বাংলা ছোটগল্পে মুসলিম জীবন

পুরুষোত্তম সিংহ

গ্রাম্য জীবনের কলহ বিবাদকে সামনে রেখেই গড়ে উঠেছে  আবদুল জব্বারের ‘পীরিণী বুড়ির বিচার’ গল্প। উত্তর ঔপনিবেশিক প্রেক্ষাপট ও আর্থিক সংকটের সঙ্গে পাল্টে যায় মানুষের মনন, চিন্তা ও স্বার্থ। ফলে সহজ সরল গ্রাম্য জীবন হয়ে ওঠে কুটিল, স্বার্থমগ্ন ও আত্মসুখভোগী। সামান্য তুচ্ছ বিষয়কে নিয়েই বিবাদ বেধে যায়। ‘পল্লীসমাজ’ উপন্যাসে আমারা দেখেছিলাম কীভাবে সামান্য চালতা গাছ নিয়ে দুটি মানুষ নিঃস্ব হয়ে গিয়েছেল। এ গল্পের সমস্যার কেন্দ্র বিন্দুতে আছে দুটি মুরগির বাচ্চা নিয়ে দুই নারী লায়লা বিবি ও হালিমা বিবির বিবাদের কথা। হালিমা সাতটি ডিম দিয়েছিল লায়লাকে- সেখান থেকে পাঁচটি মোরগ হয়েছে লায়লার মতে। কিন্তু হালিমা বলে কিছু মুরগিও হয়েছে- এই সামান্য ঘটনাকেই অসামান্য প্রেক্ষাপট দান করেছন লেখক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রাম্য জীবনের রূপ যেমন ফুটে উঠেছে তেমনি নারী জীবনের অন্দরমহলের সত্য পরিস্ফূটিত হয়েছে। বিপুল অভিজ্ঞতা ছাড়া এ গল্প লেখা সম্ভব নয়। কথোপকথনের মাধ্যমে গ্রাম্য জীবন তথা মুসলিম অন্দরমহলের যে প্রাককথন তিনি তুলে ধরলেন তার সঙ্গে পাঠকের একটু পরিচয় করিয়ে দেই-

ক.” লায়েলা বলল : ‘তুই যদি সতী হবি, হ্যাঁ ল মাগী, তবে তোর লিজের সব কটা মেয়ে হয় নে কেন লা ? তোর মুরগীই খালি সব, ‘পিলে’- মুরগি বাচ্চা তোলে আর মোর মুরগির সব মোরগ- বাচ্চা হয় ? ঠিক আচে লো বেহুলা সতী, তোর মুরগি যদি আমার মোরগের কাচে আসে তো গইলে( গোয়ালে) ফেলে তোর পাচায় কল্কি পুড়িয়ে দাগ দোব তোর সতীগিরি থাকবে, তোর মুরগির সতীগিরি থাকবে না কেন লো বড়লাট – ভাতারী ?”

খ. “ হালিমা বলে : তোর বেটার মাথায় হাত দিয়ে বল। তোর মাথায় কোরান সরীফ দোব, তোকে মজিদে’র( মসজিদের) ভেতর হলপ করে বলতে হবে, তোর পাঁচটা ছেলে- মেয়ের ভেতর কটা ঠিক খাঁটি লোককে বাপ বলে ডাকে ! ক’টা ‘বাওয়া’ আন্ডা ! তোর পাছার বাহার, তোর চলন দেখে কোন জোয়ান ছোঁড়া না গাড়োলের মতন চেয়ে থাকে। তুই নামাজ পড়িস লা, তুই তিরিশটা রোজা করিস লা ? তোর ভাতার মোর দেওর, তাকে দেখে মাথায় ঘোমটা উদোম হয়ে গা ধুস ? তোর বিপদ নেই না … আপদ নেই লা ? তরকারি চাইতে আসবি নি লা বাটি হাতে লিয়ে ?” 

