ওয়েব ডেস্ক অক্টোবর ১০,২০২০: জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ ত্রুটি ও প্রতিকার বিষয়ে এবিটিএ, এবিপিটিএ উত্তর দিনাজপুর জেলা কমিটির উদ্যোগে ভার্চুয়াল সেমিনার অনুষ্ঠিত হয় রায়গঞ্জ ইনস্টিটিউট মঞ্চে।
বক্তব্য রাখেন এবিটিএ উত্তর দিনাজপুর জেলা সম্পাদক বিপুল মৈত্র, এবিপিটিএ উত্তর দিনাজপুর জেলা সম্পাদক, কৃষ্ণেন্দু রায় চৌধুরী, কালিয়াগঞ্জ মিলনময়ী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা লাবনী চট্টোপাধ্যায় রায়।
মূল বক্তা ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন উচ্চ শিক্ষা মন্ত্রী অধ্যাপক সুদর্শন রায় চৌধুরী।

অধ্যাপক চৌধুরী ভার্চুয়াল বক্তব্যে বলেন, জাতীয় শিক্ষানীতি যে সময়ে যে ভাবে প্রকাশিত হয়েছে তা যথার্থ নয়। অনেক মানুষের মাঝে আলোচনা হয়ে এই শিক্ষানীতি নিয়ে আলোচনা হবার পর ৬৬ পৃষ্ঠার নয়া জাতীয় শিক্ষানীতি দলিল প্রকাশিত হয়েছে বলে সরকার মত প্রকাশ করেছেন এ বিষয়ে অনেক ধোঁয়াশা রয়েছে।
তিনি আরো বলেন,রাজ্যে এ বিষয়ে পঞ্চায়েত গুলিতে আলোচনা হয়েছে এটা বিশ্বাস যোগ্য নয়। বিজেপি রাজনৈতিক দলগুলোর যে সংগঠন গুলো রয়েছে তাদের সঙ্গে শুধু আলোচনা হয়েছে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, শিক্ষা নীতি নিয়ে কি সরকার অমর্ত্য সেন, অভিজিৎ বিনায়ক চৌধুরী প্রমুখ দের সাথে কী সরকার এ বিষয়ে কথা বলেছে? শিক্ষা যুগ্ম তালিকা, এই নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি।
নয়া শিক্ষা নীতিতে সাধারণের শিক্ষা ব্যবস্থা আক্রান্ত। এক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করার মধ্য দিয়ে প্রকৃত পক্ষে স্কুল ছুট শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেড়ে যাবে, কেননা বহুত্ববাদী দেশে এ ব্যবস্হা কার্যকর হতে পারে না। ভাষা শিক্ষা নীতি যা উল্লেখ হয়েছে তা বহুভাষিক এই দেশে কার্যকর হওয়া অসম্ভব। পিছিয়ে পড়া অংশ হিসেবে কে পড়বে তার কোন উল্লেখ নেই।
দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ক্রমশঃ খারাপ হতে পারে এমন আশঙ্কা রিজার্ভ ব্যাংক করছে। এরূপ অবস্থায় শিক্ষা খাতের অধিক ব্যয় কিভাবে নির্বাহ হবে?
বর্তমান সময়ে সকলের স্বাস্থ্য ব্যবস্হা ও জীবিকার ব্যবস্থা না করে শিক্ষা নীতি লাগু করার কারণ কি?
তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, এটা পরিষ্কার যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো বাতিল করা ও কর্পোরেট জগতের হাতে শিক্ষা তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে এ সময়ে এই শিক্ষা নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে।
পাঠক্রম, শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন সব ক্ষেত্রে গণতন্ত্র কে ধূলিসাৎ করে একতন্ত্র কায়েম করার লক্ষ্যে এই শিক্ষা নীতি প্রস্তুত হয়েছে।
সার্বিক ভাবে এই শিক্ষা নীতি কার্যকর হলে শিক্ষা শুধুমাত্র ব্যয়বহুল পণ্য হবে। তিনি আশা ব্যক্ত করেন যে, নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতি, নিখিল বঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা সমিতি ও এস টি এফ আই কে যৌথভাবে আন্দোলন সংগঠিত করতে হবে সাধারণের শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে।

83