যোগী রাজ্যে গণ ধর্ষণের যে ঘটনা নিয়ে উত্তাল দেশ সেখানে নাকি ধর্ষণই হয়নি। নির্যাতিতার জবান বন্দি কে অগ্রাহ্য করে এমনই দাবি করলো উত্তর প্রদেশের পুলিশের আধিকারিক ।উল্টে যারা ধর্ষণের উল্লেখ করে বিচারের দাবি করেন তাদের বিরুদ্ধে উস্কানি ছড়ানোর অভিযোগ এনে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলো পুলিশ। উত্তরপ্রদেশের হাথরাসের মৃতার ময়না তদন্তের রিপোর্টে নাকি ধর্ষণেরই উল্লেখ নেই। মেরুদণ্ডের হাড় ভাঙায় তীব্র শ্বাসকষ্ট, সঙ্গে দু’পায়ে পক্ষাঘাত। হাতের অবস্থাও প্রায় তাই, জিভের একাংশে গভীর কামড়। সব মিলিয়ে প্রায় ‘নির্ভয়া’-র মতোই কষ্ট সহ্য করছিলেন উত্তরপ্রদেশের ১৯ বছরের ধর্ষিতা দলিত তরুণী। অথচ ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয়েছিল, শরীরের একাধিক জায়গায় চোটের চিহ্ন থাকলেও ধর্ষণের কোনও প্রমাণ মেলেনি। মৃত্যুর কারণ হিসাবে বলা হয়েছে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট। আর সেই ময়নাতদন্তের রিপোর্টকে হাতিয়ার করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশও এবার দাবি করে বসল, মেয়েটির সঙ্গে ধর্ষণের কোনও ঘটনাই হয়নি। উত্তরপ্রদেশ পুলিসের শীর্ষকর্তা এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) প্রশান্ত কুমারের দাবি, নির্যাতিতার শরীরে ধর্ষণের কোনও প্রমাণ মেলেনি। তবে তাঁকে যে খুন করা হয়েছে, তাঁর তদন্ত চলছে।

অথচ হাথরাসের পুলিশ সুপার বিক্রান্ত বীর আগেই জানিয়েছিলেন, গত ১৪ সেপ্টেম্বর ওই তরুণী মায়ের সঙ্গে খেতে কাজ করতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই নিখোঁজ হয়ে যান। পরে গুরুতর জখম ও নগ্ন অবস্থায় বাজরার খেত থেকে তাঁর হদিস মেলে। তখনই তাঁর জিভের একাংশে গভীর কামড়ের দাগ ছিল বলে জানায় পুলিশ। সে অবস্থাতেই আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের জওহরলাল নেহরু মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। পরে অবস্থার অবনতি হলে সোমবার দিল্লি এইমস-এ স্থানান্তরিত করা হয়।
এমনকী পুলিশের রিপোর্টেই উল্লেখ ছিল, ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে খুনের চেষ্টা করা হয় ওই তরুণীকে। ধস্তাধস্তির সময় তাঁর জিভের একাধিক জায়গায় ক্ষতের সৃষ্টি হয়। দুটি পা ও একটি হাতে কোনও সাড় ছিল না বলেও জানান চিকিত্সকরা। এমনকী মৃত্যুর আগেই ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেওয়া বয়ানে নিজের ধর্ষকদের নামও বলে গিয়েছেন সেই তরুণী। এমনকী সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োতেও ওই তরুণী বলেছেন, তাঁর সঙ্গে ধর্ষণ করা হয়েছে। অথচ ময়না তদন্তের রিপোর্টে ধর্ষণের কোনও উল্লেখই নেই। আর সেই বিষয়টিকে হাতিয়ার করল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। এমনকী রীতিমতো হুমকি দেওয়া হল, অহেতুক ধর্ষণের প্রসঙ্গ তুলে যারা পরিস্থিতি জটিল করে তুলছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

97