“ আমরা বৈষ্ণব। জাতধর্মের ওপরে। আমাদের কাছে সবাই সমান। শ্রীচৈতন্যের মুসলমান ভক্তও ছিলেন।“  বিচ্ছন্নতাবাদ, সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ, হানাহানি আজ গ্রাস করেছে মানুষকে। চৈতন্য, হজরত মহম্মদ, কবীর, নানক, বিবেকানন্দ ও রবীন্দ্রনাথ যে ভারতবর্ষ গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। দুটি সম্প্রদায়কে বিভেদ করতেই দেশভাগ, ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ – সে ধর্মান্ধতা আজও শেষ হয় নি। ধর্মের বাতাবরণে পৃথিবীকে গ্রাস করতেই আজ অগ্রসর এক শ্রেণির মানুষ। আজকের দিনে বসে আবদুল জব্বারের ‘মানুষ মানুষের জন্য’ গল্পের পাঠ প্রয়োজন অত্যন্ত গূরুত্বপূর্ণ বলে আমার মনে হয়। একটি মুসলিম যুবক কীভাবে হিন্দু পরিবারকে রক্ষা করল তা লেখক অদ্ভুত ভাবে দেখিয়েছেন। তেমনি লেখকের মানবতাবাদী উদার ধর্মের দৃষ্টির পরিচয় ফুটে উঠেছে-“ আজ থেকে তুই আমার ধর্মবোন। যে ধর্ম মানুষের ধর্ম। হিন্দু কিম্বা মুসলামন নয় !” এক্কা চালক জাহেদ বাড়ি ফেরার সময় রাস্তায় এক বিপন্ন যুবতী দালিমকে দেখে। জাহেদ তাঁকে বাড়ি পৌঁছে দেবার প্রতিশ্রুতি দেয়। বাড়ি পৌঁছে দিতে পথ ভুল হয়ে যাওয়ার ফলে সকাল হয়ে যায়। জাহেদ সেই নারীকে বাড়ি নিয়ে যান না কেননা স্ত্রী রাগ করতে পারে। ডালিমের বাড়িতে গিয়ে দারিদ্র্য আবস্থা দেখে পরিবারের সমস্ত দায়িত্ব পালন করে জাহেদ। সুশান্তের কাছে ডালিমের পরিচয় দেয় ধর্মবোন বলে। এভাবেই জাহেদ মানবিক মহিমায় উত্তীর্ণ হয়েছে। জাহেদ এই সমস্ত কথা স্ত্রী জয়তুন বিবিকে বলে না, জানে স্ত্রী রাগ করতে পারে-“যদি বাড়িতে নিয়ে যায়, জয়তুন কি বিশ্বাস করবে এই মেয়েটাকে চোগ করেনি। মুসলমান পুরুষকে বিশ্বাস করা যায় ? জয়তুন তো জানে তার স্বামী কি রকম অসংযত যৌবন। ষাঁড়ের মতন ! কথাটা ভাবতে হাসি পেল জাহেদের ।“ সবশেষে সুশান্ত- ডালিমের বিবাহতে নিয়ে যায় জয়তুন বিবিকে। বিচ্ছিন্নতাবাদ, অবক্ষয়িত ঘূনধরা সমাজব্যবস্থা ও অধঃপতিত মূল্যবোধের রসাতলের হাত থেকে সমাজকে নব সূর্যদয়ের পথ দেখাতে পারে একমাত্র সাহিত্য। আর ভেদাভেদের সাহিত্যকে মহান মানবিক সত্য প্রতিষ্ঠা করেছিল যেসব গল্প, তাদের মধ্যে অবশ্যই স্মরণীয় হবে আবদুল জব্বাবের ‘মানুষ মানুষের জন্যে’ গল্পটি।

                নারীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে নীড়। নারীর সংস্পর্শে, ভালোবাসায় কীভাবে পাল্টে যায় জীবন তা ফুটে উঠেছে ‘সমুদ্রভৈরবী’ গল্পে। লেখক এ গল্প সম্পর্কে নিজেই বলেছেন-“ ডুবুরি জীবনের সুখ- দুঃখ নিয়ে হাজার ফিচার লেখা হলেও রাহিলা জন্মাল একটু অন্য ভাবে- হতাশা থেকে বেঁচে ওঠার স্বপ্নই তার মধ্যে এক মধুর স্বাদে ভৈরবী বাজিয়ে দিয়েছে।“( ১৩) এক গণিকা মুসলিম নারীর সংস্পর্শে কীভাবে পাল্টে গেল এক পুরুষ জীবন ও জীবিকা তা লেখক অদ্ভুত ভাবে ফুটিয়ে তুলছেন। রশিদ ডুবুরি, পিতাও ডুবুরি ছিল- সমুদ্র থেকে শাঁখ তোলাই তাদের কাজ। এ কাজে মদ্যপান করতে হয়, জীবন বাজি রেখে নামতে হয় সমুদ্রে। হাঙর বা সামুদ্রিক জীবের হাতে না পড়লেও দীর্ঘদিন এ কাজ করলেই নোনাজলে চোখ নষ্ট হয়ে যায়। যেমন হয়েছিল পিতা আরিফের। আরিফের অবর্তমানে সংসার চালাতে ডুবুরি হতে হয়েছে রশিদকে। রশিদ প্রতিদিন একশো টাকা পেলেও মদ্যপান ও নারীসঙ্গ করে অনেক টাকা নষ্ট করে। সে ভালোবাসে রহিলাকে। রহিলাও অনেক টাকা নেয় রশিদের কাছ থেকে কেননা এই টাকায় রহিলাকে সংসার চালাতে হয়। এই টাকার জন্যই তাঁর পিতা কন্যাকে বিবাহ দিতে চায় না। রশিদ একদিন বিবাহ নিয়ে প্রশ্ন তোলে, রাজি হয় রহিলা। রশিদ সেদিন সমুদ্রে নামে। আশ্চর্য জনক ভাবে সেদিনই হাঙরের মুখে পড়ে, হাত রক্তাক্ত হয়ে যায়। এই পরিস্তিতিতে সমস্ত পরিবারকে উদ্ধার করে রহিলা। রশিদের কাছ থেকে যে টাকা রহিলা পরিবারের জন্য, তা থেকে প্রতিদিনে সে দশটাকা করে জমিয়েছে, তাঁতে ছত্রিশ হাজার টাকা হয়েছে। সেই টাকা দিয়েই রশিদ নৌকা ও জাল কেনে। নারীর সংস্পর্শে রসিদ ডুবুরি থেকে হয়ে যায় জেলে মাঝি। রশিদের এই জীবিকা পরিবর্তনই গল্পের কেন্দ্রীয় বিষয়। আর এই পরিবর্তনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে রহিলা। শুধু জীবিকা পরিবর্তনই নয় একটি পরিবারের বংশ পরম্পরায় প্রচলিত  ঐতিহ্য সে পাল্টে দিয়েছিল। এ গল্পের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। কিন্তু রয়েছে নারীর ভালোবাসা ও শ্রেণিসংগ্রামের ইতিবৃত্ত। আর ডুবুরি নয় রশিদ তাঁর ভাইদের মাঝি হিসেবেই গড়ে তুলতে চায়-

“ রশিদ বলল,’ভেবে দেখ যাদের দশখানা নৌকা খাটছে, দিনে তাদের কত উপায় ! দেখ রহিলা কত বছর ধরে পিঁপড়ের মতন একটা একটা দানা সংগ্রহ করে রেখে, আমাদের বরাত ফিরিয়ে দিলে। নৌকা- জালের যত্ন নিবি আজিম। আর কেউ মদ খাবি না – বাজে পয়সা খরচ করবি না। দুবছর পরেই আমরা পাকা বাড়ি বাঁধব। আরো একটা নৌকা কিনব। সবাই মিলেমিশে থাকব। ঝগড়া গণ্ডগোল বাজে ব্যাপারের ধারে কাছেও কেউ এগোবে না।“ 

