চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সারা দেশ জুড়ে চলা সিএএ-এনআরসি আইন বিরোধী উত্তাল আন্দোলনের সময়েই হঠাৎ করে রাজধানী দিল্লির উত্তর-পূর্বাংশে সংঘটিত হয় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা।প্রচুর পরিমানে সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পত্তির হানি হয়। শিশু, বৃদ্ধ, মহিলা কেউই বাদ যায় নি আক্রমণের হাত থেকে।সুপ্রিম কোর্টে এই সন্ত্রাসের অপরাধীদের শাস্তির দাবিতে একাধিক মামলা হয়। পুলিশে বহু অভিযোগ দায়ের হয়।

এবার সেই দাঙ্গায় অভিযুক্ত থাকার অভিযোগে দিল্লি পুলিশ একের পর আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রী, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, অধ্যাপক, সাংস্কৃতিক কর্মীদের ধরপাকড় শুরু করে। গর্ভবতী মহিলাদের করোনার আক্রমণের সময়েও তিহার জেলে বন্দী করে রাখা হয়। কিছু দিন আগে সিপিআই এম সর্বভারতীয় সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি, জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা জয়তী ঘোষসহ বেশ কিছু মানুষের নাম দিল্লি পুলিশের খসড়া চার্জশিটে থাকার কথা সামনে আসে।

এরপরেই এবার দিল্লির সন্ত্রাসে ছাত্র, শিল্পী, সাংবাদিক, সমাজকর্মীদের গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন রাজধানী দিল্লির সাংস্কৃতিক কর্মীরা। প্রায় ৬০০ জন শিল্পী ও সাধারণ মানুষ দিল্লি পুলিশের তদন্তের তীব্র নিন্দা করেছেন। পক্ষপাতদুষ্ট এই তদন্তকে ধিক্কার জানিয়ে তারা এক বিবৃতিও প্রকাশ করেছেন। দিল্লি পুলিশের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে গণস্বাক্ষরও গ্রহণ করেছে তারা।

সংস্কৃতি কর্মীদের দ্বারা প্রকাশিত এই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার ফলেই তাঁদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের জোর করে ভুল বয়ান দিতেও বাধ্য করেছে পুলিশ।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নিয়ন্ত্রণাধীন দিল্লি পুলিশের এহেন আচরনের বিরুদ্ধে আজ রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করে একটি স্মারক লিপি দিয়ে এলেন দেশের বিরোধী দলগুলোর নেতৃত্বরা। রাষ্ট্রপতির কাছে তারা, দিল্লির দাঙ্গা নিয়ে বিচারবিভাগীয় তদন্তেরও দাবি করেছেন । বিরোধীরা দিল্লির দাঙ্গা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কোন কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত করানোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ জানিয়ে আসেন তারা। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎকারী দলে ছিলেন সিপিআইএম সর্বভারতীয় সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি, সিপিআইয়ের ডি. রাজা, কংগ্রেসের আহমেদ প্যাটেল, ডিএমকের কানিমোঝি, আরজেডির মনোজ ঝাঁ প্রমুখ।

11