বাংলা তথা ভারতের ফ্যাশন ডিজাইনিং দুনিয়ায় ইন্দ্রপতন। ৬৩ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন বিশ্বখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার শর্বরী দত্ত। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বাসভবন থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে মৃত্যু হয় তাঁর ৷ কলকাতার ব্রড স্ট্রিটের বাড়িতেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি ৷ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বাসভবন থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়।

যদিও ডিজাইনার শর্বরী দত্তের মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি৷

পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল সকাল থেকেই ফোনে সাড়া দেননি শর্বরী। রাত ১২.১৫ নাগাদ দক্ষিণ কলকাতায় ব্রড স্ট্রিটের বাড়ির শৌচাগার থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়।

নয়ের দশক থেকে কবি অজিত দত্তর সন্তান শর্বরী ভারতীয় পুরুষের অঙ্গবাসে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রত্যাবর্তন ঘটান। পাশ্চাত্য প্রভাব ঝেড়ে ফেলে ভারতীয় পরম্পরার পোশাক রচনায় তিনি ছিলেন পথিকৃত। এখনও পর্যন্ত তাঁর মতো পুরুষদের ফ্যাশন নিয়ে কেউ কাজ করেননি। বলা যায়, ছেলেদের ফ্যাশনের ট্রেন্ড সেট করে দিয়েছেন তিনি। ফ্যাশন দুনিয়ায় নীল, সবুজ, কালো, হলুদ রঙিন ধুতির চল হয় তাঁর হাত ধরেই। ১৯৯৬ সালের তাঁর সেই সৃষ্টির পর থেকেই বদলে যায় ফ্যাশনের সংজ্ঞা। তাঁর ডিজাইনের পোশাকে সাজেননি ইন্ডাস্ট্রিতে এমন অভিনেতা বোধহয় হাতে গোনা।

প্রেসিডেন্সি কলেজের এই প্রাক্তনীর গুণমুগ্ধের তালিকায় দেশ-বিদেশের বিশিষ্টদের ভিড় শর্বরী দত্তকে তিন দশকের বেশি সময় বিশ্ব ফ্যাশন দুনিয়ার অন্যতম জ্যোতিষ্ক হিসেবে তুলে ধরেছিল। সেই তালিকায় রয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, ক্রিকেট তারকা সচিন তেণ্ডুলকর, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, শোয়েব আখতার, টেনিস তারকা লিয়েন্ডার পেজ থেকে শুরু করে হিন্দি ও বাংলা চিত্র জগতের নক্ষত্ররা।

কয়েক বছর আগে দক্ষিণ কলকাতায় নিজের শোরুম ‘শূন্য’-তে নিত্যনতুন সৃষ্টির প্রদর্শনীতে মগ্ন ছিলেন শিল্পী। তাঁর প্রয়াণে বাংলা এবং জাতীয় ফ্যাশন জগতের অপূরণীয় ক্ষতি হল।

12