বাংলা ছোটগল্পে মুসলিম জীবন

পুরুষোত্তম সিংহ

একজন লেখক সবসময় রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লিখবেন। রাষ্ট্রের শোষণ, অত্যাচারের বিরুদ্ধে কলম ধরবেন। বাংলাদেশের  সংকটকালীন পরিস্তিতি গুলি সেলিনা হোসেনকে দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছে এসব আখ্যান। ফলে রাষ্ট্রীয় শোষণ ও অত্যাচারের চিত্র সেলিনা হোসেনের গল্পে আমরা দেখতে পাই। তেমনই একটি গল্প ‘লঙ্গরখানা’। এ গল্পের দুটি দিক আছে একদিকে অভাবের চিত্র, অন্যদিকে এই অভাবের চিত্রকে ঢাকা দিতে সরকারের নানা দূর্নীতিমুলক পদক্ষেপ। সেলিনা হোসেন কিছু ইঙ্গিতপূর্ণ শব্দের ক্রমাগত ব্যবহার করে একটি গল্পকে বহুত্বব্যঞ্জক স্তরে নিয়ে যান। এগল্পে এসেছে পাছায় লাথি মারার প্রসঙ্গ। আসলে সাধারণ মানুষের পাছায় সবাই লাথি মারতে চায়, আর শরীরের সবচেয়ে নরম অংশ বলে সবাই লাথি মেরে মজা পায়। আসলে প্রতিবাদহীন মানুষকেই তো শোষক সবচেয়ে বেশি শোষণ করে, আর সেই শোষণের জন্য সেই নরম জায়গাটাই বেছে নেয়।

            নূর আলি ও কাজলবানুর তেইশ বছরের সংসার। ইতিমধ্যেই নূর আলির কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এই কাজ বন্ধ যেন পাছায় লাথি মারা। একসময় কাজলবানু এ সংসার থেকে বিদায় নিতে চেয়েছিল কিন্তু এই অভাবের দিনে সে প্রশ্ন মুছে গেছে। কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নূর আলিও যেন বৃদ্ধ হয়ে যায়। সংসারে নিত্য অভাব বিদ্যমান, এরসঙ্গে আছে ছেলেমেয়েদের বায়না। কিন্তু পরিস্তিতি যখন সংকটের দিকে তখন বড় মেয়ে মজনু জানায় বাড়ির সবাই কাজ করলে আর অভাব থাকবে না। সে পিতাকে রিক্সা চালানোর পরামর্শ দেয়। কিন্তু এই অভাবের দিনে কে রিক্সা চালাতে দেবে ? ফলে কাজ মেলে না। শুরু হয় অভাবের দিন গোনা –“এখনতো এভাবে দিন গোনা শুরু হয়েছে। শুধু দিন গোনে না নূর আলী। ওর ভালোলাগে না। দিন গুনে কি মানুষ বাঁচতে পারে, নাকি মানুষের বাঁচা উচিত। বাঁচার আবার উচিত-অনুচিত কি ? মানুষ বিপদে পড়লে নতুন নতুন ভাবনা মাথা খামচে ধরে। শুধু কি মাথা, শরীরও। নূর আলীর চৌদ্দ বছর বয়সী মেয়েটিতো সুযোগ পেলেই বলে, বাজান মিল বন্ধ হইল আর তুমিও বুড়া হইলা। তোমার কাশি বাড়ল। হাঁটতে গেলে হাঁটু কাঁপে। আগেতো তোমার এইসব কিছুই ছিল না। আমাগো মা তোমার চাইতে অনেক শক্ত।“ (তদেব, পৃ. ২৪৬ ) আজ নূর কাজ না পালেও খুশির খবর এনেছে। কারখানায় কাজ হারানো শ্রমিকদের লঙ্গরখানা থেকে খিচুরি দেবে। নূর আলির পরিবার প্রথম দিন খিচুরি আনলেও রাতে পুলিশ এসে শাসিয়ে গেছে। সাধারণ মানুষের যা অসুবিধা তা সরকার দেখবে, কোনো লঙ্গরখানা থেকে সাহায্য নেওয়া যাবে না। সরকার সাহায্যও করবে না , আবার অপরে সাহায্য করলেও রাষ্ট্রের মানসম্মান যাবে। এইভাবে সরকার ও সংস্থার দ্বন্দ্ব সমাসের মাঝখানে পিষ্ট হতে হয় সাধারণ মানুষকে। এখানে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের কোন ভাষ্য নেই, সঙ্গে আছে পুলিশের অত্যাচার। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে দেশে দুর্ভিক্ষ নামেনি ফলে লঙ্গরখানার প্রশ্ন নেই। কিন্তু আজ নূর আলি প্রতিবাদ জানিয়েছে। কেননা শোষিত হতে হতে পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। শরীরে আর নরম মাংস নেই তাই এবার গর্জে উঠতে হবে –“পুলিশ সাব আপনের সরকারের পাছাডা অনেক বড় আর মোডা ওইখানে লাথি দিতে পারেন  না।“ (তদেব, পৃ. ২৫২ ) এই প্রতিবাদের ভাষ্যেই গল্পের শেষ। সেলিনা হোসেন শুধু কথক নন, সমাজ যন্ত্রণার ভাষ্যের কথক। ফলে গল্পের রন্ধে রন্ধে লুকিয়ে থাকে সাধারণ মানুষের সমস্যা এবং সেখান থেকে উত্তরণের পথ। আর মুসলিম সমাজ বলে সেখানে সমস্যা আরও প্রবল। সেলিনা হোসেনর এই গল্পগুলিকে কেবল দেশকালের সীমায় বদ্ধ রাখা যায় না। এই সমস্যা ও যন্ত্রণা সমাজের নিম্নবিত্ত সাধারণ মানুষের যন্ত্রণা – এখানেই তিনি দেশকালের গণ্ডি অতিক্রম করে এক বৃহৎ বঙ্গের মানুষের কথক হয়ে যান।

