ওয়েব ডেস্ক সেপ্টেম্বর, ১৪,২০২০: ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলো বৃদ্ধ দম্পতি। ঘটনায় চাঞ্চল্য এলাকায়। বৃদ্ধ বিশ্বনাথ দাস ও সবিতা দাস শ্যামনগর পীড় তলার বাসিন্দা। এক ছেলে এক মেয়ে রয়েছে ওই বৃদ্ধ দম্পতির। মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে শেওড়াফুলিতে। বেসরকারি জুট মিলের অবসর প্রাপ্ত শ্রমিক বিশ্বনাথ বাবু। পেনশনের সামান্য টাকা পান তিনি। বিশ্ব নাথ বাবুর একমাত্র ছেলে বিপুল দাস কাঠ মিস্ত্রির কাজ করেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ বিশ্বনাথ বাবুর ছেলে বিপুল দাস প্রায়শই বাবা মাকে মারধোর করত। রবিবার সকালেও তার অন্যথা হয়নি। এরপর বাবা মা ছেলের এই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

জগদ্দল থানার পুলিশ বৃদ্ধ দম্পতি কে উদ্ধার করে তাদের বাড়িতে ফিরিয়ে দিতে এলে কান্নায় ভেঙ্গে পরেন ওই বৃদ্ধ দম্পতি। বিশ্ব নাথ বাবু বলেন “আমার ছেলে আমাদের ভীষন মারধর করে, মারতে মারতে মাটি তে শুয়ে দেয়। এই অত্যাচার কত সহ্য করা যায়। আজ সকালে ছেলে খেতে চাইছিলো। ওর মার একটু দেরি হচ্ছিলো খাবার দিতে তাই ছেলে সেই অপরাধে আমাদের বেধড়ক মারধর করে।
আর সহ্য না করতে পেরে আমরা গঙ্গায় ঝাঁপ দিতে গিয়েছিলাম।”

তবে এত অত্যাচার সহ্য করেও ওই বৃদ্ধ দম্পতি তাদের এক মাত্র ছেলে কে পুলিশের হাতে তুলে দিতে চাননি। জগদ্দল থানার পুলিশও বাবা মা র এই আবেদন মেনে নিয়ে বিশ্বনাথ বাবুর ছেলেকে ছেড়ে দেন।

এদিকে বৃদ্ধ বাবা মা কে মারধর করে বাড়ি থেকে বেড় করে দেওয়ার কথা জগদ্দল থানার পুলিশের কাছে স্বীকার করে নেন বিপুল দাস । সেই সঙ্গে বিপুল মুচলেকা দেন যে আগামী দিনে সে আর তার বাবা মা কে অত্যাচার করবে না।

13