ওয়েব ডেস্ক অক্টোবর ১৭,২০২০: একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেই চলছে যোগীর রাজ্যে। বারবার ধর্ষিত হয়ে খুন হচ্ছে দলিত শ্রেণির মেয়েরা।হাথরস, বলরামপুর, ভাদোহির পর এবার বাঁরাবাঁকি, কানপুর। উত্তর প্রদেশে মেয়েদের সঙ্গে নৃশংসতা ঘটেই চলেছে। হাথরসের বুলগড়ি গ্রামের দলিত তরুণীর মতোই বারাবাঁকি এবং কানপুরে খেতের মধ্যেই দলবেঁধে ধর্ষণ করা হয়েছে দুই দলিত মেয়েকে। বারাবাঁকিতে শ্বাসরোধ করে অভিযুক্তরা খুন করেছে নির্যাতিতাকে। কানপুরের নির্যাতিতা নাবালিকার চিকিৎসা চলছে। একদিকে হাথরসের নৃশংসতাকে ধামাচাপা দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে উত্তর প্রদেশ সরকার, তার মধ্যেই একের পর এক দলিত তরুণীর ধর্ষণের খবর জানা যাচ্ছে। বারাবাঁকিতে ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার, কানপুরে বৃহস্পতিবার। শুক্রবার একসঙ্গেই এই দু’টি ঘটনার খবর পাওয়া গিয়েছে।

বারাবাঁকিতে বছর ১৮’র ওই দলিত যুবতী বুধবার বিকালে চাষের খেতে যায়। কিন্তু অনেকক্ষণ পরও না ফেরায় বাড়ির লোকজন খুঁজতে বেরোন। নির্যাতিতার বাবা জানান, মেয়েকে খুঁজতে বেরিয়ে খেতের মধ্যে থেকে ওর দেহ খুঁজে পাই। অভিযুক্তরা দলবেঁধে ধর্ষণ করে। তারপর শ্বাসরোধ করে খুন করেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে, নমুনাও সংগ্রহ করেছে বলে দাবি করলেও এদিন রাত পর্যন্ত তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে কিছুই স্পষ্ট জানানো হয়নি। কাউকে গ্রেপ্তারও করেনি পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দাবি করেছেন, সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

সেপ্টেম্বরের ১৪ তারিখ হাথরসের বুলগড়ি গ্রামে দলিত এক তরুণীকে দলবেঁধে ধর্ষণের পর খুন করে তথাকথিত উঁচুজাতের চার যুবক। ১৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়েও জিততে পারেননি নির্যাতিতা। তাঁর মৃত্যুর পর দেহ কেড়ে নিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া থেকে ধর্ষকদের সমর্থনে বিজেপি’র মিটিং-মিছিলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যোগী আদিত্যনাতের রাজ্যে আসলে অপরাধীদেরই ‘আচ্ছে দিন’ চলছে। বিভিন্ন বয়সের মেয়েরা নির্যাতনের শিকার হলেও পুলিশ-প্রশাসন তাঁদের সুরক্ষায় হাতগুটিয়ে থাকে। আর অপরাধীদের বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা চালায়। হাথরসের ঘটনায় গোটা দেশ প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে। অভিযুক্ত চারজনকে বাধ্য হয়ে আদিত্যনাথের পুলিশ গ্রেপ্তার করে। কিন্তু তা ছিল শুধুই ‘আইওয়াশ’। তলে তলে প্রমাণ লোপাটের কারসাজি চালিয়ে যায় আদিত্যনাথের প্রশাসন। যার ফলস্বরূপ দেখা যাচ্ছে, হাথরস জেলা হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজই উধাও হয়ে গিয়েছে। আবার খেতের যে অংশ থেকে উদ্ধার হয়েছিল নির্যাতিতার দেহ, সেটিও ঘিরে ফেলা হয়নি। মাসখানেক তা খোলাই পড়েছিল। অপরাধের চিহ্নই মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছে। দেশের বৃহত্তম রাজ্য উত্তর প্রদেশ আদিত্যনাথের আমলে মহিলা নির্যাতনে শীর্ষে উঠে এসেছে। প্রতিদিনই রাজ্যের কোথাও না কোথাও ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। লোকদেখানো গ্রেপ্তারি হলেও কঠোর শাস্তি পায় না অভিযুক্তরা। ধামাচাপা দিয়ে দেওয়া হয় অপরাধ। হাথরসের ঘটনায়ও নিহত তরুণীর পরিবারকে ঘরে আটকে রেখে বাইরের কারো সঙ্গে কথা বলতে না দিয়ে মোড় ঘোরানোর চেষ্টা চলেছে। সিবিআই’কে তদন্তভার হস্তান্তর করে আদিত্যনাথ নিজের পায়ের তলার মাটি শক্ত রাখার চেষ্টা করেছেন। সুকৌশলে জাতপাতের রাজনীতিতে মদত জুগিয়েছেন। তবে পরপর ধর্ষণের খবর ছড়িয়ে পড়ায় বিজেপি রাজত্বে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।

16