আসুক। আমাদের পাশে থাকলে, আরও বহু গরিব মানুষের খাবারের জোগান আমরা দিতে পারব। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমরা এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।”

37