                    মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লেখা একটি অসাধারণ গল্প ‘দু’রকম যুদ্ধ’। সেলিনা হোসেন নারী হয়ে নারীর সমস্যাকে উপলব্ধি করেছেন। যেকোন যুদ্ধে বা সংগ্রামের অংশ গ্রহণে পুরুষের থেকে নারীর লড়াইটা ভিন্ন। পুরুষকে শুধু লড়াই করতে হয়, নারীকে শুধু লড়াই করলেই চলবে না সেইসঙ্গে নিজের মাংসকেও বাঁচিয়ে রাখতে হবে। ‘আপনা মাংসে হরিণা বৈরি’ – এই প্রবাদ যেন যুগ থেকে যুগান্তের নব ব্যাখ্যায় নিয়ে যায়। ফলে যুদ্ধে ক্ষেত্রে যাওয়া নারীকেও ভোগের শিকার হতে হয় যা পুরুষের নেই। সমাজ যুদ্ধক্ষেত্রে জয়ী পুরুষকে বীরের মর্যদা দেবে কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে ধর্ষিত নারী সমাজের কাছে বিদ্রুপের বস্তু। অথচ দুজনেই দেশের জন্য লড়েছিল। নারীর এই অবমাননা ও সংগ্রাম যেন নিজের সঙ্গেই , এ জন্যই গল্পের নাম ‘দু’ রকম যুদ্ধ’। বাড়ির সমস্ত কথাকে অবমাননা করে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল নূরজান। তিনজন পাকিস্তানি সেনা তাঁকে ভোগ করেছে কিন্তু এজন্য তাঁর আক্ষেপ নেই, তাঁর লক্ষ দেশের মুক্তি ঘটানো। তাই খানসেনা বাহিনী থেকে সে খবর পৌঁছে দিয়েছে নিজাম মাস্টারের কাছে। আজ হত হয়েছে খানসেনা বাহিনী, আর সে দোষ এসে পড়েছে নূরজানের ওপর। পিটিয়ে তাঁকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তাঁর  যুদ্ধ দুইরকম। এক নিজের সঙ্গে যুদ্ধ, নিজের শরীর বাঁচানোর লড়াই ও দেশ রক্ষা। আবার কখনও সে দুইভাবে যুদ্ধ করতে চেয়েছে নিজাম মাস্টারকে শুধু খবর পৌঁছে দেওয়াই নয়, খাবারে বিষ দিয়ে খানসেনার মৃত্যু ঘটাতে চেয়েছে। শরীরকে সে আর পাত্তা দেয় না, শরীরের কোনো মূল্য নেই তাঁর কাছে, তাঁর লক্ষ দেশের স্বাধীনতা। আর সে লক্ষে সে মৃত্যুকেও বাজি রাখতে চেয়েছে –“মারুক। আমার আর মরণের বাকি কি সার ?”  অভিমান আছে কিন্তু দেশের জন্য সে সমস্ত বিসর্জন দিতে চেয়েছে।

