আবারও অমর্ত্য সেনের হাত ধরে জগত সভায় শ্রেষ্ঠ আসন লাভ ভারতের। জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলার ঐতিহ্যবাহী শান্তি পুরস্কার পেলেন নোবেলজয়ী ভারতীয় অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। বাঙালি তো বটেই প্রথম ভারতীয় হিসেবেও প্রথম পেলেন এই পুরস্কার। ইতিপূর্বে আর কোন ভারতীয় এই সম্মান পাননি।

কোভিড পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ভার্চুয়াল বইমেলা হচ্ছে ফ্রাঙ্কফুর্টে। সারা বিশ্বের প্রকাশক ও লেখকেরা অনলাইনেই অংশ নিয়েছেন বইমেলায়। রবিবার সকালে ফ্রাঙ্কফুর্টের বিখ্যাত পাউল গির্জায় বিশিষ্ট আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করা হয় শান্তি পুরস্কার ।

জার্মান বই প্রকাশক ও ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে ১৯৫০ সাল থেকে ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলায় এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। এই পুরস্কারের ক্ষেত্রে অমর্ত্য সেন হলেন অক্তাভিও পাজ, ইহুদি মেনুহিন, ওরহান পামুক, চিনুয়া আচেবের মতো দিকপাল ব্যক্তিত্বের উত্তরসূরী।

বহু দিন ধরেই অর্থনৈতিক ক্ষেত্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ন্যায়বিচারের প্রশ্ন তুলে চলেছেন শান্তিনিকেতনের প্রাক্তনী অধ্যাপক অমর্ত্য সেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে সব সময় সরব রয়েছেন তিনি। কোনও দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো সেই দেশের দারিদ্র্য, ক্ষুধা ও ব্যাধি থেকে মুক্তির ক্ষেত্রে কী ভাবে সম্পর্কিত, তা নিয়ে লাগাতার কাজ করে চলেছেন। মানবিক বিকাশের সূচক সক্ষমতার ধারণাগুলিও তিনি তাঁর কাজের মাধ্যমে উপস্থাপন করে চলেছেন। যার ভিত্তিতে সমান সুযোগ ও মানবিক জীবনযাত্রার মূল্যায়ন করা যায়।

তবে এসবের জন্য বিদেশে সম্মান পেলেও বর্তমানে তাঁকে তাঁর নিজের দেশেই শাসকের রোষের মুখে পড়তে হয়েছে বারবার। কেন্দ্রে মোদী সরকার আসার পর নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় অমর্ত্য সেনকে।মানুষের সমানাধিকার ও ধর্মীয় সহিষ্ণুতার কথা বলায় বারবার হিন্দুত্ববাদীদের আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে তাঁর মত বিশ্ব বরেণ্য অর্থনীতিবিদকে। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কুৎসিত আক্রমণ চালায় আরএসএসের মত উগ্র হিন্দুত্ববাদীসংগঠন গুলি।

নিজের দেশের সরকার তাঁর সঠিক মূল্যায়ন না করতে পারলেও আন্তর্জাতিক স্তরে অধ্যাপক সেন সর্বোচ্চ আসনে আছেন, থাকবেন তাঁর জনকল্যাণমূলক অর্থনীতির ধারনার জন্য।

40