চুপ

গলির মোড়ের পাগলীটা কাল জন্ম দিয়েছে একটি শিশু,
গভীর রাতে অবলা মেরীর এসেছে কোলে অনাথ যীশু ।
রক্তে ভেজা শরীরী চিহ্নে মা কে তার যাচ্ছে চেনা,
বাবার নাম জানতে চাইছো ? সাহস তোমার মন্দ তো না ।
চুপ ! সে সব কথা জানা মানা ।

নিঝুম রাতে বিশাল গাড়ি রাস্তা ছেড়ে ফুটপাতে যায়,
ফুটপাত কি শোবার জন্য ? মরলে গরীব কি এসে যায় ।
দোষ তো করলো নেতার গাড়ী, মাতাল ছেলের দোষটা কোথায় ?
জানবে তুমি নেতার নাম ? প্রশ্ন তোমার যথার্থ না ।
চুপ ! সে সব নাম জানা মানা ।

সিক্সে পড়া ছোট্ট মেয়েটা নিজের ভেতর গুমড়ে থাকে,
আবছা আলোয় সে দেখেছে গভীর রাতে তার ঘরে কে ।
মাতৃহীন জীবনটা তার নরক ছাড়া আর কিছু না,
ঘরের কথা বলবে কাকে, হতাশ মেয়েটির নেই ধারণা ।
চুপ ! এসব কথা বলা মানা ।

গাঁয়ের ছেলে পড়ছে অনেক, সব ক্লাসে তার রেজাল্ট খাসা,
চিকিৎসকের স্বপ্ন চোখে, মানব সেবার মনে আশা ।
কিন্তু সে তো চাষির ছেলে, এসব পড়া তার হবে না,
যোগ্যতা কি মাপকাঠি নয় ? কেন উপরি ছাড়া সিট পাবে না ?
চুপ ! এসব প্রশ্ন করা মানা ।

রায় বাবুর ছোট মেয়েটা স্বভাব – গুণে ভীষণ ভালো,
তবুও তাদের বাড়ছে চিন্তা, রংটা যে মেয়ের বেজায় কালো ।
কয়েক লক্ষ পণ ছাড়া ছেলের বাড়ীর মন গলে না,
কেন বিয়ের জন্য লাগবে টাকা এ প্রশ্ন কেউ করে না ।
চুপ ! মনের কথা বলা মানা ।

তোমার আমার সবার মনে এসব প্রশ্ন দিচ্ছে উঁকি,
তবুও আছি কুলুপ এঁটে, কেউ নেব না কোন ঝুঁকি ।
এখনও সবাই আশায় বসে, আসবে ফিরে সেই খোকাটা,
নাংটো রাজাকে করবে প্রশ্ন সাহস নিয়ে সেই বোকাটা ।
শিরদাঁড়া হীন আমরা শুধু থাকবো কেবল বোকা হয়ে,
চুপ ! ওরা শুনতে পাবে ।