                        ‘পরজন্ম’ গল্প কাজেম আলি নামে এক বৃদ্ধের জীবনযন্ত্রণার গল্প। যে নিজের উত্তর পুরুষ রেখে যেতে চেয়েছে। চারপুরুষের বাস তাঁর ভিটেয়, কিন্তু উত্তরপুরুষ শূন্য করে রেখে যেতে চায় না সে। তার চেয়েও বড় কথা কাজেম আলির এই ভিটে এখন শহিদের ভিটে নামে পরিচিত। তাই শহিদের ভিটের উত্তরপুরুষ শূন্য করে যেতে সে রাজি নয় সে। কাজেম আলি ও আসমানী খাতুনের ছিল সুখের সংসার। ছয় সন্তান নিয়ে তাঁর আনন্দের জীবন। কিন্তু চার পুত্র শহিদ হয়েছে মুক্তিযুদ্ধে, কিছুদিন আগে স্ত্রী সহ দুই ছেলে মৃত হয়েছে কলেরায়। ফলে জীবন শূন্য হয়ে যায় কাজেম আলির। গোটা গল্প জুড়েই রয়েছে স্মৃতির সরণি ধরে নিজের অতীতে ডুবে যাওয়া। যেখানে রয়েছে আনন্দ, সুখ ও ঐশ্বর্য ভরা নিজের দাম্পত্য জীবন ও সন্তানদের আদর্শের জন্য পিতার গর্ব। আজ কাজেম আলির সঙ্গী সিকান্দার। সিকান্দার প্রথমে বিবাহের কথা বললেও সে প্রত্যাখ্যান করেছে। নিজের ঐশ্বর্য, লাক্ষার ব্যবসা নিয়েই ভুলে থাকতে চেয়েছে। লাক্ষার চাষকে কেন্দ্র করে স্ত্রীর সঙ্গে কথাবর্তার স্মৃতিচারণ, লাক্ষা চাষের আনন্দ, জয়ের উত্তেজনা নিয়ে সে নিজের নিঃসঙ্গতাকে ভুলে ছিল। কিন্তু কতদিন স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরে বাঁচবে ? কাজেম আলিরও একসময় ভাঙে। তখন জীবনের শূন্যতা বড় হয়ে ওঠে। এই শূন্যজীবনে অতীতের স্মৃতি আর কোনো আনন্দ আনে না। তবে একটাই আনন্দ তাঁর আজ আছে , তা হল এ ভিটে শহিদের ভিটে। তাই এ ভিটেকে সে শূন্য করে দিয়ে যেতে চায় না –

“শহীদের ভিটে তো অন্ধকার হতে পারে না ? এখানে চাই প্রতিদিনের প্রদীপের শিখা ! ভিটের জন্যে সকলের দরদ থাকতে পারে না। জোর করে কি ভালোবাসা হয় ! তারাই ভালোবাসতে পারে শহীদের রক্তের নোনা ঢেউ যাদের জীবনটা তছনছ করে দেয়। কাজেম আলীর চোখে জল আসে। যারা খুব কাছ থেকে ঘটনা দেখে তারা স্বার্থ খোঁজে। তারা যোগ্য উত্তরাধিকার হয় না। স্বার্থের অন্ধিসন্ধিতে জন্মায় ওদের দৃষ্টির বিভ্রম। তেমন পুরুষ চাই যে সেই নোনা রক্তের গন্ধ শুঁকে আপন ঐতিহ্য খুঁজে নেবে। কাজেম আলী হাতের তালুতে চোখের জল মোছে। বুকের দম –ধরা স্তব্ধতায় এখন হাতুড়ির আঘাত। চোখের জল প্রবল হয়।“ (তদেব, পৃ. ১৯৮ )

ভিটের সম্মান রক্ষা করতে আটষট্টি বছরের  কাজেম নতুন বিবাহ করতে চলেছে। সামাজিক নিন্দা ও গঞ্জনা আছে কিন্তু কাজেমের লক্ষ শহিদের স্মৃতিকে রক্ষা করা। নতুন স্ত্রী কুলসুমের কাছে তাঁর দাবি কিছুই নেই শুধু বংশরক্ষা ছাড়া –“হামার ভিটাত পাঁচ পুরুষের পত্তন চ্যাই। হামি ভিটা আন্ধার র‍্যাখ্যা মরব্যার প্যারবো না।“ (তদেব, পৃ. ১৯৯ ) এই বয়সে কাজেম আলি সন্তানের জন্ম দিতে পারবে কিনা তা আমাদের জানা নেই, জানতেও চাই না। আমরা শুধু দেখতে চাই কাজেম আলির জীবনযন্ত্রণার আত্মবিশ্লেষণ। যেখানে লেখিকা স্তরে স্তরে বিভাজন করে চরিত্রের নানা রহস্য উন্মোচন করেছেন। সেখানে কোনো ছলনা বা ভণ্ডামি নেই, চরিত্রের স্বাভাবিক প্রবণতাগুলিকেই তিনি প্রাধান্য দিয়েছেন। ফলে গল্পটি হয়ে উঠেছে হৃদয়গ্রাহী, আর এ কাজেম আলির অধিক বয়সে বিবাহের জন্য কোনো ঘৃণাবোধ আমাদের মনে জন্ম হয় না। 

