১/১০/২০২০,ওয়েবডেস্কঃ

লক্ষ্ণৌয়ের কোর্টে বাবরি মসজিদ ধংসের অভিযুক্তদের নির্দোষ ঘোষণার রায়ে ক্ষোভ প্রকাশ সিপিআই(এম)’র পলিট ব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিমের। ক্ষমতাশালীদের তুষ্ট করতে যেভাবে অপরাধীদের রেহাই দেওয়া হল তাতে আদালত ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর থেকে দেশবাসীর ভরসা নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে, আইনের শাসন ধংস করা হচ্ছে। রায়ের পর ঠিক এভাবেই নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন সিপিআইএম পলিটব্যুরো সদস্য মহঃ সেলিম।

বুধবার রায়ের পরেই সাংবাদিক বৈঠক করে মসজিদ ধংসকারী বিজেপি নেতাদের রেহাই দেওয়া সম্পর্কে তিনি বলেছেন, আমরা আদৌ তাজ্জব হইনি। কারণ দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে ক্ষমতাশালীরা কুক্ষিগত করে এইদিকেই নিয়ে যাচ্ছে। সংবিধানের নির্দেশিত দৃষ্টিভঙ্গি নয়, সংকীর্ণ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে ঘোলাটে করে দেওয়া হচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলির দৃষ্টিকে। সেই কারণেই, সুপ্রিম কোর্ট ৮ নভেম্বর বাবরি মসজিদ ভাঙার ঘটনাকে গুরুতর অপরাধ বলে চিহ্নিত করার পরেও আজ লক্ষ্ণৌয়ের নিম্ন আদালত অপরাধীদের খুঁজেই পেল না।

সেলিম বলেছেন, মসজিদ ধংসের ঘটনার আগে, ঘটনার সময় এবং ঘটনার পরে অভিযুক্ত বিজেপি নেতাদের ভূমিকা দেখলেই তাদের অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়। মসজিদ ধংসের সময় ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে যারা প্ররোচনামূলক ও উত্তেজনা সৃষ্টির ভাষণ দিয়েছিলেন, মন্দির ভাঙার পরে যারা প্রকাশ্যে উল্লাস করেছিলেন, দেশ বিদেশের মিডিয়াতে তাঁদের দেখা গেছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিং আদালতে হলফনামা দিয়ে বলেছিলেন মসজিদের কোনো ক্ষতি হবে না, ওখানে ভজন কীর্তন করবেন করসেবকরা। আর বাবরি মসজিদ ভাঙার পরে কলকাতায় এসে তিনি বলেছিলেন, ঠিকাদারদের দিয়ে ভাঙতে অনেক সময় লেগে যেত, তাই করসেবকরা দ্রুত ভেঙে দিয়েছেন। এই জন্যই তো জ্যোতি বসু তাঁদের অসভ্য বর্বরের দল বলেছিলেন।

মসজিদ ধংসে অভিযুক্তদের স্পষ্ট ভূমিকা থাকলেও যেভাবে তাদের রেহাই দেওয়া হয়েছে তাতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নিযুক্ত আদালত ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর দেশবাসীর ভরসা নষ্ট হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করে সেলিম বলেছেন, যা হলো সেটা ন্যায়বিচারের নামে প্রহসন। লক্ষ্ণৌ আদালতের রায়ে আইনের শাসন নিয়েই প্রশ্ন চিহ্ন দেখা দিল। আইন অস্বীকার করে ক্ষমতাশালীদের তুষ্ট করা হচ্ছে, সুপ্রিম কোর্ট থেকে আমলাতন্ত্র, সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের এই প্রবনতা দেখা যাচ্ছে। আমরা দাবি করছি, সিবিআই লক্ষ্ণৌ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট অথবা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করুক। অপরাধীদের শাস্তিদানে কেন্দ্রীয় সরকার কতটা সৎ সেটা বোঝা যাবে।

43