১৪/১০/২০২০,ওয়েবডেস্কঃ

চাপের কাছে নতিস্বীকার? নাকি মিথ্যা অভিযোগের জাল বুনেছিলেন? প্রাক্তন বিজেপি নেতা ও বাজপেয়ী মন্ত্রিসভার সদস্য স্বামী চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিলেন শাহাজানপুরের সেই আইনের ছাত্রী৷ বিরোধীদের দাবি, চাপের কাছে মেয়েটি নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে৷ অপরদিকে আদালতের কাছে অভিযোগকারিনীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আর্জি জানিয়েছে উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন৷

গতবছর ২৩ অগস্ট ফেসবুকে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে উত্তরপ্রদেশের ২৩ বছরের ওই তরুণী দাবি করেন, বিজেপির প্রভাবশালী নেতা, প্রাক্তন মন্ত্রী চিন্ময়ানন্দ তাঁকে যৌন নির্যাতন করেছেন। রহস্যজনক ভাবে পরদিন থেকেই তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। মেয়ের খোঁজ না পেয়ে ছাত্রীর পরিবার পুলিশের দ্বারস্থ হয়। শেষ পর্যন্ত রাজস্থানের জয়পুর থেকে খোঁজ মেলে ওই তরুণীর। সে সময় তাঁকে আদালতে পেশ করা হলে, তরুণী দাবি করেন, চিন্ময়ানন্দের ভয়েই তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। ছাত্রীর আনা অভিযোগের ভিত্তিতে গতবছর ২৩ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করা হয় চিন্ময়ানন্দকে। উত্তরপ্রদেশের সহারনপুরের আশ্রম থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেন বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)-এর অফিসাররা।

শাহজাহানপুরের আইনের পড়ুয়া ওই তরুণী প্রথমে চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনেন। অভিযোগ করেন শৌচালয়ের গোপন ক্যামেরায় তাঁর নগ্ন ছবি শ্যুট করেছেন চিন্ময়ানন্দ। পরে ব্ল্যাকমেইল করে বিজেপি নেতা তাঁকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। প্রাণনাশের হুমকিও দেন। চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে প্রমাণ স্বরূপ মোট ৪৩টি ভিডিয়ো পেন ড্রাইভে করে তদন্তকারীদের কাছে জমা দেন ওই তরুণী। আইন ছাত্রীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তে নেমে কলেজের হোস্টেল-সহ চিন্ময়ানন্দের বেডরুমে গিয়েও তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেন তদন্তকারীরা।

মঙ্গলবার এলাহাবাদ হাই কোর্টের নির্দেশে গঠিত লখনউয়ের বিশেষ আদালতে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্বামী চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে আনা ধর্ষণের মামলার শুনানি ছিল। সেখানে নিজের করা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন ওই যুবতী। নিজের পুরনো অবস্থান থেকে সম্পূর্ণ ভোলবদল করে জানান, প্রাক্তন বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে তিনি যৌন নির্যাতন বা ধর্ষণের কোনও অভিযোগই করেননি। তাঁর এই কথা শোনার পরেই সরকারি আইনজীবীরা মিথ্যা অভিযোগ করার জেরে আদালতের কাছে ওই যুবতীর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৪০ ধারায় মামলা শুরুর আবেদন জানিয়েছেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে চিন্ময়ানন্দকে গ্রেপ্তার করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। তাসত্ত্বেও ধর্ষণের অভিযোগ মামলার চার্জশিটে উল্লেখ করেনি উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। এবছরের ফেব্রুয়ারি মাসে জামিন পেয়েছিলেন চিন্ময়ানন্দ। তার দিন কয়েক পরই তরুণীকেই আটক করে পুলিশ। অভিযোগ, চিন্ময়ানন্দের থেকে পাঁচ কোটি টাকা হাতাতে চাইছিলেন তিনি। পরে তরুণী জামিন পান।

উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনার পর লখনউয়ের বিশেষ আদালতের বিচারক পিকে রাই ওই যুবতীর বক্তব্য নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি এর একটি করে কপি ওই ছাত্রী এবং অভিযুক্ত স্বামী চিন্ময়ানন্দের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আজ অর্থাৎ বুধবার ওই মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা।

86