ওয়েবডেস্ক সেপ্টেম্বর ৭,২০২০: ফেসবুক কর্তৃপক্ষের পাঠানো মেইল পেয়ে এক যুবকের আত্মহত্যার প্রচেষ্টা রুখলো রাজ্য বিশ্বের সাইবার সেল।

গতকাল রাত দেড়টা নাগাদ একটি ই-মেইল পায় পুলিশ। ফেসবুকে তরফ থেকে রাজ্য পুলিশের সাইবের সেল কে জানানো হয় যে এক ইউজার আত্মহত্যার চেষ্টা করছেন । ওই ইউজার ফেসবুকে তাঁর টাইমলাইনে একটি ভিডিয়ো আপলোড করে জানিয়েছেন যে, ধারালো ব্লেডের সাহায্য তিনি আত্মঘাতী হতে চলেছেন।

ফেসবুকের থেকে এই খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে তত্‍‌পর হয় পুলিশ। শুরু হয় তদন্ত। তদন্তে দেখা যায়, ফেসবুকে নিজের প্রোফাইল তৈরি করার সময় কয়েকটি ফোন নম্বর তৈরি করেছিলেন ওই ইউজার। সেই ফোন নম্বরগুলি ভালো করে পরীক্ষা করে দেখা যায়, তার মধ্যে একটি নম্বর নদিয়া জেলার। এরপর সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর মাধ্যমে সেই নম্বরের লোকেশন খুঁজে বের করা হয় এবং দেখা যায়, সেই নম্বরটি ওই ইউজারের বাবার ফোন নম্বর।

এরপর আর দেরি করেনি পুলিশ। সঙ্গে সঙ্গে সেই নম্বরে ফোন করা হয়। আত্মহত্যার চেষ্টা চালানোর সময় তাঁর বাবার কাছে পৌঁছে যায় পুলিশের ফোন। তাঁকে সব ঘটনা খুলে বলে পুলিশ। তখন সেই ব্যক্তি ছুটে পাশের ঘরে গিয়ে ছেলেকে উদ্ধার করে। ততক্ষণে বিশেষ কিছু করে উঠতে পারেননি ওই ছেলেটি। ফলে অল্পের জন্য তিনি প্রাণে বেঁচে যান। সময়ের একটু এ দিক-ও দিক হয়ে গেলেই সাংঘাতিক কিছু ঘটে যেতে পারত।

পরে ওই ইউজারের বাবা পুলিশকে জানান, তাঁর ছেলে গত ২-৩ বছর ধরেই হতাশায় ভুগছেন। এর আগেও তিনি ৩-৪ বার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। এ দিনের গোটা ঘটনা জানানো হয় নদিয়া পুলিশকেও। ছেলেটির চিকিত্‍‌সার জন্য একটি মেডিক্যাল দলও ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয় পুলিশের কাছে। সেই সময়ের মধ্যে ভীমপুর থানার কর্মীরা সেখানে গিয়ে ওই ইউজার ও তাঁর বাবার সঙ্গে দেখা করেন। পরে চিকিত্‍‌সার পর ওই ব্যক্তিকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ছেলের প্রাণরক্ষার জন্য পুলিশ ও ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ওই ইউজারের বাবা।

25