                        মুনাফাবাদী কিছু মানুষ নারীকে সামনে রেখেই সুবিধা ভোগ করতে চায় তেমনি পুরুষের লালসার বহ্নির কাছে পরাজিত হতে হয় নারীকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ নিজের ইচ্ছা মত ব্যবহার করে নারীকে। নারী যেন এ সমাজের কাছে ব্যবহারকারী বস্তুতে পরিণত হয়েছে। এ ব্যবহার সেই মহাভারতের কাল থেকে শুরু হয়েছে। সেখানে শিশু, কন্যা, জয়া, জননী, বৃদ্ধার কোন প্রভেদ নেই, সেখানে সবাই ভোগের বস্তু। এই দৃষ্টিকোন থেকেই গড়ে উঠেছে সেলিনা হোসেনে ‘থাবা’ গল্পটি। ফুলেসা ও বানুসা গ্রাম থেকে এসে শহরের বস্তিতে আশ্রয় পেয়েছিল আব্দুল গফুরের দৌলতে। তবে এজন্য আব্দুল গফুর প্রতিনিয়ত ভোগ করত বানুসাকে। বানুসার এই কর্ম ধরা পড়ে যায় শিশুকন্যা ফুলেসার কাছে। সে জানতে পারে মায়া বড়ি হল জন্ম নিয়ন্ত্রণ ওষুধ। ফলে বানুসা কন্যাকে প্রহার করে। আসলে শহরে টিকে থাকতে হলে দেহ দান ছাড়া বস্তিতে টিকে থাকা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। ইতিমধ্যে বস্তি দখলকে কেন্দ্র করে শুরু হয় নতুন লড়াই। বস্তির মালিক ওয়াজেদ আলিকে উচ্ছেদ করে বস্তি দখল করতে চায় মমতাজ আলিরা। এই কর্মকাণ্ডের জন্য বলি হতে হয় বানুসাকে। পরিকল্পনা মাফিক বানুসার ঘরে আগুন লাগিয়ে সমস্ত দোষ চাপানো হবে আব্দুল গফুরেও ওপর। পরিকল্পিত গল্পটি এমন –“ধরেন বলা হবে বানুসা বিবি গর্ভবতী হলে আব্দুল গফুর সন্তান ফেলে দিতে বলে। বানুসা বিবি রাজি হয় না। সে সন্তানের পিতৃত্বের অধিকার চায়। তাই রেগে  আব্দুল গফুর তাকে আগুনে পুড়িয়ে মারে।“ (তদেব, পৃ. ২০৭) এই গোষ্ঠী দ্বন্দ্বে বলি হতে হয় বানুসাকে। এমনকি পুলিশও মমতাজ আলির পক্ষে ছিল। সমাজ রাজনীতির এক বিভীষিকা ময় পরিস্তিতির সম্মুখীন পাঠককে দাঁড় করিয়ে দেন লেখিকা এ গল্পে। ব্যক্তি মানুষের স্বার্থ চরিতার্থ করতে বলি দিতে হয়েছে বানুসাকে। কিন্তু কোন সমাজের কাছে সে তাঁর কন্যাকে রেখে যাচ্ছে ! যে সমাজে নারী মানেই ভোগের বস্তু। লেখিকার ব্যঙ্গ আরও তীব্র হয়ে ওঠে ফুলেসা সম্পর্কে পুলিশের মন্তব্যে –

“পুলিশের ক্রুদ্ধ দৃষ্টি তার মুখের ওপর পড়ে। ব্যঙ্গমিশ্রিত কণ্ঠে বলে, ও আবার শিশু কি ? ওতো মেয়ে !

সেই পুলিশের থাবার নিচে ফুলেসা যখন হাঁসফাঁস করছে অন্য পুলিশ তখন রাইফেলটা মাটিতে দাবিয়ে বলে, মেয়েরা আবার শিশু হয় নাকি !” (তদেব, পৃ. ২১০)

নারী মানেই এই পঙ্কিল সমাজের কাছে ভোগের বস্তু। সেখানে জাতি ধর্ম গোত্র বয়সের কোন প্রভেদ নেই আছে শুধু লালসার দৃষ্টি। এই লালসাময় দৃষ্টির কাছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কোন সমাজকে আমরা রেখে যাব লেখিকার ব্যঙ্গবান সেদিকে। যেখানে ফুলেসাদের কোনো নিরাপত্তা নেই, ফলে এক দোদুল্যমান সময়ের নিযার্তনে নিযার্তিত নারীর প্রাককথন হয়ে ওঠে সেলিনা হোসেনের গল্প।

14