ওয়েব ডেস্ক অক্টোবর ২৮,২০২০: রাজ্যগুলির কাছে করোনার ভ্যাকসিন প্রাপকদের নামের তালিকা চেয়ে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সরাসরি আলোচনা শুরু খবর আসতে শুরু করেছে।আর তা নিয়েই বিভিন্ন মহলে উঠতে শুরু হয়েছে জল্পনা।

জানা গেছে,জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন বা NHM-এর আওতায় থাকা কলকাতা শিলিগুড়িসহ রাজ্যের সাতটি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন এবং বাদবাকি সব পুরসভাসহ সব সরকারি মেডিক্যাল কলেজ এবং বেসরকারি কোভিড হাসপাতালগুলির কাছে সম্ভাব্য ভ্যাকসিন প্রাপকদের তালিকা চাওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় এমনও খবর পাওয়া যাচ্ছে যে, স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সঙ্গে বৈঠকে প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছে নভেম্বরের মধ্যেই কেন্দ্রের হাতে তালিকা তুলে দেবে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর।

এখন প্রশ্ন উঠছে যে, COVID-19 ভাইরাস প্রতিরোধী ভ্যাকসিন কীভাবে প্রয়োগ করা হবে? কারা প্রথম দফায় ভ্যাকসিন পাবেন? এইসব বিষয় ঠিক করার দায়িত্ব রাজ্যগুলির। বস্তুত, এদিনের বৈঠকে জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের (National Health Mission) রাজ্যের নোডাল অফিসার সৌমিত্র মোহন এবং অন্য আধিকারিকদের তা আরও একবার স্পষ্ট করে দেন কেন্দ্রীয় আধিকারিকরা। রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব আলোচনা প্রসঙ্গে বলেছেন, “পুরসভা ও সরকারি-বেসরকারি কোভিড হাসপাতালের কাছে গ্রহীতাদের নামের তালিকা চাওয়া হয়েছে। সেই তালিকা পাঠিয়ে দেওয়া হবে।” রাজ্যের তরফে প্রস্তাব ছিল প্রথম দফায় স্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক কর্মরত সব সাফাই ও স্বাস্থ্যকর্মীদের তালিকার প্রথমে রাখা হোক। সেই প্রস্তাব মেনেছেন ন্যাশনাল হেলথ মিশনের আধিকারিকরা। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, বৈঠকের মধ্যেই পুরসভাগুলিকে দ্রুত নামের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেন রাজ্যের নোডাল অফিসার সৌমিত্র মোহন। আলোচনার মধ্যেই তালিকার রূপরেখা কেমন হবে তা ‘পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন’ করে স্পষ্ট করা হয়। রাজ্যের তরফে প্রশ্ন ওঠে কারা ভ্যাকসিন দেবেন? কারণ স্বাস্থ্য দপ্তরের যুক্তি, তাদের হাতে কোভিড প্রতিরোধী যথেষ্ট নার্স বা ডাক্তার রয়েছেন। রয়েছেন শুধুমাত্র রুটিন প্রতিষেধক দেওয়ার স্বাস্থ্যকর্মী। রাজ্যের যুক্তি শুনে বাস্তবিকই খুশি স্বাস্থ্য মন্ত্রকের আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, একইভাবে সব সরকারি মেডিক্যাল কলেজ এবং বেসরকারি কোভিড হাসপাতালকেও নামের তালিকা জমা দিতে বলা হয়েছে।চিকিৎসক, নার্স-সহ স্বাস্থ্য এবং সাফাইকর্মীদের মধ্যে কারও যদি অন্য উপসর্গ বা কো-মর্বিডিটি থাকে তাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

এটা যেমন একটা দিক, তেমনই ‘হাই রিস্ক গ্রুপ’ বা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির সমস্যা-সহ অন্য উপসর্গের রোগীদের যত বেশি সংখ্যায় এই তালিকায় আনা যায় তার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ষাট বছরের বেশি বয়সের নাগরিকদের পৃথক তালিকা তৈরি করার কথা বলা হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য দপ্তরের বিভাগীয় আধিকারিকের বক্তব্য, সীমিত সময়ের মধ্যে এমন পৃথক তালিকা তৈরি করা রীতিমতো কঠিন। কারণ, দেশ তো বটেই, কোনও রাজ্যেই স্বাস্থ্যশুমারি হয়নি। তাই নেই কোনও তথ্যভাণ্ডার। বস্তুত করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য অনেক তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।
কিন্তু এই সকল বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ না করেই কিভাবে এত দ্রুত নামের তালিকা প্রস্তুত করা সম্ভব হবে তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। অনেকেই মনে করছেন যে, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বিলোচ্ছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। বিহারের ভোটের সভাগুলিতে বিজেপি নেতাদের মুখে বারংবার বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা শোনা গেছে। সামনে আগামি বছরের বাংলার বিধানসভা ভোট। বেকারত্ব, নারী সুরক্ষার মতো বিষয় থেকে নজর ঘোরাতেই ভ্যাকসিন বিলির কথা বাজারে আনছে বিজেপি বলে মনে করছেন অনেকেই। বামপন্থীরাসহ দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দল গুলো অবশ্য প্রথম থেকেই বিনামূল্যে কোভিড ভ্যাকসিন দেওয়ার দাবী জানিয়ে আসছে।

62