ওয়েব ডেস্ক অক্টোবর, ৬,২০২০: উত্তর প্রদেশের হাথরসে ধর্ষণ ও মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে।উত্তর প্রদেশের আদিত্য নাথের সরকারের পুলিশ ও প্রশাসন সর্বশক্তি দিয়ে ঘটনা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেও করেছে। রাতের অন্ধকারে পরিবারের অনুপস্থিতিতে গম খেতের মধ্যেই কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে দেয় নির্যাতীতা কিশোরীর দেহ। তারপর থেকেই প্রথমে গ্রামবাসীরা যে আন্দোলন শুরু করেছিলেন তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।প্রথমে আটকে রাখলেও অবশেষে মিডিয়া ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বকে নির্যাতিতার পরিবারের সাথে দেখা করতে দিতে বাধ্য হয় যোগী সরকার।

আজ নির্যাতিতার পরিবারের সাথে দেখা করলেন বাম প্রতিনিধি দল। এই প্রতিনিধি দলে রয়েছেন সিপিআইএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি, সিপিআইএম পলিটব্যুরো সদস্য বৃন্দা কারাত, সিপিআই নেতা ডি রাজা সহ বেশ কয়েকজন বামপন্থী নেতৃত্ব।

আধ ঘন্টারও বেশী সময় ধরে নির্যাতিতার পরিবারের সাথে কথা বলেছেন বাম প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। এই গণধর্ষণ ও মৃত্যুর ঘটনায় স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি তুলেছেন সীতারাম ইয়েচুরি। নির্যাতিতার বাড়ি থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সীতারাম ইয়েচুরি বলেন, নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবারকে ন‍্যায় বিচার দেওয়া আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। যেভাবে রাতের অন্ধকারে পরিবারকে না জানিয়ে মেয়েটির মৃতদেহ পুড়িয়ে দিল পুলিশ তাতে সংবিধানের মর্যাদাকে লঙ্ঘন করা হয়েছে। আমাদের মেয়েকে, সংবিধানকে এবং আমাদের সিস্টেমকে ন‍্যায় দিতে লড়াই চালিয়ে যাব আমরা।”

এই ঘটনায় সারা দেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। বামপন্থীরা লাগাতার এই বিষয়ে আন্দোলনে নেমেছে। লক্ষৌতে বিক্ষোভ সমাবেশ করে অ্যারেস্ট হয়েছেন হীরালাল যাদব সহ বাম নেতা ও কর্মী। জন্তরমন্তরে বিরাট বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে তারা। পরবর্তীতে বামপন্থীদের আন্দোলনের গতি কোন পথ নেয় সেটাই দেখার।

অপরদিকে এই‌ ঘটনায় বিচারপতির নজরদারিতে তদন্তের দাবিতে একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি চলছে আজ সুপ্রিম কোর্টে। পরিবারের লোকজন ও গ্রামবাসীদের তালাবদ্ধ করে রেখে গভীর রাতেই তড়িঘড়ি করে কেন নির্যাতিতার দেহ পুড়িয়ে ফেলল পুলিশ তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে শুনানিতে। এর জবাবে সরকারের তরফ থেকে আদালতে জানানো হয়, ‘গোয়েন্দা সূত্রে’ পুলিশ জানতে পেরেছিল সকালে ‘হিংসা’ ছড়ানোর পরিকল্পনা ছিল গ্রামবাসীদের। আইনশৃঙ্খলার অবনতি এড়াতে রাতেই শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়েছে।

নির্যাতিতার পরিবার এবং সাক্ষীদের সুরক্ষা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আদালত। এই বিষয়ে উত্তরপ্রদেশ সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা জানতে চেয়ে সরকারকে নোটিশও জারি করেছে শীর্ষ আদালত।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর উত্তরপ্রদেশের হাথরসে ১৯ বছরের এক দলিত মেয়েকে নৃশংসভাবে গণধর্ষণ করার অভিযোগ ওঠে চার উচ্চবর্ণের ব‍্যক্তির বিরুদ্ধে। ২৯ সেপ্টেম্বর দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে মারা যায় মেয়েটি। এরপর থেকেই অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে উত্তাল গোটা দেশ।

22