রা জা

(১)

আয়নায় নিজেকে কোনওদিনও স্বাভাবিক মনে হয়নি আমার। কেমন ডানদিকের দিকে বাঁ আর বাঁদিকের দিকে ডান। সম্পূর্ণ এক উল্টো আমি। ইদানিং এই সমস্যা নতুন এক মোড় নিয়েছে। বিপরীতে দাঁড়িয়ে থাকা যে কোনও মানুষকে উল্টো মনে হয়। বিশেষ করে সে ডানহাতি না বাম সেদিকে নজর দিয়ে ফেলি। মনে হয় আশ্চর্য এক রসিকতায় কে যেন রাস্তাঘাট বাস রিক্সা ল্যাম্পপোস্ট সবকিছুকে উল্টো করে দিয়েছে। পৃথিবীকে সোজা করে দেখার তীব্র এক বাসনা সজাগ হয়ে উঠছে দিন দিন

(২)

সদ্য যুবতী মেয়েরা যখন টিউশন থেকে মায়ের সঙ্গে ফেরে তখন তাদের চলন-বলন যেরকম হয়, বাবার সঙ্গে ফেরার পথে তার বিস্তর ফারাক থাকে। প্রাক্তন প্রেমিক প্রেমিকারা যদি অপ্রত্যাশিতভাবে হঠাৎ মুখোমুখি হয়ে যায়, ওদের চোখে মুখে কেমন এক ভ্যাবাচ্যাকা গল্প ফুটে ওঠে। ভিখারি শিশুকে সুকৌশলে এড়িয়ে যাওয়া অফিসবাবুর মনকেমন কোনও-কোনওদিন আটকে থাকে ট্রাফিক সিগনালে। দৃশ্যর পর দৃশ্য আমাকে বুঝিয়েছে, একজন অন্ধের সঙ্গে চোখওয়ালা মানুষের মূল তফাতের নাম ‘অবিশ্বাস’। 

শহরের অন্ধকারতম গলির মুখে দাঁড়িয়ে আমি এই সব কবিতা অনুবাদের বিফল চেষ্টা করি

(৩)

সেবক ব্রিজ থেকে দেখা তিস্তার জলে রোদের খেলা আমাকে বারবার ছেলেবেলার জোনাকিদের রূপকথা মনে করিয়ে দেয়। ছেলেবেলা এক কুয়াশার নাম। আমার শহরে আর কুয়াশা আসে না। স্কুলের বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হলে নিজের বয়স নিয়ে ভুল ধারণা ভেঙে যায়। আমি বন্ধুদের এড়িয়ে চলি, সুস্থ থাকার প্রার্থনা করি। তবু, কোনও কোনও জ্বরের রাতে সারা ঘর জুড়ে মা-মা গন্ধ ফুটে ওঠে। মায়ের নাকে কবেকার সিঁদুরের ছিটা প্রেমিক বাবার কথা মনে করিয়ে দেয়। মায়ের শূন্য সিঁথি মনে করায়, মানুষ কেমন ধুধু সাদা রেখে সুদূরে পাড়ি দিতে পারে

15