ছবি প্রতিকী

তীব্র রক্ত সংকট রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজে ও হাসপাতালে। রিতিমত রক্তের হাহাকার দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে মেডিকেলের ব্লাড ব্যাংক কার্যত শূন্য হয়ে পড়েছে। আর এই রক্ত সংকটের সুযোগ নিয়ে দালালরাজ আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে মেডিকেল কলেজ চত্বরে। রক্তের জন্য দালালের পাল্লায় পড়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে মুমূর্ষু রোগীর পরিবারকে। সম্প্রতি রায়গঞ্জ থানায় দালালদের খপ্পরে পড়ে একাধিক অভিযোগ দায়ের হলেও মেডিকেলে দালালরাজ অব্যাহত রয়েছে। যদিও ব্লাড ব্যাংকের কর্মীদের সাফ বক্তব্য, বারংবার রোগীর পরিজনদের সাবধান করা হলেও তাঁরা সচেতন হচ্ছেন না। বিভিন্ন মাদকে আসক্ত কিছু যুবক নেশার টাকা জোগাড় করতেই রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও ক্যাম্পাসে রক্তের দালালি শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে।

করোনা পরিস্থিতিতে যথেষ্ট সংখ্যায় ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্পের আয়োজন করা যাচ্ছে না। কারণ যথেষ্ট সাবধানে রক্তদান কর্মসূচি না নেওয়া হলে করোনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। গত কয়েকদিন ধরে রায়গঞ্জ হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংক কার্যত শূন্য হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার ব্লাড ব্যাংকে ভাঁড়ারে রক্ত ছিল এ পজিটিভ ০ ইউনিট, ও পজিটিভ ০ ইউনিট, এবি পজিটিভ ০ ইউনিট, এ নেগেটিভ ০ ইউনিট, বি নেগেটিভ ০ ইউনিট, ও নেগেটিভ ০ ইউনিট, এবি নেগেটিভ ১ ইউনিট। এর ফলে মুমূর্ষু রোগীরাও রক্ত পাচ্ছেন না। হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের রক্তের প্রয়োজন হলেও তা মিলছে না বলে অভিযোগ। বিশেষ করে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীরা চড়ম সংকটে। সংক্রমণের আশঙ্কায় কমে গিয়েছে রক্তদান শিবির।

রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ দিলীপ পাল জানিয়েছেন, আগে একমাসে প্রায় ৫০-৬০টি রক্তদান শিবির হত। করোনা আবহে রক্তদাতার সংখ্যাও কমে গিয়েছে। ফলে ব্লাড ব্যাংকে রক্ত সংকট দেখা দিয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদেরই রক্ত দেওয়া যাচ্ছে না। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে রক্তদান শিবির করার আবেদন করা হয়েছে। হাসপাতালেও প্রতিদিন ৫-৭ জন এসে রক্ত দিতে পারবেন, সেই পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, যে পরিমাণ রক্তের চাহিদা, সেই তুলনায় জোগান নেই। ফলে অনেক সময় থ্যালাসিমিয়া রোগীদেরও ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এদিকে, রক্তের এই সংকটকালে হাসপাতালে ব্লাড সেপারেশন ইউনিট দ্রুত চালুর দাবি উঠেছে। যদিও লকডাউনের আগেই ব্লাড সেপারেশন ইউনিটের জন্য মেশিনপত্র চলে এসেছে। কিন্তু অজ্ঞাতকারণে এখনও তা চালু হয়নি।

5