শৌভিক রায়

জলদাপাড়া

আলিপুদুয়ার জেলার ভুবনবিখ্যাত জলদাপাড়া রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রে একটি উজ্বল নাম। একশৃঙ্গ গন্ডারের আবাসভূমি জলদাপাড়া ১৯৪১ সালে অভয়ারণ্যের মর্যাদা পায়। ২১৬ বর্গকিমির এই বনভূমির ভেতর দিয়ে প্রবাহিত তোর্ষা, মালঙ্গী, সলং, চিড়াখাওয়া, শিশামারা, ভালুকা, বুড়ি তোর্ষা। একশৃঙ্গ গন্ডারের পাশাপাশি রয়েছে হাতি, হরিণ, হগ ডিয়ার, বাইসনের মতো প্রাণী, ক্রেইত, কোবরা, পাইথনের মতো সরীসৃপ। জলদাপাড়ায় দেখা যায় হর্নবিল, ক্রেস্টেড ঈগল, ফ্লোরিক্যান, কাঠঠোকরা, ময়ূর ইত্যাদি প্রায় ২৪০ প্রজাতির পাখি। 

জলদাপাড়া নামকরণের পেছনে রয়েছে আদিম জনগোষ্ঠী ‘জলদা`সম্প্রদায়। মনে করা হয় যে, তাদের থেকেই এই নামকরণ। যদিও আজ আর তাদের অস্তিত্ব নেই এখানে। জলদাপাড়া লাগোয়া মাদারিহাটের নামের পেছনেও মাদারি সুফী সম্প্রদায় রয়েছে মনে করা হয়। এখানে মাদারির খেলা দেখানো হতো। অবশ্য মাদার গাছের প্রাচুর্যের জন্যও মাদারিহাট নামকরণ- এই তথ্যটি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। 

জলদাপাড়ার বিস্তার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। বিভিন্ন দিক থেকে প্রবেশ করা যায় এই বনাঞ্চলে। তবে মাদারিহাট দিয়ে হলং টুরিস্ট লজে পৌঁছনোটাই রেওয়াজ। পূর্ব জলদাপাড়া দেখতে আজকাল শালকুমার অঞ্চলে ভিড় জমাচ্ছেন অনেকে। আবার জলদাপাড়া রেঞ্জে থাকা চিলাপাতা-মেন্দাবাড়ির কদর কম নয়। যদিও এই দুটি জায়গা নিজেদের মতো আলাদা। আবার জলদাপাড়ার পশ্চিমে খয়েরবাড়িও অফবিট একটি জায়গা। ফালাকাটার দিক থেকে কুঞ্জনগর জলদাপাড়া ঘেসে থাকা একটি সুন্দর নেচার পার্ক।

আর জলদাপাড়ার নিজের শহর মাদারিহাট ছোট্ট ও সুন্দর….খানিকটা ছবির মতো। এখন থেকে খুব কাছে জগৎবিখ্যাত টোটোপাড়া। হাসিমারা হয়ে ফুন্টশেলিংও খুব একটা দূরে নয়। 

জলদাপাড়ায় এলিফ্যান্ট সাফারি বা কার সাফারিতে দেখা যায় গন্ডার-সহ নানা প্রাণী। হলং টুরিস্ট লজের সামনের ঝোরায় রাতের বেলায় জল খেতে আসে নানা প্রাণী। 

চাঁদনী রাতে জলদাপাড়া যে সুন্দর রূপোলি পোশাক পরে তাতে এক অনির্বচনীয় অপার্থিব আনন্দে তিরতির করে সমস্ত মনপ্রাণ। আর তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে হয়তো উড়ে যায় কোনো রাতজাগা পাখি অদ্ভুত ডাকে মাদকতা ছড়িয়ে দিয়ে….

45