৪/১০/২০২০,ওয়েবডেস্কঃ

আসিফা, মনে আছে সেই বাচ্চা মেয়েটির কথা, ধর্ষণ গণকরা হয়েছিলো? যার মৃতদেহ পরে এক জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয়েছিলো। তখনো উন্নাও এ দোষীদের সমর্থনে, মুক্তির দাবিতে মিছিল করেছিলো বিজেপির কর্মী সমর্থকরা জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে। আজও ঠিক হাথরাসে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলো। সরকার বলছে ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’। কিন্তু সেই সরকারের কর্মী সমর্থকরা একই ধর্ষকের সমর্থনে মিছিল করছে! গণধর্ষণে অভিযুক্তদের সমর্থনে বড়সড় সভার আয়োজন করলেন স্থানীয় বিজেপি নেতা রাজবীর সিং পেহেলবান। যিনি কিনা একটা সময় বিজেপির টিকিটে বিধায়কও হয়েছেন। তাঁর বাড়িতেই অভিযুক্তদের ‘সুবিচারে’র দাবিতে এই সভাটির আয়োজন করা হয়েছিল। এমনটাই দাবি এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের।

উল্লেখ্য, হাথরাসের ঘটনায় উচ্চবর্ণের চার অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। এরা সকলেই তথাকথিত ‘উচ্চবর্ণে’র নাগরিক। রাজবীর সিং পেহেলবান নামের স্থানীয় ওই বিজেপি নেতার দাবি, উচ্চবর্ণের এই চার যুবককে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হচ্ছে। উত্তরপ্রদেশ সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। ওই বিজেপি নেতা বলছেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি এই সভার আয়োজন করেছেন। যেখানে হাজির ছিল সমাজের তথাকথিত উচ্চবর্ণের বহু মানুষ। এমনকী গ্রেপ্তার হওয়া চার অভিযুক্তের পরিবারও ওই বৈঠকে হাজির ছিল। মজার কথা হল, এই সভাটির আয়োজন করা হয়েছিল ওই বিজেপি নেতারই বাড়িতে।

আরো মজার কথা হল, হাথরাসের স্থানীয় প্রশাসন শনিবার পর্যন্ত করোনার অজুহাতে ওই গ্রামে সংবাদমাধ্যমকে পর্যন্ত ঢুকতে দিচ্ছিল না। আজ এত বড় সভার অনুমতি দেওয়া হল কেন? তাও আবার অভিযুক্তদের সমর্থনে? ওই এলাকার জয়েন্ট ম্যাজিস্ট্রেট প্রেমপ্রকাশ মীনা অবশ্য দাবি করেছেন, এই বৈঠক সম্পর্কে কিছুই জানেন না তিনি। উল্লেখ্য, হাথরাসের ধর্ষকদের সমর্থনে মিছিল বা সভা এই প্রথম নয়। এর আগে গত শুক্রবার সবর্ণ-সমাজের বহু মানুষ ওই এলাকায় অভিযুক্তদের সমর্থনে জমায়েত করার চেষ্টা করেছিলেন। তাছাড়া যে বিজেপি নেতা আজ সভার আয়োজন করেছেন, তিনিই আগে বয়ান দিয়েছিলেন, যে ওই নির্যাতিতাকে নাকি তাঁর মা এবং ভাই-ই খুন করেছে।

এই পুরো খবর প্রকাশ্যে আসতেই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে, এই যদি শাসক দলের নেতাদের মনোভাব হয় তাহলে ঐ নির্যাতিতার পরিবার আদেও কি সুবিচার পাবে? তাদের কন্ঠরোধ করার জন্য করা হবে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র।

96