১৬/১০/২০২০,ওয়েবডেস্কঃ ছবি ও তথ্য শুভময় ব্যানার্জি।

এই পাখিটি কে প্রথম দেখাতে একটু রাগী বলে মনে হলেও, আসলে কিন্তু এরা খুবই নিরীহ।
খাবারের সন্ধানে পোকামাকড় এর পিছনে দৌড়ঝাঁপ করতে হয় বলে, এদের স্বভাব এ চঞ্চলতা একটু বেশি চোখে পড়ে।

পাখিটির ইংরেজি নাম: ‘রিভার ল্যাপউইং’(River lapwing) | বাংলা নাম :-নদী টি -টি, বৈজ্ঞানিক নাম: ভ্যানেলাস ডুভাওসেলি (Vanellus duvaucelii) |

খাদ্যাভ্যাস:-
এরা ছোট ছোট দলে অথবা একাকী খাবারের সন্ধানে বিচরন করে। এরা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে হাটু অবধি কাদা-জলে নেমে শিকার খোঁজে। বিভিন্ন রকমের পোকামাকড় , কীট, কেঁচো ও শামুকজাতীয়, ফড়িং এরা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে ।

বিস্তৃতি:-
নদীর অববাহিকা এবং পাথুরে এলাকাতে এদের বেশি বিচরণ করতে দেখা যায়। লম্বা পা যুক্ত এই পাখিটি মূলত এশিয়া মহাদেশের ভারত, বাংলাদেশ, মায়ানমার, কম্বোডিয়া ,থাইল্যান্ড প্রভৃতি দেশে দেখা যায় ।

দেহের গঠন:-
এদের দৈর্ঘ্য মোটামুটি ২৯ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার এবং ওজন ১৪০ থেকে ১৫০ গ্রামের এর মত হয়ে থাকে ।এদের মাথায় কালো রঙের একটা ঝুঁটি দেখা যায়। মুখ , মাথা, ও গলা এদের কুচকুচে কালো বর্ণের। পিঠ ও লেজ বাদামি রংয়ের হয় । এদের ঠোঁট ও চোখ কালো। লেজের সামনের অংশ কালো বর্ণের। গলার নিচ থেকে বুক পর্যন্ত বাদামি ও বুকের নিচের অংশ থেকে লেজের নিচের অংশ পর্যন্ত সাদা । এদের পা লম্বা শুরু ও কালো বর্ণের। পুরুষ ও স্ত্রী পাখির আকৃতিগত বিশেষ পার্থক্য না থাকলেও, পুরুষ পাখিরা আকৃতিতে স্ত্রী পাখির তুলনায় খানিকটা বড় হয়। এরা টিপ টিপ বা ডিড ডিড স্বরে ডাকে।

প্রজনন:-
এরা সাধারণত নদী উপত্যকার পার্শ্ববর্তী জমিতে ঘাস পাতা বিছিয়ে বাসা বানায়। এদের প্রজনন সময় মূলত মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত হয় । এরা একসাথে দু-তিনটি করে ডিম পাড়ে । ডিমে তা দিয়ে ফুটতে ২০ থেকে ২৪ দিন সময় লেগে যায় ।

সংরক্ষন:-
এই পাখির সংখ্যা শিকারিদের অত্যাচারে ও পরিবর্তনশীল প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে ক্রমান্বয়ে কমে যাচ্ছে। আই ইউ সি এন এই প্রজাতিটিকে লাল তালিকাভুক্ত (Near threatened ) করেছে।
এই পৃথিবী শুধু মানবজাতির বসবাসের জন্য নয় ,এই পাখিগুলো যাতে পৃথিবীতে মুক্তভাবে, সুস্থ পরিবেশে বেঁচে থাকতে পারে তার নিশ্চয়তা প্রদান করার গুরু দ্বায়িত্ব আমাদের মানুষ জাতির উপরেই ।

56