শুভদীপ পন্ডিত

বিশেষ প্রতিবেদন অক্টোবর ১৩,২০২০: ক্লাস টু এর উশংসী, নৃত্যশিল্পী নবনীতা আর ফার্মাসির স্টুডেন্ট ঋতায়ন। ওরা তিনজনই রায়গঞ্জের বাসিন্দা। কেউ কাউকে চেনেন না। আজ ছিল তাঁদের কাছে বছরের একটি বিশেষ দিন। তাঁদের জন্মদিন। এই জন্মদিন উপলক্ষে তাঁরা এক সূত্রে বেঁধে গেলেন। আলাপ হল এই তিনটি পরিবারের এবং একই সাথে তাঁরা অংশীদার হয়ে গেলেন আরো প্রায় দেড়শটি পরিবারের সাথে।

এই জন্মদিন পালন করতে তাঁরা পৌঁছে গিয়েছিলেন রায়গঞ্জ লেভেল ক্রসিং এর পাশে শ্রমজীবী ক্যান্টিনে। রায়গঞ্জ শহরের সৎসঙ্গ লাগোয়া হাই রোডের পাশে বসবাস কিছু শ্রমজীবী মানুষের। তাঁদের কেউ ভ্যানচালক, কেউ রিক্সা টানেন। কেউবা ব্যান্ডপার্টিতে বিভিন্ন ইন্সট্রুমেন্ট বাজান। লকডাউন এর প্রভাব কমবেশি তাঁদের সবার উপর পড়েছে। রোজগারে টান পড়েছে। ফলে ছিলনা দুবেলা-দুমুঠো আহার। এসব প্রান্তিক শ্রমজীবী মানুষ যারা লকডাউন এ বিপন্ন তাঁদের সাহায্যে এগিয়ে আসে সিপিআইএম। শুরু হয় শ্রমজীবী ক্যান্টিন। তাও প্রায় মাস দেড়েক হতে চলল। মাত্র কুড়ি টাকার বিনিময়ে আহার। তার বন্দোবস্ত করছে এই শ্রমজীবী ক্যান্টিন। সৎসঙ্গের পাশে ক্যান্টিন চালু হলেও স্থানান্তরণ ঘটেছে। এখন চলে এসেছে হাইরোড লাগোয়া রেলগেটের পাশে। কিন্তু একদিনের জন্যেও বন্ধ থাকে নি। মানুষের আহার নূন্যতম মূল্যে যোগান দিয়ে চলেছেন তাঁরা।

আজ ছিল ক্লাস টুয়ের উশংসী রায়গঞ্জের প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী নবনীতা ও ফার্মেসির প্রথম বর্ষের ছাত্র ঋতায়ন সরকারের জন্মদিন।

এই তিনজনের প্রত্যেকেই ১৫০ জন লোকের একদিনের খাবারের ব্যবস্থার জন্য অর্থমূল্য প্রদান করে গেলেন শ্রমজীবী ক্যান্টিনে। নিজের কন্ট্রিবিউশন নিজের চোখের সামনে কাজে লাগছে দেখে এবং যে সুচারুভাবে শ্রমজীবী ক্যান্টিন তা শ্রমজীবী চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের মধ্যে বিলি করছেন তা তাদের আপ্লুত করেছে। করোনায় ব্যাহত হয়েছে সোশ্যাল মিক্সিং। এবার জন্মদিন উপলক্ষে না বাড়িতে না হোটেলে, কোথাও আত্মীয় বন্ধুবান্ধব সমাগম হচ্ছে না। শ্রমজীবী ক্যান্টিনের কথা তাঁরা লোকমুখে শুনে তাঁদের জন্মদিন সেলিব্রেট করলেন শ্রমজীবী ক্যান্টিনের আরো ১৫০ জন সদস্যদের সাথে। যাওয়ার সময় দৃশ্যত আপ্লুত এই তিনটি পরিবার জানিয়ে গেলেন আসছে বছর জন্মদিনের জন্য অপেক্ষা করবেন না। এ বছরই পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জন্মদিন পালন করবেন শ্রমজীবী ক্যান্টিনের সদস্যদের সাথে।

123