কুলিকইনফোলাইনে, বিশেষ প্রতিবেদনঃ

কিছুক্ষণ আগেই বৃষ্টির থেমেছে স্পন্দন। শহর বাড়ি ফিরে গেছে অনেকক্ষণ। বাড়ি ফিরে গেছে শেষ ট্রেন আর চাকার ঘর্ষণ। বাড়ি ফিরে গেছে যোগীর রাজ্যে দলিত ধর্ষণ। বাড়ি ফিরে গেছে মমতার হিজাবে প্রেম বর্ষণ। বাড়ির পথে শেষযাত্রী ফুটব্রিজে আনমন। বন্ধ চোখ আর পায়ে পায়ে সিঁড়ির কম্পন। দূরে গিটারে “শেষ ট্রেনে বাড়ি ফিরবনা”র ফেরারি মন। অন্ধকারে সিগারেট উচাটন। ধোয়ার সাথে কোরাসের নির্মোহ মেলবন্ধন।

নাহ! অবনী বাড়ি নেই। অবনী রসাতলে। অবনীরা বৃক্ষতলে।

সকালে রায়গঞ্জে পড়তে আসা কলেজ পড়ুয়া থেকে রাতে প্রমথেশ বড়ুয়া নিয়ে আলোচনা করা নাটুয়াদের সমাবেশের এ এক লোকাল কফি হাউস। একটা গাছতলা যে কতটা অক্সিজেন ছড়িয়ে দিতে পারে এই গোটা শহর জুড়ে, তা এই শহর বোঝেনা। একটা গাছতলা যে কত মানুষের মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয় বুদ্ধির ধোয়া তা এই শহর জানেনা।

এ’যেন অক্সিজেন আর কার্বন ধোয়ার এক অবিমিশ্র যুগলবন্দী। মেলবন্ধন পসরা সাজিয়ে নিয়ে বসা জ্যোতিষী আর ধর্মের ছায়া না মারানো কমরেডের। এ’যেন হনুমান মন্দিরের গেরুয়া পতাকার অবাধ আস্কারা তার পাশে বসে বিশুদ্ধ লাল আলোচনার করার। বিহারি রাম ভজনের আস্কারা ভাষা দিবসে গণসঙ্গীত গাওয়ার।

গাছতলা এমনই। এমনটাই আমাদের বোধিবৃক্ষতল। শহরের সমস্ত বিরোধ মিটে যায় এর তলায় বসে। তারপর “আজকি শাম, পচনদা’র চায়ে কে নাম”। না, তাতে দার্জিলিং টি-এর আভিজাত্য নেই, কিন্তু সেই চা খেয়েই বাইক চেপে দার্জিলিং চলে যাওয়ার তারুণ্য আছে। যে তারুণ্য পিতৃতুল্য একটা মানুষকে বিড়ি ধরাতে দেখে হাত বাড়িয়ে দেওয়ার অবাধ সাহস জোগায়। সাহস জোগায় নতুন গান আর গল্প লেখার। যে গল্প এই শহর শোনেনা। শুধু শোনে বোধিবৃক্ষতল। মনভাঙা প্রেমিক গুম মেরে বসে পড়ে আকাশের গা’য়। মেঘ জমতে জমতে একসময় বৃষ্টি আসে গল্পের ভেতর। বৃষ্টি আসে সেই গল্পের মাঝে। টর্চ হাতে মনভাঙা প্রেমিকের ফেলে যাওয়া চায়ের গ্লাস খুঁজতে আসে পচনদা। রাত আরও গাঢ় হয়ে আসে। কিন্তু গল্প থামেনা। এ’গল্প থামার নয়। মাথায় ছাতা হয়ে ঝড় জল বৃষ্টি থেকে এ’ভাবেই এই গল্পকে বাঁচিয়ে চলে বোধিবৃক্ষতল।

123