ওয়েব ডেস্ক সেপ্টেম্বর ২৩,২০২০: এবার বিস্ফোরক অভিযোগ উঠলো শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে। নির্দিষ্ট পরীক্ষায় সফল হলেও কম দামের করোনা টেস্ট কিট দেশে চালু করার অনুমতি না দেওয়ায় শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা, প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। সরকার ব্যবসায়িক স্বার্থে এমন করেছে বলেই অভিযোগ করেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র বাংলাদেশের একটি বেসরকারি সাহায্য সংস্থা ও প্রথম স্বাস্থ্য কেন্দ্র। ১৯৭৭ সালে গণস্বাস্থ্য সর্বোচ্চ সম্মান স্বাধীনতা দিবস পুরষ্কারের ভূষিত হয়।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর টেস্ট কিটের যোগান দিতে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র কিট তৈরির উদ্যোগ নেয়। কম দামে কিটের যোগান দেওয়ার কথা ঘোষণা করে। এর জেরে বাংলাদেশ, ভারত ও আন্তর্জাতিক মহলে আলোড়ন ছড়ায়। কিন্তু সেই কিট বাজারজাত করা যায়নি। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের তরফে বারবার দাবি করা হলেও সরকার নড়েনি।

মঙ্গলবার সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী অভিযোগ করলেন, করোনাভাইরাসের অ্যান্টিবডি এবং অ্যান্টিজেন গবেষণায় সফল হওয়ার পরও এগুলো বিদেশ থেকে আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে গণস্বাস্থ্য সংস্থার ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ডা.জাফরুল্লাহের অভিযোগের পর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার সারা দেশে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ৩০টি শাখায় করোনা যোদ্ধাদের শ্রদ্ধা জানানো হয়। ঢাকায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগ দেন ড. জাফরুল্লাহ। সেখানেই তিনি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন।

তিনি বলেন, ‘এই সরকার ব্যবসায়ী। আমরা প্রথম দেশে অ্যান্টিবডি তৈরি করি। কিন্তু তাদের অংশীদার না করায় তারা আমাদের আর অনুমোদন দেয়নি। সরকার ব্যবসায়িক উদ্দেশে গণস্বাস্থ্যের কিটের অনুমতি না দিয়ে আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। এটি ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে। এখন তারা বিদেশ থেকে এগুলো আমদানি করবে। এতে আমাদের ১০ কোটি টাকার মতো ক্ষতি হলো। নিঃস্ব হয়ে গেছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। আর এটি হয়েছে সরকারের সিদ্ধান্তের কারণে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের এই ভুল সিদ্ধান্তের জন্য জনগণের কাছে বিচার চাওয়া ছাড়া আর কিছু করার নেই।’ ‘সরকার একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যেখানে আমাদের এখানেই অ্যান্টিবডি এবং অ্যান্টিজেন আছে, সেখানে সরকারের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে বিদেশের কাছে হাত পাততে হবে।’

30