শৌভিক রায়

।। ছমছমে চিলাপাতা ।।

একদিকে জলদাপাড়া আর একদিকে বক্সা। 

একদিকে তোর্ষা, আর একদিকে ডিমা। 

তবু তাকে মধ্যবর্তী বলছি না। 

সে তার নিজের মতো।

একটা সময় এখানকার মাটিতে সত্যিই আলো পড়ত না। গা ঘেঁষাঘেষি করে দাঁড়িয়ে থাকত বৃক্ষেরা। তাদের জাপটে ধরত বনজ লতারা। অরণ্যে বিপদ তো ছিলই, অরণ্য চিরে চলে যাওয়া পথও ছিল বিপদসঙ্কুল।

অবস্থা পালটেছে। বন্য প্রাণীদের অকস্মাৎ মিললেও, হালকা হয়েছে অরণ্য। তবু জঙ্গল পথে গিয়ে তোর্ষার তীরে দাঁড়ালে বড় বড় ঘাসের মাঝে, বিশেষ করে নদীর ওপারে, দেখা মিলতে পারে গন্ডারের। হাতি তো রয়েইছে। চিতাবাঘ, হরিণ যেমন মাটিতে তেমনি আকাশে মেলে নানা প্রজাতির পাখির দেখা।

এখনও অরণ্য মাঝে নলরাজার গড় সেরা আকর্ষণ। মেন্দাবাড়ি, কোদালবস্তি, পোরো বনবস্তিরও হাতছানি কম নয়। আর অরণ্যের ভেতর পাড়ি দেওয়ার এত দীর্ঘ পথ উত্তরে বোধহয় আর নেই। 

এসব মিলেই চিলাপাতা।

বৃহত্তর জলদাপাড়ার অংশ হলেও তার পরিচয় নিজস্ব।

ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে হাসিমারা। আলিপুরদুয়ার কুড়ি কিমি। কোচবিহারও কাছে। 

চিলাপাতার নিস্তব্ধ ভাবটি আজও যায় নি। দিনের বেলাতে ঝিঁঝিঁর আর রাতে বন্যপ্রাণের ডাক সেই নিস্তব্ধতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ছমছম করে ওঠে গা। 

তবু চিলাপাতার ডাক এড়ানো যায় না কখনই…

34