শৌভিক রায়

টি-টুরিজম?

টি-টুরিজম…চা-বাগানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা পর্যটন।

পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং, কেরলের মুন্নার বা ওয়েনাড, তামিলনাড়ুর কলুক্কুমালাই বা নীলগিরি অথবা অসমের বেশ কিছু জায়গায় ব্যাপারটি জনপ্রিয়তা লাভ করলেও, ডুয়ার্সে সেভাবে টি-টুরিজমের প্রসার ঘটে নি (একেবারে নেই বলছি না)… 

আসলে পরিকাঠামোগত কিছু অসুবিধে, উপযুক্ত থাকবার ব্যবস্থা এবং শুধুমাত্র চা-বাগানকে ঘিরে পর্যটন সম্পর্কে বিশেষ ধারণা না থাকা বোধহয় এই পর্যটন প্রসারে খানিকটা অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সেভক পার হয়েই মালবাজার থেকে একদম সংকোশ পর্যন্ত অসাধারণ চা-বাগানগুলির অনেককে নিয়েই চালু করা যায় টি টুরিজম, সঙ্গে থাকবে প্রাচীন ডুয়ার্সের অনবদ্য ফ্লেভার। 

রাজধানী কলকাতা থেকে দূরত্ব বিচারে সবচেয়ে দূরের ব্লক কুমারগ্রামের সংকোশ চা-বাগানকে নিয়ে গড়ে উঠতে পারে এরকমই টি-টুরিজম। কেননা কাছেই রয়েছে আরও দুটি চা-বাগান- কুমারগ্রাম ও নিউ ল্যান্ডস। গুডরিক প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির অধীনে থাকা এই চা-বাগানটি অনন্যসুন্দর। আয়তন ৯৩৩.২৫ হেক্টর। অত্যন্ত সুন্দর এই চা-বাগানে হাসপাতাযে চিকিৎসা থেকে শুরু করে মোটামুটি সব সুযোগ-সুবিধে পান চা-শ্রমিকেরা। বাগানের পাশ দিয়েই বয়ে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ-অসম বিভাজনকারী সংকোশ নদী। চা-বাগান লাগোয়া ছোট্ট জনপদে ডুয়ার্সের বেশ কিছু প্রাচীন বাড়ি, মন্দির, চার্চ অনবদ্য লাগে। মিশুকে সরল মানুষরাও ছোট করে আপন করে নেন হঠাৎ চলে আসা কোনো পর্যটককে। এখান থেকে কালিখোলা খুব কাছে। খুব কাছে রায়ডাক নদী ও নিউল্যান্ডস চা-বাগান পার হয়ে বক্সার জঙ্গল ঘেঁষা বনবস্তি (ইতিপূর্বেই বিবৃত হয়েছে সে কথা)…

সবুজে মোড়া তরঙ্গায়িত এই ভূমি একেবারেই আলাদা। 

রাত্রিযাপনে মনে হবে সভ্যতা থেকে যেন কতদূরে বসে আছি। 

সাক্ষী থাকবে বিরাট আকাশের মিটমিট করা কোনো এক তারা। 

আর ক্যাম্প ফায়ারের আগুন নিভে গেলেও সংকোশ বইবে তার নিজের মতোই উজান বেয়ে…    

63