খরিদ্দারের অভাবে দোকান প্রায় চলছিলই না। দুবেলা স্বামী স্ত্রীর আহার জোটানো মুশকিল হয়ে পরেছিল আশি বছর বয়সী কান্ত প্রসাদের। বৃহস্পতিবার হঠাৎ করেই চিত্র যেন রাতারাতি বদলে গেল। লম্বা লাইন ধাবার সামনে খাদ্য রসিকদের। কান্তা প্রসাদের ছোট্ট ধাবা, ‘বাবা কি ধাবা’। বেঁচে থাকার তাগিদে আশি বছর বয়সেও সস্ত্রীক এই খাবারের স্টল টি তিনি চালিয়ে আসছেন। কিন্তু লক ডাউনের পর মানুষ বাইরে খাওয়া, বিশেষ করে রাস্তায় খাবার খাওয়া বন্ধ করে দেওয়াতে ধাবা প্রায় খরিদ্দার শুন্য হয়ে পরেছিল। বৃহস্পতিবার হঠাৎ করেই যেন স্বপ্ন দেখার মত বাবা বিষ্ময়ে দেখলেন তার দোকানে খাবার খাওয়ার জন্য বিরাট লম্বা লাইন পরে গেছে। অনেক টা সিনেমার মত বা আরো ভালো করে বললে ঠিক যেন আমাদের ছোট বেলায় পড়া রুপকথার গল্পের মত হঠাৎই যেন বাবার দুঃখের ইতি ঘটলো। কিন্তু কী এমন ঘটনা ঘটল যে বাবার দোকানের ছবিটা এমন রাতারাতি বদলে গেল?

আসলে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক সহৃদয় ব্যক্তির একটি ভিডিও পোস্ট সব কিছু যেন রাতারাতি বদলে দিয়েছে। কান্নায় ডুবে থাকা এক বৃদ্ধের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল ভিডিওটি গৌরব ওয়াসান নামে এক ব্যক্তি তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে @ ইউটিউবেসোডোফিশিয়ালে শেয়ার করেছিলেন। “80 বছর বয়সী দম্পতি সেরা মটর পনির বিক্রি করছেন। তিনি 1988 সাল থেকে তার স্ত্রীর সাথে যৌথভাবে এই খাবারের স্টল চালাচ্ছেন। ‘বাবা কা ধাবা’ ডাল, চাওয়াল ও রোটির মতো রান্না করা খাবার নামমাত্র দামে বিক্রি করে। ‘

দিল্লির মালব্য নগরে শেষ বয়সে শুধু বেঁচে থাকার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন । কোভিড -19 এর কারণে লকডাউনের সময়, লোকেরা বাইরে খাওয়া বন্ধ করায় প্রসাদ তার দৈনিক আয় মারাত্মক হ্রাস পেয়েছে । এই বৃদ্ধের বেঁচে থাকার জন্য আমাদের সাহায্য প্রয়োজন ” ভিডিওটি শীঘ্রই ট্রেন্ডিং শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ায়। আর ফলশ্রুতিতেই বৃহস্পতিবার ছবিটা সম্পূর্ণ বদলে গেছে বৃদ্ধ কান্ত প্রসাদের জীবনে। বৃদ্ধ বার বার ধন্যবাদ জানিয়েছেন ঐ সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট কর্তাকে।

41