বিশেষ প্রতিবেদন, সেপ্টেম্বর ১৯,২০২০: গর্ভবতী মা বাপের বাড়ি। ঠাকুরদার কোলের কাছে জড়োসড়ো হয়ে দুই সন্তান। একজনের বয়স দুই আরেকজনের ছয়। পিতৃবিয়োগের শোক বোঝার বয়স হয়নি। সামনে অন্ধকার ভবিষ্যৎ। তাদের দাদি মর্জিনা খাতুন জানেন না কিভাবে এই অবুঝ শিশুদের মুখে দু’বেলা দু’মুঠো অন্ন তুলে দেবেন। এই প্রশ্নের উত্তর জানতেন না নিজারুল নিজেই। কার্যত সর্বগ্রাসী ক্ষুধার হাত থেকেই মরে বাঁচলেন তিনি।

বাহিন গ্রাম পঞ্চায়েতের মাধবপুর গ্রামের নিজারুল শেখের আত্মহত্যার খবর এখন মিডিয়ার আলোয়। না সরকার না মিডিয়া কেউ খবর রাখে নি লকডাউন এ সুদুর মুম্বাইয়ে একজন কর্মহীন নির্মাণশ্রমিক কিভাবে দিন কাটিয়ে ছিলেন।  সরকারি আঁকড়ে এটাও আপনাকে বলতে পারবে না যে কবে কীভাবে কত খরচ করে তিনি বাড়ি ফিরেছিলেন। না, স্থানীয় বিডিও অফিস বা পঞ্চায়েতের কাছেও খবর নেই বাড়ি ফিরে কিভাবে দিন গুজরান করছিলেন তিনি। তাঁর মা মর্জিনা বিবির বয়ান অনুযায়ী কোনরকম সরকারি সাহায্য তিনি পাননি।

দিনমজুর হিসেবে কাজের সন্ধান করছিলেন তিনি। না চার-পাঁচ দিন কোন কাজ পাননি। ফুরিয়ে গিয়েছিল সঞ্চয়। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ভাই বাড়ির জমানো পয়সা নিয়ে লকডাউন এর পরে ফের পাড়ি জমিয়েছিলেন সুদূর মুম্বইয়ে।  আশ্বাস দিয়েছিলেন দুটো পয়সা জমিয়ে নিজারুলের প্যাসেজমানি জোগাড় হবে। নিজারুল তার দাদার মতো পাড়ি জমাবেন মুম্বাই। আবার হেঁসেলে হাঁড়ি চড়বে। আবার দুবেলা-দুমুঠো অন্ন সন্তানদের মুখে তুলে দিতে পারবেন মা মর্জিনা বিবি। কিন্তু সেসব স্বপ্নই রয়ে গেল। খিদের কাছে হার মানল ধৈর্য। তাই স্ত্রীকে সন্তানসহ  বাপের বাড়ি পাঠিয়ে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে পড়লেন তিনি।

আজ তাঁর বাড়ি গিয়েছিলেন সিপিআইএম জেলা নেতৃত্ব।ছিলেন জেলা সম্পাদক অপূর্ব পাল, জেলা নেতৃত্ব উত্তম পাল। মৃতের ভাইয়ের পড়াশোনার দায়িত্ব বহন করবেন বলে জানিয়েছেন। আগামী সোমবার মৃতের বাবাকে নিয়ে বিডিও অফিসে সরকারি সাহায্যের জন্য আবেদন করবেন এই আশ্বাসও দিয়ে গেছেন।

কিন্তু যে দেশে শ্রমমন্ত্রক খবর রাখেনা পরিযায়ী শ্রমিকের, যে রাজ্যের কোন পরিসংখ্যান নেই লকডাউন শেষে কর্মহীন হয়ে কত  পরিযায়ী শ্রমিক নিরন্ন রয়েছেন, সেখানে প্রশাসন কতটা তৎপরতা দেখাবে তা সহজেই অনুমেয়।

তাই একথা নির্দ্বিধায় বলা চলে পরিযায়ী শ্রমিকের ভবিষ্যৎ এখন নিজারুলের সাথে ঘুমিয়ে রয়েছে সাত হাত মাটির তলায়।

37