রাজেশ দাস

মাঝরাতে থেমে যাওয়া শিলিং ফ্যান ,
অন্ধকার জমে উঠা ঘরের কোণ ,
সাদা চাদরে কিছু রক্তের দাগ ,
আর ভিজে উঠা বালিশের দুই পাশ ।
রোজ রাত একি কাহিনী বলে যায় ।।
হঠাৎ করে কখন আসলে আলো !
এক পলকে দূর করে ঘরের অন্ধকার ,
জলন্ত সিগারেট, নিভে গেছে সব ।
তুমি অসীম, চাইলে উড়াতে পারো
এক নিঃশ্বাসে জমে উঠা ধূলো ।
কিন্তু তুমি চাইলে পেতে বৃদ্ধ ফিনিক্স
কেনো পোড়ালে না ? তাহলেপুড়তাম,
পরে থাকা ছাই থেকে জাগতাম আমি
নতুন জন্ম হত তোমায় নিয়ে ।
তুমি ভোর এনে ফিরে যেতে চাও !
তুমি মুক্ত, প্রকৃতির দেবী।
আমি ক্লান্ত, শেষ সময়ে দেখা দিলে
তবুও জ্বালালে না একেবারে ।
আমি পুড়ছি নিভে নিভে ।
তোমার নিয়তির কাছে আটকে যাওয়া
করুণ চোখের ভাষা আমি বুঝি।
তবে যা তোমার খোঁজ আর যা আমার চাওয়া
সবটা কি এক হবে এবার?
নাকি আবার ভাসবে সব নেশার ঘোরে ,
ঘর, পুরোনো ছবি সব ভিজে যাবে।
নিভে যাবে আমার বেঁচে থাকা ক্ষীণ উত্তাপ ।
ক্লান্ত আমি তখন ও ছিলাম, এখন ও আছি
তুমি শান্ত করেছ কিছুটা —
তবু পুড়াতে পারনি।
সূর্যটাকে মধ্যগগনে এনে জ্বালিয়ে দাও আমায় ।
ছাই থেকে বেঁচে উঠব আমি,
তখন আবার দেখা হবে।
তুমি তো আমার প্রকৃতি,
চিরকাল আছ নিঃশব্দে আমার সাথে
নির্লিপ্ত এক অজানা ছন্দে।

13