৩০/৯/২০২০,ওয়েবডেস্কঃ

উমা-আদবানী- মুরলী মনোহররা বাবরি ধ্বংসের জন্য দায়মুক্ত হলেন।সেই সাথে মসজিদ ধ্বংসের জন্য ষরযন্ত্রের অভিযোগও উড়িয়ে দিয়ে কোর্ট আজ বাবরি ধ্বংসের জন্য ” অসামাজিক তত্ত্ব”কেই দায়ী করলো। সিবিআই কোর্ট এই রায় দিলো।
২৮ বছর কেটে গেছে। সমস্ত আইনকানুন লঙ্ঘন করে অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ধ্বংসের জন্য কেউ শাস্তি পায়নি। সেই ঘটনার পরে দেশজোড়া হিংসায় কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মসজিদ-ধ্বংসকারীদের সেই দায় বহন করতে হয়নি। এতকাল গড়াতে গড়াতে বুধবার লক্ষ্ণৌয়ের বিশেষ সিবিআই আদালত এই মামলার রায় দেবে। রায় দিলেই বিচার প্রক্রিয়া শেষ হবে, তা নয়। তবে অপরাধীদের দোষী সাব্যস্ত করার একটি অবকাশ থাকলেও অবশেষে মুক্ত হলেন সব অভিযুক্তরা।
এই মামলায় ৩২ জন অভিযুক্ত ছিলেন। বাকিদের জীবনাবসান হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন এল কে আদবানি, মুরলী মনোহর যোশী, উমা ভারতী, কল্যাণ সিং, বিনয় কাটিয়ার, সাধ্বী রীতাম্বরা। ছিলেন নতুন রামমন্দির নির্মাণ ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই। ১৬ সেপ্টেম্বর বিশেষ আদালতের বিচারপতি এস কে যাদব সব অভিযুক্তকেই আদালতে হাজির থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে বিজেপি নেত্রী উমা ভারতী এবং উত্তর প্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিং করোনায় আক্রান্ত ।

বাবরি ধ্বংসের মামলা ২০১৭-র আগে পর্যন্ত লক্ষ্ণৌ এবং রায়বেরিলিতে দুই পৃথক আদালতে চলছিল। লক্ষ্ণৌয়ে চলছিল পরিচয়হীন ‘করসেবকদের’ বিরুদ্ধে। আর রায়বেরিলিতে আদবানিদের মতো ‘ভিআইপি’-দের বিরুদ্ধে।

২০০১-এ কেন্দ্রে বিজেপি সরকার থাকার সময়ে মামলা থেকে ফৌজদারি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেই নিয়েছিল সিবিআই। সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করে ২০১৭-র এপ্রিলে এই ধারা পুনরায় যুক্ত করার নির্দেশ দেয়। সেইসঙ্গেই দুই পৃথক আদালতের বদলে লক্ষ্ণৌয়ে একইসঙ্গে মামলার নির্দেশ দেয়। দু’বছরের মধ্যে বিচারের প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশও দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। কালক্ষেপ চলতে থাকায় এ বছরের ৩১ আগস্টের মধ্যে মামলা শেষের নির্দেশ আসে। পরে তা এক মাস বাড়ানো হয়। সেইমতোই আজ রায় ঘোষণা করলো সিবিআই আদালত।

সিবিআই ৩৫১ জন সাক্ষীকে হাজির করেছে। প্রমাণ হিসাবে ৬০০ নথিপত্র জমা দিয়েছে। ফৌজদারি ষড়যন্ত্র ছাড়াও ধর্মের নামে বিরোধ বাধানো, জাতীয় সংহতির পক্ষে ক্ষতিকারক কাজ, ধর্মস্থান ‘অপবিত্র’ করার অভিযোগও দায়ের হয়েছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। সিবিআই-এর অভিযোগ, অভিযুক্তরা ষড়যন্ত্র করেই করসেবকদের মসজিদ ভাঙতে প্ররোচিত করেছেন। মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছিল ১৯৯২-র ৬ই ডিসেম্বর। গত বছর সুপ্রিম কোর্ট অযোধ্যা বিতর্কের মামলায় জমি এক পক্ষকেই দিয়ে দিলেও রায়ে বলেছিল মসজিদ ধ্বংস ফৌজদারি অপরাধ। আইন লঙ্ঘন করেই ওই কাজ করা হয়েছিল। আইনজীবীদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ইতিমধ্যেই বাবরি ধ্বংসের অভিযুক্তরা ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত। তবে, শেষ পর্যন্ত রায় কী হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েই যাচ্ছে।

রায় বেরোনোর পর লাল কৃষ্ণ আদবানি নিজের খুশি চেপে রাখেননি।

38