ওপেন করতে নেমে রাহুল ত্রিপাঠির দুরন্ত ৮১ রান KKR-কে ম্যাচ জিততে সাহায্য করেছে। কিন্তু কলকাতার জয়ের অন্যতম কারিগরকে ভুললে চলবে না। তিনি বরুণ চক্রবর্তী। তিন বছর আগেও IPL-এ চিপক স্টেডিয়ামে বসে আর পাঁচজন দর্শকদের মতো খেলা দেখতেন। আসতেনও কেবল মহেন্দ্র সিং ধোনির ব্যাটিং দেখবেন বলে। আর বুধবার সেই ধোনির উইকেট নিয়েই দলকে ম্যাচ জেতালেন। পরে সাক্ষাৎকারে এসে স্বীকারও করে নিলেন, বুধবার ধোনিকে বল করাটা তাঁর কাছে সত্যিই স্মরণীয় ছিল। বুধবার চেন্নাই ম্যাচের পর নিজের করা বোলিংয়ের উপরেই যেন বিশ্বাস করতে পারছেন না। কারণ তামিলনাড়ুর এই রহস্য স্পিনারই ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মহেন্দ্র সিং ধোনির উইকেট নিয়ে কলকাতা নাইট রাইডার্সের জয়ের পথ প্রশস্ত করেছিলেন। এদিনই প্রথমবার চার নম্বরে নেমেছিলেন ধোনি এবং ওই সময় ম্যাচে কার্যত চালকের আসনেই ছিল CSK-ও। কিন্তু বরুণের ওই একটি বলই যেন পুরো দলের মানসিকতায় পরিবর্তন এনে দেয়। এরপরই ম্যাচের রাশ নিয়ে নেন কেকেআর বোলাররা।এহেন বরুণের ক্রিকেটে আসার গল্পটা কিন্তু অন্যরকম!‌ অন্য পেশা থেকে সরে এসে ক্রিকেটকে নেশা বানিয়ে ফেলা, উদাহরণ অপ্রতুল নয়। কিন্তু ক্রিকেট ছেড়ে প্রথমে অন্য পেশায় চলে যাওয়া। তার পর সেটা ছেড়ে ফের ক্রিকেটে ফিরে এসে অবিশ্বাস্য দর প্রাপ্তি। এ রকম রূপকথার প্রত্যাবর্তনের কাহিনি কেউ কখনও শুনেছে? মনে পড়ে না। কিন্তু বরুণের জীবনকাহিনি এ রকমই। ক্লাস টুয়েলভ পর্যন্ত ক্রিকেট নিয়ে পড়ে থাকা। সেখানে সুবিধে না করতে পেরে স্থাপত্যবিদ্যায় চলে যাওয়া। তারপর ভাল না লাগায় সেটা ছেড়ে ফের ক্রিকেটে ফিরে আসা। এরপর তামিলনাড়ু প্রিমিয়র লিগ, বিজয় হাজারে ট্রফি, কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব হয়ে বর্তমানে কলকাতা নাইট রাইডার্স। যদিও এর মাঝে একবার নাইটদের হয়ে নেট বোলারও হয়েছিলেন এই রহস্য স্পিনার।ম্যাচ শেষে সতীর্থ রাহুল ত্রিপাঠিকে এই প্রসঙ্গেই তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘‌‘‌তিন বছর আগে, চিপকে আর পাঁচজন দর্শকের সঙ্গে বসেই খেলা দেখতাম। আমি ধোনিকে ব্যাট করতে দেখতেই আসতাম। আর এখন তাঁকেই বোল্ড করতে পারাটা সত্যিই অবিস্মরণীয় মুহূর্ত।’‌’‌ এর সঙ্গেই কীভাবে ধোনির উইকেট পেলেন সেটাও ব্যাখ্যা করলেন। বললেন, এদিনের উইকেট কিছুটা পাটা ছিল। মাহি ভাই ভালই খেলছিল। তাই আমি ভেবেছিলাম গুড লেংথে বল রাখতে পারলে আমি ধোনির উইকেট পেতেও পারি। এরপর আমার পরিকল্পনাটি খেটে যায়।’‌’‌

28