“ আমার কাছে জীবনটা একটা ব্ল্যাকবোর্ড- লিখেছি আর মুছে দিচ্ছি”( সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়)। সেই জীবনসত্যের সন্ধানেই অগ্রসর হন লেখকরা। আর সে জীবন যদি নিজের চোখে দেখা সমাজজীবন হয় তাহলে সৃষ্টির ফসল অচিরেই সমৃদ্ধ হয়। তেমনি রয়েছে সৃষ্টিকর্তসর নিজস্ব বলয়। কালের স্রোতে ভেসে যাওয়া অজস্র পাঠককূলের বিপরীতে কিছু লেখক নিজস্ব ভাবনা বলয়ের অন্তঃদর্পণে বিষয়কে উপস্থাপিত করেন। তেমনই একজন শিল্পী আবদুল জব্বার। মুসলিম সমাজের মিথ, জটিল জীবন, সমাজ সত্য সবই তিনি নিজের দৃষ্টিতে ভেঙে পুণঃনির্মাণ করেন। তেমনই একটি গল্প ‘অমৃত স্নান’। এ গল্প সম্পর্কে লেখক নিজেই বলেছেন-“ এটি যেন সোনালী সুতোয় বোনা একটি ওড়নার মতো।“ মুসলিম একটি অবৈধ প্রেমকে লেখক এখানে পরিবেশন করেছেন। প্রেমের জন্য আত্মত্যাগ, প্রেমের জন্য জাতিকূল আত্মবিসর্জনের নানা চিত্র আমরা মধ্যযুগ থেকে আধুনিক যুগের বিভিন্ন গল্প উপন্যাসে পেয়েছি। এ গল্পেও আছে নার্গিস বানুর সঙ্গে হজরত হোসেনের অবৈধ প্রণয় চিত্র। প্রেমে বঞ্চিত হয়ে সন্ন্যাস জীবন গ্রহণ ও বহুদিন পরে মিলন। আর এই মিলনের ফলেই নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেন মানবকল্যানে। চৈতন্য, হজরত, নিমাইরা প্রেমেরই জোয়ার আনতে চেয়েছিলেন পৃথিবীতে ; নব পৃথিবীর এই নবীন যুগল আবার মিলনের গান শুনিয়ে গেলেন বিভেদ মুছে দিতে।

            “ ডাকাতের বেটা ডাকাত। তীব্র হয়ে ওঠ বেটা। বাপ- বেটায় লড়াই করে বাঁচব।“ সুন্দরবন এলাকার মানুষের জীবন সংগ্রাম নিয়ে গড়ে উঠেছে ‘সুন্দরবনের কাঁটা’ গল্পটি। আবদুর রহিম শুধু মুসলিম চরিত্রের প্রতিনিধি নয় তাঁকে শ্রেণি চরিত্র হিসেবে দেখতে চাই। সুন্দরবন এলাকার বহু মানুষকেই এভাবে জীবন সংগ্রামে বাঁচতে হয়- লেখক আবদুর রহিম ও লায়লার মাধ্যমে তা ফুটিয়ে তুলেছেন। তেমনি আছে নারীর জীবনযন্ত্রণার ইতিবৃত্ত। লায়লার পিতা ইনসান গাজি। টাকার জন্য বৃদ্ধ ইবরাইম রফাদানের হাতেই কনভাকে সে তুলে দিতে চেয়েছিল। আবদুর রহিমের কাছেই। কিছুদিন পরেই আবদুর রহিমের জেল হয়। জঙ্গলেই পড়ে থাকতে হয় বিড়ম্বিত নারী হিসেবে লায়লাকে। পিতারও মৃত্যু ঘটেছে, মনুষ্য সমাজে হঠাৎ একদিন দেখা স্ত্রীর জন্য কাপড় নিয়ে এসেছে। আবদুর রহিম বিস্মিত হয়েছে লায়লাকে দেখে। লায়লা নিজস্ব সমাজকে ফিরে যায় নি কাপড়ের অভাবে, অরণ্যে থাকার মধ্যে রহিমের প্রতি ভালোবাসাই শেষ প্রশ্ন হতে পারে না ! তবে আবদুর রহিম ফিরে আসায় আর কোন অভিমান নয়, তাঁরা ফিরে এসেছে –“ এখানে আর নয়, চলো মানুষের সমাজে ফিরে যাই।“

            অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে থাকা সমাজে নারীদের প্রবল ভাবে শোষিত হতে হয়। তবে সমস্ত নারীই তো নীড় বাধার স্বপ্ন দেখে , সংসার করার আকাঙ্ক্ষায় দিন গোনে। অথচ দারিদ্র্যের সংসারে পিতা- মাতাকে দেখতে অনেক নারীকেই বিপথে যেতে হয়। যেমন- ‘পতন অভ্যুদয়’ গল্পের মনজিদা। গল্পের নামকরণের মধ্যেই বিষয়টি স্পষ্ট। মনজিদা নামে একটি নারী দারিদ্র্য ও ধর্মীয় পরিবেশে নিজ সংসারকে বাঁচাতে কীভাবে অধঃপতিত হল এবং ইমাম নামে এক যুবক কীভাবে তাঁকে সংসার জালে বদ্ধ করল- সে কাহিনি উঠে এসেছে এ গল্পে। মনজিদা আধুনিক নারী, সে নভেল পড়ে, সংসারের দারিদ্র্য ঘোঁচাতে তাঁকে নামতে হয়েছে বিপথে-“ একসময় এসব অভিনয় মনে করে ইমাম চেপে ধরল মনজিদাকে। মনজিদা শৃঙ্গার রসে বাধা দেয় না কিন্তু আদিরসের বেলায় অরাগ হয়ে অনুনয়- বিনয় করে, শেষে পায়ে ধরে কান্নাকাটি জুড়ে দেয়।“ ইমাম বিবাহিত যুবক। অন্যপুরুষের সঙ্গে ভালোবাসা ছিল বলে স্ত্রী চলে গেছে। স্ত্রী চলে যাওয়ায় ইমাম শূন্য হৃদয় নিয়ে পথ পানে বসে আছে। ইমাম প্রথমে মনজিদার সঙ্গে কিছু সময় কাটাতে চাইলেও মনজিদা রাজি হয়না। মনজিদা ইমামের ব্যবসার কাজে অনেক সাহায্য করে। নতুন স্ত্রী হয়ে মনজিদা নব স্বপ্ন দেখেছে সংসার করার-

“ পায়ের নিচ থেকে স্রোতের টানে হুড়হুড় করে বালিমাটি সরে যাওয়া জায়গাটাতে দাঁড়িয়ে থেকে খুশী হয়ে মনজিদা বলল, ‘তোমাকে যতটা চোতলোক নও কারণ তোমার মতো ধনবানের পুত্রের মধ্যে অহংকারের চাইতে মানবকল্যান চিন্তা বেশি ছিল, নইলে এই অধম নারীটি আজ তোমার সন্তানের মায়ের মর্যাদা পেত ?”

জীবনের সমস্ত পাপ বিসর্জন দিতে তাঁরা আজ এসেছে সমুদ্র সৈকতে। সমুদ্র আজ তাদের মন্ত্র দিচ্ছে কীভাবে সমস্ত পাপ ধুয়ে আবার নতুন করে জীবন শুরু করবে। ব্যর্থতাই শেষ কথা হতে পারে না, সমস্ত ভুলে মানুষ আবার নতুন করে বাঁচে- তাই নতুন সংসার করতে চেয়েছে মনজিদা। অন্যদিকে ‘হুর’ গল্পে কুররাতুলাইন ও সঙ্গে সঙ্গে মুসলিম মেহেদি ইমাম। সমাজ প্রগতির সঙ্গে সঙ্গে মুসলিম নারীরা শিক্ষা- সংস্কৃতিতেও এগিয়ে এসেছে। কুররাতুলাইন প্রগতিশীল নারী, সে রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি গেয়ে চলে। মেহেদি ইমাম বহু অধ্যাপিকাদের প্রেম প্রত্যাখ্যান করলেও আজ প্রেমে পড়ছে কুররাতুলাইনের। ইমামের মা মহাজুদা অন্য পাত্রী ঠিক করলেও আজ মন পড়ে আছে-“ নামাজ ভুল হয়ে যেতে লাগল আজ মেহেদি ইমামের। ঝড়ের কোলে পাশাপাশি কুররাতুলাইনের কাছে শুয়ে পড়ে বজ্রপাত , আর বাঁচার দৃশ্যটা তার মনে পড়তে লাগল।“

28