ভোট বড় বালাই। কোভিড পরিস্থিতিতে রাজ্যের নাকি অর্থ ভান্ডার শুন্য হতে চলেছে। বর্তমান বছরে সরকারি কর্মীদের ডিএ মিলছে না ১% ও। কিন্তু রাজ্যে বিজেপি কিছুটা জমি পায়ের তলায় খুঁজে পেতেই হিন্দু ভোট নিয়ে চিন্তিত মুখ্যমন্ত্রী পুরোহিত ভাতার পর এবার দূর্গাপূজা কমিটি গুলোকে ৫০০০০ টাকা স্বল্প দানের ঘোষণা করলেন। এদিন পুজো কমিটিগুলোকে নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে মিটিংয়ে ডেকেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই তিনি বাম্পার ঘোষণা করেন। বলেন, দুর্গাপুজো কমিটিগুলোকে এ বার ৫০ হাজার টাকা করে দেবে সরকার। প্রশ্ন উঠছে যেখানে কোভিড পরিস্থিতিতে দূর্গাপূজা এবার জাকজমক করে করা নিয়ে পূজা কমিটি গুলিই ধন্দে সেখানে এই ‘স্বল্প দান’ আদোও কি যুক্তি যুক্ত? বিশেষ করে লকডাউনের মারে যেখানে বহু মানুষ এখন ঠিক করে খেতেই পাচ্ছেন না সেখানে পূজা কমিটি কে টাকা দিলে জণগনের কোন উন্নতি হবে?

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আমাদের টাকা নেই পয়সা নেই সেটা ঠিক। … তবে পুজো কমিটিগুলো আমি জানি খুব প্রবলেমে রয়েছে। আমাদের একটা স্বল্প দান তো আমরা দিই। দান নয় ভালবাসা। এবার যেহেতু আপনাদের সমস্যা একটু বেশি রয়েছে। এ বার রাজ্য সরকার আপনাদের ৫০ হাজার টাকা করে দেবে প্রত্যেকটা পুজো কমিটিকে”।

শুধু কি তাই! এ বার পুজোয় উপরি বোনাসও পাবে পুজো কমিটিগুলো। মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানিয়েছেন, যে হেতু পুজো কমিটিগুলো খুব সংকটে রয়েছে, তাই এ বছর দমকলকে কোনও ফি দিতে হবে না। পুরসভাও কোনও ফি নেবে না। আর সিইএসসি ও রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদও বিদ্যুৎ মাশুলে ৫০ শতাংশ ছাড় দেবে!

২০১৮ সাল পর্যন্ত দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে ১০ হাজার টাকা করে দিত নবান্ন। কিন্তু গত বছর অর্থাৎ উনিশ সালে তা এক লাফে দেড়শ শতাংশ বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়। সেই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিলে ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু এ বারের ঘোষণা অতীতের সব রেকর্ডকেই ছাপিয়ে গিয়েছে।

কতগুলি পুজো কমিটিকে রাজ্য সরকার এ বার চাঁদা দেবে তা অবশ্য মুখ্যমন্ত্রী বক্তৃতায় স্পষ্ট করেননি। তবে অতীতে দেখা গিয়েছে, রাজ্যের ২৮ হাজার পুজো কমিটিকে এই ‘স্বল্প দান’ দিয়েছিল সরকার। সেই হিসাবে এ বছর স্বল্প দানের জন্য ১৪০ কোটি টাকা খরচ হবে রাজ্য সরকারের।

74