ঘটনাস্থল এবং ইনসেটে নীলাঞ্জনা চট্টোপাধ্যায়

মায়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে একটি আবাসন থেকে বেরিয়ে গাড়িতে উঠতেই কাছেই অন্য একটি গাড়ির ভেতর থেকে তরুনীর চিৎকার শুনে গাড়ি থেকে নেমে দৌড়ে তাকে বাঁচাতে গিয়ে আততায়ীর গাড়ির তলায় পরে পা ভাঙলো এক মহিলার। যদিও মেয়েটিকে বিপদ থেকে বাঁচাতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।

শনিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে ই এম বাইপাসে, আনন্দপুর থানা এলাকার আর আর প্লটে একটি আবাসনের সামনে। গাড়ির চাকায় পায়ের হাড় ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছে মহিলার। মায়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠান সেরে ওই আবাসন থেকে বেরিয়ে স্বামী দীপ শতপথী ও মেয়ের সঙ্গে বাড়ি ফিরছিলেন নীলাঞ্জনা চট্টোপাধ্যায়। সেই সময়ে আবাসনের কাছেই তাঁদের গাড়ির পিছনে দাঁড়ানো একটি গাড়ির ভিতর থেকে ওই তরুণীর চিৎকার শোনেন দীপ ও নীলাঞ্জনা। নিজেদের গাড়িটিকে তাঁরা পিছনের গাড়ির সামনে আড়াআড়ি ভাবে দাঁড় করিয়ে দেন। নীলাঞ্জনা গাড়ি থেকে নেমে পিছনের গাড়ির দিকে যেতেই সেটির ভিতর থেকে ওই তরুণীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। প্রাথমিক ভাবে পুলিশ তরুণীর সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছে, গাড়ির চালকের নাম অমিতাভ বসু। পাঁচ দিন আগে তার সঙ্গে তরুণীর পরিচয় হয়। শনিবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ তাঁরা বেরিয়েছিলেন। রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ ওই ঘটনা ঘটে।

মহিলার স্বামী দীপ রবিবার জানান, নীলাঞ্জনা দৌড়ে গিয়ে ওই তরুণীকে ধরে তুলতে যান। ইতিমধ্যে ঐ গাড়িটি পালানোর জন্য জোর গতিতে বাঁক ঘুরিয়ে নিতে যায়। নীলাঞ্জনা সেটিকে ধাওয়া করতে গেলে তাঁকে ধাক্কা মারে গাড়িটি। পালানোর সময়ে নীলাঞ্জনার পায়ের উপর দিয়েই গাড়ি চালিয়ে দেয় চালক। আহত ওই মহিলা রাস্তায় পড়ে ছটফট করতে থাকেন।হাসপাতালে ফোন করেও কোভিডের কারণে অ্যাম্বুল্যান্স পাঠাতে রাজি হয়নি তারা। পরে ১০০ নম্বরে ডায়াল করলে কসবা ট্রাফিক পুলিশের এক সার্জেন্ট এসে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।

প্রাথমিক ভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে, জলপাইগুড়ির বাসিন্দা ওই তরুণী নয়াবাদ এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকেন। তিনি একটি বেসরকারি সংস্থায় উচ্চপদে কর্মরত। ১ সেপ্টেম্বর তাঁর সঙ্গে অমিতাভ বসু নামে ওই ব্যক্তির আলাপ হয়। তরুণী পুলিশকে জানান, শনিবার সাড়ে আটটা নাগাদ অমিতাভ গাড়ি নিয়ে এসে ফোন করলে তিনি বেরিয়ে আসেন। এবং দু’জনে মিলে গাড়িতে করে বেরোন। পরে আরও রাতে তিনি অমিতাভকে অনুরোধ করেন তাঁকে তাঁর ফ্ল্যাটের সামনে নামিয়ে দিতে। কিন্তু অমিতাভ রাজি হচ্ছিলেন না। তরুণী পুলিশকে জানান, তিনি গাড়ি থেকে নামার জন্য জোর করতে থাকেন। অভিযোগ, তখনই অমিতাভ গাড়ির মধ্যে তাঁকে যৌন হেনস্থা করে। তাঁর জামা-কাপড়ও ছিঁড়ে দেয়। কলকাতা পুলিশের এক পদস্থ কর্তা জানান, রাস্তার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে গাড়িটিকে খোঁজার চেষ্টা হচ্ছে। তরুণী এখনও আতঙ্কিত হয়ে রয়েছেন। তাঁর মাথায় ও মুখে চোট রয়েছে।

68