২০/৯/২০,ওয়েবডেস্কঃ

আর্থিক সঙ্কটে পড়া যেসব সংস্থা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ঋণ মেটাতে পারছে না তাদের বিরুদ্ধে দেউলিয়া আইনে মামলা অন্তত ছয় মাস বন্ধ রাখতে হবে এমনই আদেশ জারি করেছিল কেন্দ্র। এবার সেই সংক্রান্ত বিল পাস হয়ে গেল রাজ্যসভায়।

এই ছ’মাসের মেয়াদ পরের সপ্তাহেই শেষ হচ্ছে। তা আরও বাড়ানো সম্ভব কি না, সেটা নিয়ে আগামী সপ্তাহে ঘোষণা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।তবে বিরোধীদের অনেকের অভিযোগ, দেউলিয়া আইনে সংশোধনী এনে ‘বন্ধু’ কর্পোরেট সংস্থাগুলির সুবিধা করে দিচ্ছে না কেন্দ্র? কেন ঋণে সে রকম কোনও সুবিধা পাচ্ছেন না চাষি বা সাধারণ মানুষ? বিরোধীদের দাবি, তা নিয়েও ভাবুক সরকার। পাশাপাশি, দেউলিয়া আইনের অপব্যবহার যাতে না-হয়, তা নিশ্চিত করুক কেন্দ্র। সেই সঙ্গে ধুঁকতে থাকা শিল্পগুলির ঋণে সুদে ছাড়ের পক্ষেও সওয়াল করেছেন তাঁরা।

সাধারণত সংস্থা ঋণ নিলে কেউ (বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রোমোটার) তার গ্যারান্টর থাকেন। নিয়ম অনুসারে, মূল ঋণগ্রহীতা ধার শোধ না-করলে, গ্যারান্টরকে তা মেটাতে হয়। এ দিন অর্থমন্ত্রীর কথায়, ঋণ খেলাপের সমস্যা মেটাতে হলে মূল ঋণগ্রহীতার পাশাপাশি গ্যারান্টরের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করা জরুরি। নির্মলার দাবি, দেউলিয়া আইনের মাধ্যমে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সংস্থা চালু রেখে ঋণ খেলাপের সমস্যা মেটানো হয়েছে। এ পর্যন্ত ২৫৮টি সংস্থাকে বন্ধ হওয়া থেকে বাঁচানো গিয়েছে। যাদের মোট সম্পদ প্রায় ৯৬,০০০ কোটি টাকা। গোটানো হয়েছে ৯৬৫টিকে। যাদের অধিকাংশের অস্তিত্ব ছিল না। সেগুলির সম্পদ ৩৮,০০০ কোটির। এই আইনে ব্যাঙ্কগুলিকে কেন মোটা বকেয়া ছাড়তে হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। অভিযোগ, বহু সংস্থা ভুয়ো কাগজ দেখিয়ে ঋণ নিয়েছে। তারাও এই আইনের সুবিধা পেলে সরকারের টাকাই লুঠ হচ্ছে না কি? যেখানে কর্পোরেট সংস্থাগুলির ৩ লক্ষ কোটির ঋণ ব্যাঙ্কের হিসেবের খাতা থেকে মোছা হয়েছে! নির্মলার যদিও দাবি, এই আইনের মাধ্যমে ৪২.৫% অনাদায়ি ঋণ ফিরেছে।

প্রসঙ্গত, এ সংক্রান্ত বিষয়ে সংসদে আলোচনা চলাকালীন সীতারামন জানান, সময়ে সঙ্গে আইনের সংশোধনীর প্রয়োজন পড়ে। সুপ্রিমকোর্টের রায় অনুযায়ী দেউলিয়া বিধির নযা সংশোধনী আনা হয়েছে। ছোট, বড়, মাঝারি সমস্ত ধরণের ব্যবসায়ীদের কথা মাথায় রেখেই এই নয়া সংশোধনী, জানান কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। ২০১৬সালেও আইবিসির আরেকটি সংশোধনী পাশ করা হয়েছিল সংসদের দুই কক্ষে। সীতারামন জানান, জানুয়ারির ৩১তারিখ পর্যন্ত ৬৪,৪২৩টির মধ্যে ২৭,১০৭টি দেউলিয়া সংক্রান্ত। চলতি বছরে ৪৩হাজার মামলা খারিজ করেছে ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইবু্নায়ল। দেউলিয়া সংক্রান্ত প্রায় ১৫হাজার মামলার নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এই আইন মাত্র ১০শতাংশ ঋণ পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে বলে মোদী সরকারকে আক্রমণ শানান কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ। তাঁর অভিযোগ, ৯৭০টি মামলা আইবিসিকে রেফার করা হয়েছে। ৭৮৯টি খারিজ করা হয়েছে। সমস্ত সংস্থাকে সুরক্ষা দেওয়াই লক্ষ্য ছিল আইবিসির। কিন্তু তা দিতে ব্যার্থ বলে আইবিসিকে কটাক্ষ করেন কংগ্রেস নেতা।

20