অনিন্দিতা মিত্র

সম্বোধনহীনেষু,

                      খোঁপা যখন ক্রমশঃ ভগ্নস্বাস্থ্যের স্থায়ী  অধিকার ছিনিয়ে নিল আর সময়ের বিদ্যুৎরেখা রূপোলী কাঠি ছড়িয়ে দিল মাথায় যত্রতত্র, তখন কোন এক দিন মায়াঘুমের ঘোর কাটলো। ঘুম আগেই ভেঙেছিল তবে ঘোর লাগা চোখকে বিপদসঙ্কুল গিরিখাতের ধারে বসে ঠ্যাং দোলানো বন্ধ করে উঠিয়ে আনতে কত যে সাধ্যসাধনা করতে হয়েছে তা লিখতে বসলে ডজন খানেক উপন্যাস তৈরি হবে। লিখছি না সেসব, উইয়েদের পেট ভরানোর দায় আমার নেই, সময়ও নষ্ট করেছি দেদার। অন্য গাছের ছাল চিনতে সাড়ে তিনটে দশক বলি দিয়ে ফেলেছি, এবার বোধহয় আমার খোলস ছাড়ার সময়, সমস্ত বাকল ঝরিয়ে ফেলার সময়। এখন আমি বোধিবৃক্ষ হবো, যা চাইবে সব দেবো, যা চাইবে না তাও। তবে কোনটাই তোমার কাজে লাগবে না, আর্বজনা না বাড়িয়ে সেসব দান করে দিও। আমার এপিটাফ লেখা ফলকটা দিয়ে দিও কোন  অভয়ারণ্যের পাঁচিল গাঁথার জন্য, আমাকে টপকাতে পারলেই হয় শৃঙ্খল নয় মুক্তি….. কোন দিকে দাঁড়িয়ে আছো সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। পথ ভুল যাতে না হয় সেই জন্য দিকনির্দেশক ফলকে লিখে রেখেছি -‘ সব সময় মুক্তির পথে হেঁটো।’ আমিও হাঁটা শুরু করেছি। তুমি হয়তো টের পাওনি কখন তোমাকে টপকে চলে গেছি, তোমার শরীরে এখন শুধু আমার উদ্বায়ী ঘ্রাণটুকু লেগে আছে, স্নানের পর ওটুকুও আর থাকবে না। বাহুল্য যতই মনকাড়া হোক একসময় তা মুছে যাবেই আর হাতে প’ড়ে থাকবে পেন্সিল পেন্সিল প্রয়োজন। আমার সব প্রয়োজন পাখিদের ডানায় চেপে কোনো সুররিয়্যালিস্টিক দেশে পাড়ি দিয়েছে, ইমিগ্রেশন পাওয়া গেছে। ওদের নিয়ে আর চিন্তা নেই, তোমাকে নিয়েও আর চিন্তা নেই…….বেলা বাড়ছে, তোমার স্নানের সময় হয়ে গেছে, রোদের তাপে নটেগাছ মুড়িয়ে গেছে অনেকক্ষণ।

                                                                    ইতি-

                      তোমার অসামঞ্জস্য রেখা।

34