অক্সিজেন ফুরিয়ে গেছে করোনা আক্রান্ত তরুণীর, খুলে গেছে স্যালাইনের চ্যানেলও। বারবার ডেকেও সাড়া মেলেনি কোনও ডাক্তার-নার্সের, সকলের চোখের সামনে দৃশ্যতই কাতরাতে কাতরাতে মারা গেল ২০ বছরের তরুণী সুজাতা!

এই ঘটনা সামনে আসার পরে কার্যত স্তব্ধ হয়ে গেছেন সকলে। সরকারি হাসপাতালে বেডে শুয়ে অক্সিজেনের অভাবে কাতরাচ্ছেন রোগিণী, তবু মিলল না ন্যূনতম চিকিৎসা, এমনটাও সম্ভব!

প্রত্যক্ষ দর্শী অন্য একাধিক রোগীর বক্তব্য অনুযায়ী অক্সিজেন শেষ হয়ে গেছিল সুজাতার, এমনকি হাতে লাগানো স্যালাইন খুলে গেছিল তার। সকলের চোখের সামনে কাতরাতে থাকে বছর ২০-র ঐ তরুণী। বার বার সাহায্য চাওয়া হলেও কেউ এগিয়ে আসেনি কেউ। কাতরাতে কাতরাতে মৃত্যুর মুখে ঢলে পরে সুজাতা। চোখের সামনে এই রকম অমানবিক দৃশ্য দেখে রীতিমত আতঙ্কে রয়েছেন ঐ ওয়ার্ডের বাকি রোগীরাও।

হাসপাতাল সূত্রের খবর, ২০ বছরের সুজাতা সাউ মহারানি কাশীশ্বরী কলেজের দ্বিতীয় বর্ষে পড়তেন। কাশীপুর রেলবস্তিতে থাকেন তাঁরা। বাবা ছাতু বিক্রি করেন। জানা গেছে, গত মাসের ২৪ তারিখ জন্মদিন ছিল সুজাতার, ওই দিন বস্তির ঘরেই কয়েক জন কাছের বন্ধুকে ডেকে জন্মদিন পালন করে সুজাতা।

এর পরেই ২ সেপ্টেম্বর জ্বর ও অন্যান্য উপসর্গ দেখা দেয় তাঁর। প্রথমে তাঁকে আরজিকর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে, কোভিড টেস্ট করানোর পরে রিপোর্ট আসে পজিটিভ।  তখনই সুজাতাকে রেফার করা হয় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে। সেপ্টেম্বর মাসের ৪ তারিখ থেকে গ্রিন বিল্ডিংয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

সুজাতার পরিবারের দাবি, মেয়ের শারীরিক অবস্থা ক্রমেই খারাপ হচ্ছিল। শ্বাসকষ্ট বাড়ছিল তাঁর। চিকিৎসকদের অনেক বার বললেও কোনও সুরাহা হয়নি। এমনকি ঠিকমতো খাবারও দেওয়া হয়নি তরুণীকে।

একইসঙ্গে চিকিৎসাধীন থাকা উল্টোডাঙার বাসিন্দা দোয়েল অধিকারী অভিযোগ করেন, তাঁরা চোখের সামনে দেখেছেন মেয়েটি যন্ত্রণায় কষ্ট পাচ্ছে, শ্বাসকষ্ট বাড়ছে। খাবার চাইছে বারবার। নার্সদের বলেও কোনও ফল হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। সারারাত কাতরানোর পরে সকালে যখন খুবই খারাপ অবস্থা তরুণীর, তখন দোয়েল নিজেই গিয়ে বিস্কুট খাওয়ান সুজাতাকে। কিন্তু একসময়ে অবস্থা আরও খারাপ হয়, অক্সিজেনের অভাবে কাতরাতে থাকেন সুজাতা।

অভিযোগ, চোখের সামনে ছটফট করছিল মেয়েটি, কিন্তু নার্সরা নাকি দাবি করেন, শিফ্ট বদল হচ্ছে, এখন কেউ দেখতে পারবেন না রোগীকে। শেষমেশ সকলের সামনেই মারা যান সুজাতা। দোয়েলের আরও অভিযোগ, এসময়ে তিনি তাঁর মোবাইলে কয়েকটি ছবি তুললেও পরে তা নানা ভাবে মুছে দেওয়া হয়েছে।

এই প্রথম নয়, করোনা রোগীদের অবহেলা করার একাধিক অভিযোগ আগেও উঠেছে মেডিক্যাল কলেজের বিরুদ্ধে। কলকাতা তথা রাজ্যের অন্যতম সেরা মেডিক্যাল কলেজের যদি এই অবস্থা হয় তবে রাজ্যের বাকি কোভিড হাসপাতালে কি হতে পারে ভেবে সিউড়ে উঠতে হয়!

14