২৪/৯/২০২০,ওয়েবডেস্কঃ

আরও এক নক্ষত্র পতন করোনার প্রকোপে। এবার করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন কেন্দ্রীয় পরমাণু শক্তি মন্ত্রকের প্রাক্তন সচিব শেখর বসু। ভারতের প্রথম পরমাণুশক্তি চালিত সাবমেরিন আইএনএস আরিহান্ট-এ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে বৃহস্পতিবার ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়। বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। ভারতে পারমাণবিক শক্তি নিয়ে গবেষণার অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন তিনি। দু’বছর আগেও ছিলেন পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান। পারমাণবিক শক্তি নিয়ে গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ‘পদ্মশ্রী’ পুরস্কার পান।

তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু বিশিষ্ট কণাপদার্থবিজ্ঞানী নবকুমার মণ্ডল দৈনিক সংবাদপত্র আনন্দবাজারকে জানিয়েছেন, বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুলের ছাত্র শেখর বসু মুম্বই থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করার পরেই যোগ দেন ‘ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টার (বার্ক) ‘-এ। পরে বার্ক-এর অধিকর্তা হন। কেন্দ্রীয় পরমাণু শক্তি মন্ত্রকের সচিব ও পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান হওয়ার আগে পর্যন্ত বার্ক-এর অধিকর্তা হিসেবেই ছিলেন।

পারমাণবিক শক্তির গবেষণায় তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। দেশে পরমাণু বর্জ্য নিষ্কাষণের নতুন নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন ও বিভিন্ন পরমাণু চুল্লি নির্মাণেও তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। শেখর বসুর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করে বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও ইন্টার ইউনিভার্সিটি সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ত অ্যাস্ট্রোফিজিক্স এর ডিরেক্টর সোমক রায়চৌধুরী বলেন, ‘‘শেখরবাবু আরিহান্ট-এর রূপকার ছিলেন। পাশাপাশি পরমাণু শক্তিমন্ত্রকে থাকাকালীন তিনি ‘সার্ন’ প্রকল্পে ভারতের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে আলাপ আলোচনায় এবং মহাকর্ষীয় তরঙ্গ অনুসন্ধান সংক্রান্ত প্রকল্প ‘লাইগো’-তেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।’’

দিন কয়েক আগে কোভিড পজিটিভ হন শেখর বসু। ভরতি হয়েছিলেন কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে। ৬৮ বছরের বিজ্ঞানীকে করোনামুক্ত করতে কম চেষ্টা করেননি চিকিৎসকরা। কিন্তু ক্রমশই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছিল। আজ ভোর ৫টা নাগাদ ওই হাসপাতালেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন স্বনামধন্য পরমাণু বিজ্ঞানী, বঙ্গসন্তান শেখর বসু। তাঁর মৃত্যুতে সহকর্মী থেকে প্রাক্তন ছাত্র, অগণিত অনুরাগী – শোকপ্রকাশ করেছেন সকলেই। শেখর বসুর প্রয়াণ দেশের পরমাণু গবেষণার গতিতে বড়সড় ধাক্কা বলে মনে করছে বিজ্ঞানীদের একাংশ।

74