২৮/৯/২০২০,ওয়েবডেস্কঃ

সারা দেশে কৃষক আন্দোলন তীব্র আকার নিয়েছে। সদ্য সমাপ্ত সংসদের বাদল অধিবেশনে কৃষিপণ্য লেনদেন ও বাণিজ্য উন্নয়ন বিল, অত্যাবশ্যক পণ্য আইন সংশোধন বিল এবং কৃষিপণ্যের দামে সুরক্ষা ও কৃষক ক্ষমতায়ন ও চুক্তি চাষ সংক্রান্ত বিল পাশ হয়েছে। বিজেপি সরকার সংসদীয় গণতন্ত্রের যাবতীয় রীতিনীতি ভেঙে এই বিল গুলি রাজ্যসভায় পাশ করিয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ করেছে বিরোধীরা। সংসদের অধিবেশন কক্ষের বাইরে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে বসে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বিক্ষোভ করেছে দেশের বিজেপি বিরোধী দলগুলোর সাংসদরা।

সরকারের বিরুদ্ধে সংসদের বিধিনিষেধ অমান্য অভিযোগ করে রাষ্ট্রপতির কাছেও যান বিরোধীরা।বিতর্কিত কৃষি বিলে অনুমোদন না দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদনও করেছিলেন বিরোধীরা। শুধু বিরোধীরাই নয়,এই বিলকে কৃষক বিরোধী বলে উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এবং গতকাল বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ থেকে বেরিয়ে এসেছে বিজেপির দীর্ঘ পঁচিশ বছরের সহযোগী শিরোমণি অকালি দল।

বিরোধীদের নতুন কৃষি বিলটি নিয়ে বিরোধীতার প্রধান কারণ হল এমএসপি।
দেশে বর্তমানে ২২টি কৃষিপণ্যের ওপর ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বা এমএসপি প্রদান করে সরকার।নিয়মানুযায়ী রাজ্যের নিয়ন্ত্রণাধীন এপিএমসি মান্ডিতে সরকার নির্ধারিত দামেই কৃষিপণ্য বিক্রি করতে পারেন চাষিরা। ফলে চাষে ক্ষতি হলে বা অতি উৎপাদনে বাজারে দাম কমলেও চাষিদের নির্ধারিত নিশ্চিত মূল্য দিতে বাধ্য থাকে সরকার।কিন্তু নতুন বিলের ফলে কৃষি ক্ষেত্রে সরকারের হস্তক্ষেপ থাকবেনা।ফলে উঠে যাবে সহায়ক মূল্য। কৃষকদের থেকে কর্পোরেট সংস্থা গুলি সরাসরি কৃষিপণ্য কিনবে।

এ বিষয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের অবশ্য বক্তব্য, এমএসপি বাতিল হচ্ছে না। বরং এই আইনে এমএসপির পাশাপাশি চাষিদের জন্য কর্পোরেট সংস্থার কাছে ফসল বিক্রির দরজাও খুলে দেওয়া হচ্ছে। সেক্ষেত্রে চাষিরা দরকষাকষি করে বেশি দাম পাওয়ার সুযোগ পাবেন। বন্ধ হবে দালাল চক্র।তাই আখেরে লাভবান হবে চাষীরা।

তবে দেশের বামপন্থী দলগুলোসহ অধিকাংশ কৃষক ও কৃষক সংগঠনের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে কেন্দ্র সরকারের প্রতিশ্রুতি। বামপন্থীদের বক্তব্য এক্ষেত্রে স্পষ্ট। তারা বলছেন বড় কর্পোরেট সংস্থার কৃষকদের প্রতি কোন দায়বদ্ধতা নেই।তাই কৃষকের ক্ষতি হলে বা বাজারে দাম কম থাকলেও তাদের কিছু যায় আসে না।সরকার দেশের কৃষকদের প্রতি দায়বদ্ধতা এড়িয়ে যেতে পারেনা। দেশের কৃষকদের এভাবে কর্পোরেটের হাতের পুতুল করে দিতে পারে না সরকার।কৃষকদের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যর সুরক্ষা কৃষককে দিতেই হবে। এভাবে বাজারকে উন্মুক্ত করে দিলে দর কষাকষির উপরই দাম নির্ভর করবে। আর বড় কর্পোরেট সংস্থার সঙ্গে গ্রামের ছোট চাষিদের দর কষাকষির ক্ষমতা থাকবেই না। কৃষকরা বাধ্য হবেন কর্পোরেট সংস্থার কাছে কম দামে ফসল বিক্রি করতে।

সিপিআইএম, কংগ্রেস সহ বিরোধীরা এই বিলকে ব্রিটিশ আমলের কৃষি ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করে সারা দেশে কৃষক আন্দোলন গড়ে তোলার ডাক দিয়েছে।

53