বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দ্বায়িত্ব পালনরত অবস্থায় রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হয়ে যান ইটাহারের বানবোলের একটি বুথের প্রিসাইডিং অফিসার, শিক্ষক রাজকুমার রায়। মৃত্যুর দুবছর পরেও নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা মত ২০ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ তার পরিবার পায় নি। জানা গেছে দুবছর পরেও রাজকুমার রায়ের মৃত্যুর রিপোর্ট জেলা শাসকের দফতর থেকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের দফতরে পৌঁছে দেওয়া হয় নি। এই টালবাহানায় শিক্ষক ও অন্য ভোট কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই ঠিক কেন জেলা শাসকের তরফ থেকে রিপোর্ট পাঠাতে অনীহা তা বার বার গিয়েও জানতে পারেনি রাজকুমার হত্যার বিচার চাই মঞ্চের সদস্যরা। ডেপুটেশন এবং অনুরোধ – উপরোধে কাজ না হওয়ায় আজ জেলা শাসকের দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখায় প্রায় চল্লিশ – পঞ্চাশ জন শিক্ষক শিক্ষিকা। এই বিক্ষোভ সভায় বক্তব্য রাখেন মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ভট্টাচার্য, প্রিয় রঞ্জন পাল, সহিদুর রহমান, শর্মিষ্ঠা ঘোষ, সুভাষ রাহা প্রমুখ। এখান থেকে বক্তারা পরিষ্কার জানিয়ে দেন তারা দীর্ঘদিন ধরে ধৈর্য ধরে অনুরোধ, ডেপুটেশন ইত্যাদি উপায়ে রাজ কুমার এর পরিবার যাতে ক্ষতিপূরণ পায় তার চেষ্টা করেছেন অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ভাবে। কিন্তু জেলা প্রশাসন যে কোনো কারনেই হোক বিশয়টি নিয়ে অবহেলা করে গেছেন ফলে প্রয়াত রাজকুমারের পরিবার আজ মাথার উপর ছাদ হারানোর আতঙ্ক নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। তাই তারা আবার রাস্তায় নামতে বাধ্য হচ্ছেন বলে বক্তারা জানিয়েছেন। আহ্বায়ক প্রিয় রঞ্জন পাল তার বক্তব্যে জানান যে আজ তারা হুঁশিয়ারি জানাতে এসেছেন জেলা প্রশাসন কে যে শীঘ্রই যদি এই ক্ষতিপূরণের দাবি না মেটানো হয় তবে রায়গঞ্জ আবার দেখবে শিক্ষকরা নায্য দাবি আদায়ের জন্য কী করতে পারেন? তিনি বলেন শিক্ষকদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন রয়েছে অন্যান্য ভোটকর্মী ও সাধারণ মানুষের। তাই প্রশাসন আজ প্রচুর পুলিশ নামিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা করলেও শিক্ষকরা এতটুকু দমে যাবে না। প্রয়োজনে ২০২১ শালের নির্বাচন করাতে প্রশাসন কে হিমশিম খেতে হবে।

এদিন বিক্ষোভ সভা থেকে পাঁচজনের প্রতিনিধি ডিএম কে ডেপুটেশন দিতে যান তবে ডিএম তার অফিসে অনুপস্থিত থাকায় এডিএমের হাতে তা তুলে দেওয়া হয়। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মঞ্চের সভাপতি তথা রাজকুমার রায়ের বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক সহিদুর রহমান জানান, “রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের দফতর থেকে পরিষ্কার জানানো হয়েছে জেলা থেকে কোনও রিপোর্ট নির্বাচন কমিশনের অফিসে না পৌঁছানোর জন্য তারা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যাপারে এগোতে পারছেন না। অথচ ডিএম এর তরফে বার বার বলা হয়েছে রিপোর্ট তারা পাঠিয়ে দিয়েছেন। অথচ আরটিআই করে জানা গিয়েছে যে এমন কোনো রিপোর্ট রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের দফতরে পৌঁছে দেওয়া হয় নি। এখন জেলা প্রশাসন বিভিন্ন রকম টালবাহানা করে আমাদের এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমরা দাবি আদায়ের জন্য শেষ পর্যন্ত লড়ে যাব। দ্রুত দাবি মেটানো না হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে চলেছি। “

প্রসঙ্গত রাজকুমার রায় কে হত্যা করা হয়েছে বলে মনে করে রাজকুমারের পরিবার সহ রাজ্যের অধিকাংশ মানুষ বলে ‘রাজকুমার হত্যার বিচার চাই মঞ্চ’ – এর দাবি । তার হত্যার বিচার চেয়ে দুবছর ধরে লাগাতার এই মঞ্চ। রাজকুমার এর হত্যার সিবিআই তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে একটি মামলা চলছে অনেক দিন ধরেই। প্রখ্যাত আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য এই মামলায় রাজকুমারের পরিবার ও মঞ্চের পক্ষে লড়াই করছেন। তবে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ক্ষেত্রে এই মামলা কোনোভাবেই অন্তরায় নয় বলে বিকাশ বাবু ছাড়াও অন্য বেশ কিছু বিশিষ্ট আইনজীবী মনে করেন।

288