পাপিয়া চক্রবর্তী

প্রতিবেদন, ২১,২০২০: ১৯৭৩সালের চিপকো আন্দোলনের কথা এই প্রজন্মের অনেকেই জানে না। কিন্তু দেরাদুনের বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণ বাঁচাতে সেখানকার নতুন প্রজন্ম সেই আন্দোলন আবার শুরু করলো।
বারবার বিকাশের নামে ধ্বংস করা হচ্ছে হিমাচলের সংরক্ষিত বনাঞ্চল।

দেরাদুন বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য সম্প্রতি সংরক্ষিত থানো ফরেস্টের ১০হাজার গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এই ঘটনার বিরুদ্ধেই আন্দোলনে নেমেছেন দেরাদুনের পরিবেশকর্মী থেকে সাধারন মানুষ সকলেই। তাদের মতে, বিমানবন্দরের সম্প্রসারণের ফলে থানো সংরক্ষিত বনাঞ্চল ধ্বংস হবে ,হাতি চলাচলের পথ বন্ধ হবে ও নদীপথের ক্ষতি করবে।
এর আগেও মোদীর স্বপ্নের ‘চারধাম প্রজেক্ট’-এর জন্য রাস্তা সম্প্রসারণের কাজে হাজার হাজার গাছ কাটা হয়েছে। দখল করা হয়েছে নদীবক্ষ। তারপর আবার বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য থানো ফরেস্টের গাছ কাটার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে নেমেছে দেরাদুন।

উল্লেখ্য যে, উত্তরাখণ্ডের বিজেপি সরকার বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য ২৪৩ একর বনাঞ্চল হস্তান্তরের জন্য ‘এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়া(AAI)’র কাছে
‘ন্যাশনাল ওয়াইল্ডলাইফ বোর্ড(NWB)-‘এর অনুমোদন পত্র চেয়েছে।

দেরাদুনের জলি গ্রান্ট এয়ারপোর্টের রানওয়ের বর্তমান দৈর্ঘ্য ২,১৪০মিটার। প্রস্তাবিত প্রকল্পে রানওয়েটিকে ৬২৫ মিটার বাড়িয়ে
২,৭৬৫ মিটার করার কথা বলা হয়েছে।প্রস্তাবিত প্রকল্পে রানওয়ে সম্প্রসারণের জন্য যে বনাঞ্চল চাওয়া হয়েছে তার মধ্যে পড়ছে রাজাজি ন্যাশনাল পার্কের ১০কিলোমিটার ইকো সেনসিটিভ জোন।

“এধরনের প্রকল্প আমাদের অস্তিত্ব ও জীবকুলকে ধ্বংস করে দেবে। উত্তরাখণ্ড হিমালয়ের এই অত্যন্ত সংবেদনশীল অঞ্চলে এ ধরনের যে কোন প্রকল্প যা বর্তমানের বিজেপি সরকার গ্রহণ করেছে তা সব সময়েই এই এলাকার পক্ষে ধ্বংসাত্মক হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট পরিবেশবিদ ও ওই আন্দোলনকারী বিশাল সিং।তিনি আরও জানান যে, সমতলের ক্ষেত্রে যে ব্যবস্থা গুলি গ্রহন করা হয় সরকার সেই ধরনের পদ্ধতিই পাহাড়েও প্রয়োগছ করতে চাইছে এবং কিছুতেই স্থায়ী সমাধানের জন্য সময় ও শক্তি নষ্ট করতে রাজি নয়। এ থেকে স্পষ্টই বোঝা যায় যে সরকারের পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে কোন ভাবনা বা লক্ষ্য নেই এবং ভবিষ্যতের জন্য পরিবেশ রক্ষা বিষয়ে কোন ধরনের বিশ্লেষণের কোন ইচ্ছেও নেই। সরকার অন্ধ হয়ে গেছে”-এমন ভাবেই ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে’র কাছে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন বিশাল সিং।

১২ বছর বয়সী ভারতের ‘গ্রেটা থুনবার্গ’ নামে পরিচিত রিদ্ধিমা পান্ডে এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছেন। গত রবিবার থানোতে ‘সেভ থানো ফরেস্ট’ নামে যে বিরাট জনসমাবেশ হয় থানো ফরেস্ট বাঁচাতে সেখানে উপস্থিত হয়ে রিদ্ধিমা পান্ডে বলেন, “মানুষ নিষ্ঠুর ভাবে পরিবেশ ধ্বংস করছে যা সম্পূর্ণ মানব সভ্যতাকেই প্রশ্ন চিহ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। যতক্ষণ না গাছ কাটার সিদ্ধান্ত বদল হচ্ছে আমরা আন্দোলন করে যাবো। “

দেরাদুন,রিশিকেস,
ভানিয়াওয়ালাসহ বিভিন্ন এলাকার কয়েক হাজার সাধারণ মানুষ,পরিবেশকর্মী ও পরিবেশপ্রেমী গত রবিবার থানোতে উপস্থিত হয়ে থানো ফরেস্টের যে গাছগুলো কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেই গাছ গুলোতে ‘রক্ষা সুত্র’ বেঁধে গাছ গুলিকে রক্ষা করার অঙ্গিকার করেন। “আমরা জনসাধারণ (উই দ্য পিপল) এই গাছগুলোর রক্ষক” বলে স্লোগান তোলেন তাঁরা।

পরিবেশকর্মী আয়তন যোশী গাছের গায়ে রক্ষা সুত্র বেঁধে গাছকে জড়িয়ে ধরে বলেন, ” এই সময়ে দাঁড়িয়ে যেখানে আমাদের আরও বেশি করে গাছ লাগানো উচিত সেখানে তা না করে আমরা হাজার হাজার গাছ কেটে ফেলছি। থানো ফরেস্ট দেরাদুনের কার্বন ও দূষণ ‘সিঙ্ক’ হিসেবে কাজ করে। দেরাদুনকে দূষণমুক্ত রাখার কাজ করে। আমাদের অবশ্যই পরিবেশকে সুরক্ষিত রেখে উন্নয়নের পরিকল্পনা করতে হবে যাতে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মও পরিবেশ সচেতন হয়।”

82